Best Look of Last Week

ভারী নকশার পোশাকেও কর্মক্ষেত্রে যাওয়া যায়! জমকালো নকশা এড়াতে চাওয়ার যুগে শেখালেন কঙ্গনা-কর্ণ!

প্রতি দিনই বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকারা কী সাজছেন, কেমন পোশাক পরছেন, কেমন স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করছেন, সে সবে নজরে থাকে আনন্দবাজার ডট কমের। তবে এ বার তার মধ্যে থেকে প্রতি সপ্তাহের বিশেষ কিছু সাজ তুলে আনা হচ্ছে পাঠকদের দেখার জন্য।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ১৩:২৯
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইদানীং ফ্যাশনের দুনিয়ায় একটি কথা প্রায়ই শোনা যাচ্ছে, ‘ওল্ড মানি’। অর্থাৎ সহজ ভাবে বললে বনেদি। যাঁরা পারিবারিক ভাবে বা পরম্পরাগত ভাবে স্বচ্ছল, তাঁদের রুচি আলাদা এবং উচ্চমানের বোঝাতেই এই শব্দবন্ধটির প্রয়োগ করা হচ্ছে। উল্টো দিকে, যাঁরা তা নন, তাঁদের পোশাকের পছন্দ কিছুটা ‘চড়া দাগের’ বলেও দেখানো হচ্ছে। কিন্তু ‘চড়া দাগের ফ্যাশন’ বলতে ঠিক কী বোঝায়?

Advertisement

অনেকের কাছেই পোশাকে জমকালো নকশা, অতিরিক্ত রং এবং কারুকাজের বাহুল্য মানে, তা চড়া দাগের সাজ। সেই ভাবনা মনে পোষণ করেন বলেই ভারী নকশার পোশাক নিয়ে এক ধরনের বাধো বাধো ভাব কাজ করে মনে। অনেকেই ভাবেন, বেশি জমকালো নকশার পোশাক পরলে তা হয়তো স্মার্ট দেখাবে না!

ফলে কোনও পার্টিতে যাওয়ার আগে পোশাক বাছতে বসে ভারী সুতোর কাজ করা পাঞ্জাবিতে চোখ পড়লে মনে হয়, ‘এ সব পরে কি এমন অনুষ্ঠানে যাওয়া যায়!’ কিংবা অফিস যাওয়ার আগে শাড়ি বাছতে বসে সুতির শাড়িতে জরির পাড়, সুতোর নকশা দেখে ভাবেন, এগুলো কাউকে দিয়ে দিতে হবে। এত জমকালো কাজের শাড়ি আজকাল আর কেউ পরে না। সেই ধারণা যে কত খানি ভুল তার প্রমাণ দিলেন কঙ্গনা রনৌত আর কর্ণ জোহর।

Advertisement

এ সপ্তাহের সেরা সাজ হিসাবে তাঁদের দু’জনকেই বেছে নিয়েছে আনন্দবাজার ডট কম।ভারী নকশার জমকালো পোশাক পরে দুজনেই দেখিয়ে দিয়েছেন পোশাক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে ‘লেস ইস মোর’ দর্শন অনেকেই অন্ধ ভাবে মেনে চলেন, তা আদতে অর্থহীন। নকশা কারুকাজের বাহুল্যকেও পুরোদস্তুর স্মার্ট বানানো যায় সাজতে জানলে।

কঙ্গনা রনৌত

সংসদ ভবনের চত্বরে কঙ্গনাকে ক’দিন আগেই দেখা গেল একটি ঠাসা রঙিন সুতোর নকশা করা সাদা অসম সিল্ক পরে। নীল সুতোর কারুকাজ করা চওড়া পাড়, তাতে হলুদ-গোলাপি-রুপোলি সুতোর নকশা আঁকা। শাড়ির জমি সাদা হলেও তাতে ভর্তি রঙিন সুতোর বুটি। সঙ্গে একটি লম্বা হাতার বন্ধগলা নীল সিল্কের ব্লাউজ় পরেছেন। তাতেও শাড়ির মতোই জমকালো কাজ। যে কোনও দিন যে কোনও প্রথাগত বিয়ের আসরে জমজমাট সাজের অঙ্গ হতে পারত এই শাড়ি-ব্লাউজ়। কিন্তু নায়িকা-সাংসদ তাকে দিব্যি অফিসওয়্যার বানিয়ে ফেললেন। জুতো, চশমা, ব্যাগ, চুলের স্টাইল, গয়না সব কিছু বেছে নিলেন সেই মতো। সব মিলিয়ে এক জোরাল ‘কর্পোরেট’ সাজের ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল।

কর্ণ জোহর

চিরকালই জমকালো ফ্যাশনের অনুরাগী কর্ণ জোহর। নানা ধরনের কারুকাজ করা শেরওয়ানি, বন্ধগলা স্যুট, ব্লেজ়ার বা কুর্তা তো পরেনই। তার সঙ্গে পরেন মানানসই ভারী গয়না, ব্রোচ, আংটি ইত্যাদিও। অদ্ভুত ব্যাপার হল এখানেও তিনি ভারী কাজ করা পোশাক পরেছেন। হাতে পরেছেন স্টেটমেন্ট হিরে-পান্নার আংটি। অথচ সাজটি ততটাও জমকালো লাগছে না। বরং বেশ স্মার্ট দেখাচ্ছে। অথচ কর্ণের পেস্তা রঙা বন্ধগলা লম্বা ঝুলের কোটে বেজ রঙের ভারী সুতোর নকশা করা রয়েছে। সেই নকশা বলিউডের তারকা পরিচালক প্রযোজক ব্যালান্স করেছেন, পরিচ্ছন্ন চুলের স্টাইল, বড় ফ্রেমের চশমা আর ন্যুড মেকআপ দিয়ে। তাতে জমকালো পোশাকটিও হয়ে উঠেছে অত্যন্ত স্মার্ট।

কী শেখা গেল?

১. পোশাক যদি ভারী কাজ করা হয়, তবে তাতে গাম্ভীর্য আনতে গয়না বা অন্যান্য অনুষঙ্গ বুঝে বাছতে হবে। এক্ষেত্রে কঙ্গনার সানগ্লাস বা কর্ণের বড় ফ্রেমের চশমা পুরো সাজের গাম্ভীর্য বদলে দিয়েছে।

২. ভারী কাজও চোখে সে ভাবে পড়বে না যদি গাঢ় রঙের বদলে প্যাস্টেল বা নিউট্রাল শেডের পোশাকে একই ধরনের রঙের নকশা থাকে।

৩. জমকালো পোশাকের সঙ্গে চড়া মেকআপ নয়, বরং ‘নো-মেকআপ লুক’ রাখলে আরও আভিজাত্য ফুটে উঠবে।

৪. জমকালো কাজের পোশাক বাছলে জুতো, ব্যাগ, গয়নার দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। কঙ্গনা যেমন একটি চামড়ার লোফার পরেছেন আর হাতে নিয়েছেন পুরোদস্তুর কর্পোরেট লুকের ব্যাগ। কর্ণ একরঙা পাজামা আর জুতো বেছে নিয়েছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement