ছবি: সংগৃহীত।
গাছ বসানো হয়েছে। অথচ টম্যাটো, ক্যাপসিকামের মতো চেনা গাছই মাটি থেকে উপরের দিকে না উঠে, নামছে নীচের দিকে। ফলমূল নেমে আসছে হাতের কাছে।এ কি বড় কষ্টকল্প মনে হচ্ছে, না কি ভাবতে মজা লাগছে?
এমন ভাবনাই সত্যি হতে পারে আপনার বাড়িতেও। বাগান তৈরির এই নয়া ধারা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। যেখানে টব থাকবে উপরে, গাছ নেমে আসবে নীচের দিকে। তবে একে হ্যাঙ্গিং বা ঝুলন্ত বাগানের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে হবে না, যেখানে টব ঝুলিয়ে তার উপর গাছ বড় করা হয়। এ ক্ষেত্রে লতানে গাছগুলি নীচে নেমে আসে ঠিকই, কিন্তু টম্যাটো, ক্যাপসিকাম মোটেই লতানে গাছ নয়।
কী ভাবে এই বাগান তৈরি করা যায়, এর উদ্দেশ্যই বা কী
উল্টো দিকে গাছ লাগানো হল একটি আধুনিক ও সৃজনশীল বাগান করার পদ্ধতি। এতে গাছকে মাটির উপরে না রেখে, ঝুলন্ত টব বা বালতির নিচের ছিদ্র দিয়ে বাইরের দিকে বের করে দেওয়া হয়। বাড়িতে স্থানাভাব থাকলে এটি হল বাগান করার আদর্শ উপায়।
এটি কীভাবে কাজ করে?
একটি বালতি বা টবের নীচে ছিদ্র করে সেখান দিয়ে গাছের চারা ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এবং পাত্রটি মাটি দিয়ে পূর্ণ করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। টবের উপরের অংশে মাটিতে জল এবং সার দেওয়া হয়। ফলে গাছের পুষ্টি বা জল পেতে অসুবিধা হয় না। গাছ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে নীচের দিকে নেমে আসে।
কাদের জন্য সুবিধাজনক
যাঁদের বাড়িতে বাগান করার মতো জায়গা নেই বা শুধু বারান্দা আছে, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ। বিষয়টি বেশ মজারও। গাছ হচ্ছে, ফল হাতের কাছে নেমে আসছে।
কোন কোন গাছ এই পদ্ধতিতে ভালো হয়?
সব গাছ এই পদ্ধতিতে হয় না। সাধারণত লতা জাতীয় বা ছোট ঝোপালো গাছগুলো ভালো হয়।
টম্যাটো: এই পদ্ধতির জন্য সেরা হল টম্যাটো গাছ।
লঙ্কা ও ক্যাপসিকাম: এটিও খুব সহজেই হয়।
বেগুন: ছোট জাতের বেগুন গাছ লাগানো যেতে পারে।
শসা ও বিন: লতা জাতীয় সব্জিগুলো ভালো হয়।
ভেষজ গাছ: পুদিনা বা ধনেপাতাও এই পদ্ধতিতে লাগানো যায়