Fix Your Damage Hair

বিয়েবাড়ি, পার্টি বা লম্বা সফরের ধাক্কায় চুল কি বেহাল? ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য কোন যত্ন জরুরি?

আনন্দ-উৎসবের ধাক্কা এসে পড়ে চুলেও। অনেক সময় যথাযথ যত্নের অভাব এবং ক্রমাগত বৈদ্যুতিক যন্ত্র দিয়ে কেশসজ্জার ফলে, বেড়াতে গেলে রোদ, ধুলো-বাড়িতে চুল নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত চুল সুন্দর করে তোলার শর্তগুলি কী?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩০
Share:

কেন সৈকত সফর বা লম্বা সফরের পর চুলের বাড়তি যত্ন জরুরি। ছবি: ফ্রিপিক।

ছুটির মরসুমে লম্বা সফর, সৈকত ভ্রমণ খুবই উপভোগ্য। তবে সমস্যার সূত্রপাত হয় ফেরার পরে। চড়া রোদে দীর্ঘ ক্ষণ থাকার ফলে ধুলো-বালি লেগে ত্বক এবং চুলের বারোটা বেজে যায়। একই রকম সমস্যা হয় পার্টির মরসুমেও। বিশেষত বিয়েবাড়ি বা পার্টিতে যাঁরা পেশাদারদের দিয়ে কেশসজ্জা করান সমস্যা হয় তাঁদের। আবার বাড়িতে চুল সোজা করার জন্য কিংবা কোঁকড়ানোর জন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করেন যাঁরা তাঁদেরও নানা সমস্যা হয়। কেশসজ্জার জন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারে চুল ভীষণ রুক্ষ হয়ে পড়ে, ডগা ফেটে যায়।তার উপর এখন কেশসজ্জায় ব্যবহার হওয়া চুলের স্প্রে-ও চুলের ক্ষতি করে।

Advertisement

ক্ষতিগ্রস্ত চুলকে সুস্থ করে না তুলে নতুন কোনও কেশসজ্জায় তা ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা কিন্তু বোকামি।বরং এই পর্যায়ে দেখা দরকার, কী ভাবে চুল সুন্দর এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তোলা যায়।

নিয়মিত যত্ন: উপযোগী শ্যাম্পু দিয়ে নিয়ম করে চুল পরিষ্কার করতে হবে। হালকা তেল মাসাজ় চুলের ক্ষতি ধীরে ধীরে কমাতে পারে। অনেকেরই চুল প্রচণ্ড রুক্ষ হয়ে ডগা ফেটে যায়। চুল রং করা, চুল স্থায়ী ভাবে সোজা করার ফলেও চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাল হয়, যদি ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি একবার ছেঁটে ফেলা যায়।

Advertisement

মাথার ত্বকের ডিটক্স: চুল ভাল রাখতে মাথার ত্বকে নজর দেওয়া জরুরি। বিয়েবাড়ি হোক বা সফর—ঘন ঘন ড্রাই শ্যাম্পুর ব্যবহার, রাসায়নিক স্প্রে দেওয়ার ফলে মাথার ত্বকে রাসায়নিকের পরত পড়ে যায়। সেই কারণে মাথার ত্বক খুব ভাল করে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ব্যবহার করতে পারেন স্ক্যাল্প মাসাজ়ার। শ্যাম্পু করার সময় এটি দিয়ে মাথার ত্বক মাসাজ করা যায়। এতে থাকা নরম দাঁড়া মাথার ত্বকের মৃত কোষ পরিষ্কারে সাহায্য করে।রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়।

ভিতর থেকে যত্ন: শুধু শ্যাম্পু করা বা তেল মাখাই যথেষ্ট নয়, ক্ষতিগ্রস্ত চুল বাঁচাতে হলে সঠিক পুষ্টি প্রয়োজন। মাছ, মাংস, ডিম, সব্জি, ফল—খাবারের তালিকায় থাকলে পুষ্টির অভাব হবে না। চুলের বেড়ে ওঠার জন্য বায়োটিন, কেরাটিন-সহ যে যে ভিটামিন-খনিজের দরকার তা খাবার থেকেই মিলবে। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টযুক্ত খাবার এই সময় ক্ষতিগ্রস্ত চুল পুনরুজ্জীবিত করতে খুব জরুরি।

রাতভর যত্ন: নিয়ম করে চুল ধোয়া, মাথার ত্বক পরিষ্কার করা যথেষ্ট নয়। চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখাও জরুরি। রাতে চুলে মাখার জন্য, বাড়তি আর্দ্রতা জোগানোর জন্য নানা ধরনের প্রসাধনী এবং স্প্রে মেলে। সেগুলির কোনওটি ব্যবহার করতে পারেন। চুলের যত্নে খুব জরুরি হল, সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার করা। এতে চুলে ঘষা লাগে কম, ফলে চুল ঝরে যায় না। তা ছাড়া, রাতে স্নান করলেও, চুল শুকিয়ে তার পরেই শোয়া উচিত। ভিজে চুল ঝরার ঝুঁকি বেশি থাকে।

ছাঁট: চুলের ডগা ফাটতে শুরু করলে সঠিক কৌশলে তা ছেঁটে ফেলা জরুরি। চুলের খারাপ অংশ বাদ চলে গেলে বাকি চুল আরও ভাল ভাবে পুষ্টি পাবে। পরে যখন চুল বাড়বে, রুক্ষ অংশগুলি থাকবে না। ডগা ফাটার সমস্যা থাকলে ২-৩ মাস অন্তর ট্রিমিং করতে পারেন।

চিকিৎসা: বড় সালোঁগুলিতে চুলের সমস্যা বুঝে নানা ধরনের ট্রিটমেন্ট হয়। কখনও শুধু স্পাতে কাজ হয়। কখনও কেরাটিন ট্রিটমেন্ট বা অন্য পরিষেবার দরকার হয়। তবে সালোঁয় না গিয়ে ত্বকের রোগের চিকিৎসকের কাছেও যেতে পারেন। তাঁরাও চুলের সমস্যা বুঝে জরুরি পরামর্শ দেবেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement