চুল ঝরে মাথা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে কি? ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যবয়সে পৌঁছোনোর আগেই অঝোরে চুল পড়ছে? কয়েক দিনের সমস্যা ভেবে অনেকেই অবহেলা করে ফেলেন। কিন্তু চুল পড়া কেবল বয়সবৃদ্ধির অংশ নয়। অনেক সময়ে অল্প বয়সেও চুল পাতলা হয়ে যায় বা মাথার কিছু অংশ ফাঁকা হয়ে যায়। আর এটিই কিন্তু বড় সমস্যার সূচনা হতে পারে। চুল পড়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া রাতারাতি নয়— ধীরে ধীরে শুরু হয়। যদি প্রথম দিকেই অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা হলে হয়তো টাক পড়ার গতি কমতে পারে।
চুল ঝরে পড়ার কোন কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন? ছবি: সংগৃহীত
কোন কোন লক্ষণে বুঝবেন যে টাক পড়তে চলেছে?
১. মাথার তালুর দিকে চুল পাতলা হয়ে যায়। অল্প হলেও ফাঁকা হয়ে আসে তালু।
২. কপালে চুলের রেখা যেখান থেকে শুরু হচ্ছে, সেই অংশটি ধীরে ধীরে পিছিয়ে যেতে থাকে। তা ছাড়া, কানের পিছনেও যেখানে ছোট ছোট চুল গজায়, সেই জায়গাগুলি পাতলা হয়ে আসে।
৩. বালিশ চুলে ভর্তি হয়ে গেলে বা চুল আঁচড়ানোর পর চিরুনিতে প্রচুর চুল আটকে থাকলে।
৪. চুলের ঘনত্ব কমে যায়। ঝুঁটি ধীরে ধীরে পাতলা হয়। বা উজ্জ্বল আলো পড়লে মাথার ত্বক দৃশ্যমান হয়।
এই সব লক্ষণ শুধু সামান্য চুল পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না-ও থাকতে পারে। টাক পড়ার সূচনাও হতে পারে।
লক্ষণ নজরে এলে কী পদক্ষেপ করবেন?
চুলের যত্ন প্রয়োজন- কেশস্বাস্থ্যকে হেলা করবেন না। ইচ্ছে মতো আঁটোসাঁটো চুল বাঁধা, ইচ্ছে মতো উচ্চ তাপে স্টাইলিং করা, ধুলোময়লার জায়গায় চুল খোলা রাখা, এই সমস্ত অভ্যাস ত্যাগ করলেই চুলকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।
সুষম খাবারের দরকার- দেহে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান থাকলে চুলের গোড়া ভাল থাকে। পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন-সমৃদ্ধ খাবার, জ়িঙ্ক, বায়োটিনের চাহিদা মেটানো দরকার খাবারের মাধ্যমে।
ভাল ঘুম ও মানসিক শান্তির প্রয়োজন: মানসিক চাপ থেকে চুল পড়ার সমস্যা আজকাল ঘরে ঘরে। তাই ব্যায়াম, ধ্যান ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম মানসিক চাপ কমাতে পারে। দরকার ভাল ঘুম। এতে শরীর শান্ত থাকে। ফলে চুল পড়ার সমস্যা কমতে পারে।
মাথার ত্বক মালিশের দরকার: প্রতি দিন অল্প তেল দিয়ে মাথার ত্বকে আলতো মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং চুলের গোড়া ভাল থাকে। চুলের ফলিকল সক্রিয় থাকে।