ছবি : সংগৃহীত।
এক মাস আগে যা ছিল, এক মাস পরেও তা-ই। চুল হয়তো ঘাড় পর্যন্ত ছেঁটে ফেলেছিলেন। দেখা গেল সেই দৈর্ঘ্য এক মাসে ‘এক চুল’-ও বাড়েনি। এমনকি, ৩-৪ মাস অপেক্ষা করেও অবস্থার হেরফের হল না। মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। চুলের বৃদ্ধি এমন থমকে যাওয়া বেশ হতাশাজনক হতে পারে। তবে সমাধান রয়েছে আপনারই হাতে। তবে তার আগে জানা দরকার চুলের বৃদ্ধি কোন পরিস্থিতিতে থমকে যেতে পারে।
চুলের বৃদ্ধি থমকায় কিসে?
পুষ্টির অভাব: শরীর যদি পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, বায়োটিন বা জিংক না পায়, তবে নতুন চুল কম গজায়। চুল বাড়েও ধীরে।
বয়স এবং জিন: অনেকের চুল জিনগত কারণে নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের পর বাড়তে চায় না। আবার বয়স বাড়লেও চুলের বৃদ্ধির হার কমে যায়।
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: থাইরয়েড সমস্যা বা পিসিওএস-এর মতো হরমোনজনিত কারণে চুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।
মানসিক চাপ: অতিরিক্ত স্ট্রেস চুলকে টেলোজেন ফেজ়-এ পাঠিয়ে দেয়। একে চুলের বিশ্রাম পর্যায় বলা চলে। এমন হলে চুল পড়া বাড়ে এবং বৃদ্ধিও কমে যায়।
জীবনযাপনে যা বদল আনা জরুরি
১. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
চুল মূলত কেরাটিন নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখুন। ডিম ও মাছ খান নিয়মিত। এতে চুলের জন্য প্রয়োজনীয় বায়োটিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যাবে। আয়রন বেশি আছে এমন শাকসবজি এবং রঙিন ফলমূল রোজ খাওয়ার চেষ্টা করুন। কাঠবাদাম, আথরোট এবং তিসির বীজ খেলে তা চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
২. সঠিক যত্ন
নিয়মিত ট্রিম করলে চুল দ্রুত বাড়ে। প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর চুলের ডগা সামান্য ছেঁটে ফেলুন। এতে ডগা ফাটার সমস্যা কমবে। চুল রুক্ষ হয়ে গিয়ে মাঝখান থেকে ভেঙে যাওয়ার সমস্যাও দূর হয়। এ ছাড়া নিয়মিত মাথার ত্বকে মাসাজ করলেও চুলের বৃদ্ধি হয়। প্রতি দিন ঘুমোতে যাওয়ার আগে আঙুলের ডগা দিয়ে ৫-১০ মিনিট মাথায় আলতো করে মাসাজ করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা চুলের ফলিকলকে উদ্দীপিত করে।
৩. রাসায়নিক থেকে দূরে থাকুন
সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেটনার বা কার্লার ব্যবহার করা বন্ধ করুন। বেশি তাপে চুলের প্রোটিনবন্ড নষ্ট হয়ে যায়।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম ও জল পান
শরীরের কোষ পুনর্গঠনের জন্য দিনে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য। পাশাপাশি প্রচুর জলও পান করুন যাতে চুলের আর্দ্রতা বজায় থাকে।