হরমুজ় প্রণালীতে আটকে থাকা জাহাজগুলি নিরাপদে পার করাতে নতুন অভিযানের ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।
আটকে থাকা জাহাজগুলিকে নিরাপদে হরমুজ় প্রণালী পার করার দায়িত্ব আমেরিকার! এমনই জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন এক অভিযানের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। নাম ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ (স্বাধীনতা অভিযান)।
নিজের ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘একাধিক দেশ, যাদের বেশির ভাগই চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি যুক্ত নয়, তা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল করিডরে তাদের আটকে থাকে জাহাজগুলি মুক্ত করতে আমেরিকার সহায়তা চেয়েছে।’ ওই জাহাজগুলি এবং তাদের নাবিকদের ‘নিরপেক্ষ এবং নিরীহ দর্শক’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ওই জাহাজগুলি যাতে ‘স্বাধীন ভাবে এবং দক্ষতার সঙ্গে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে’, তা নিশ্চিত করতে আমেরিকা তাদেরকে হরমুজ়ের জলসীমা থেকে বার করে আনবে। সোমবার সকাল (পশ্চিম এশিয়ার সময়) থেকে এই অভিযান শুরু হবে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের মতে, এই পদক্ষেপ মানবিক প্রচেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, ওই জাহাজগুলিতে থাকা বিশাল সংখ্যক নাবিকদের জন্য নিরাপদ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং অত্যাবশ্যকীয় সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সেই ঘাটতি মেটানোই আমেরিকার অন্যতম উদ্দেশ্য। ইরান-সহ পশ্চিম এশিয়ার অন্য দেশগুলির ‘উপকারের’ জন্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘আমি আমার প্রতিনিধিদের জানিয়ে দিতে বলেছি যে, আমরা ওই জাহাজগুলি এবং তার নাবিকদের নিরাপদে হরমুজ় প্রণালী থেকে বার করে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’ তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন কর্তাদের সঙ্গে ইরানের আলোচনা ‘ইতিবাচক’ পথেই এগোবে। তবে তাঁর সতর্কতা, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এ যদি কেউ কোনও হস্তক্ষেপ করে, তা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। দীর্ঘ দিন দু’পক্ষের সংঘাত হয়েছে। হরমুজ় প্রণালীতে বাধা পেয়েছে পণ্য চলাচল। তাতে বিশ্বের বাজারে জ্বালানি সঙ্কট ক্রমে তীব্র হয়েছে। অনেক দেশের জাহাজই আটকে রয়েছে হরমুজ়ে।