সদ্যোজাতের ঘরটি কী ভাবে সাজিয়ে তুলেছেন রাঘব এবং পরিণীতি? ছবি: সংগৃহীত।
ব্যক্তিগত পরিসরকে আড়ালে রাখার পক্ষপাতী বলিউড নায়িকা পরিণীতি চোপড়া। অন্দরমহল হোক বা গাড়ির ভিতর, কোনও ব্যক্তিগত পরিসরের ঝলক প্রকাশ করতে চান না তিনি। কিন্তু এই প্রথম বার তাঁদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘরের দরজা খুলে দিলেন। সেই ঘর কী ভাবে বানানো হয়েছে, অন্দরসজ্জার নেপথ্যে কী কী ভাবনা ছিল, তাঁদের কাছে এই ঘরটি কতখানি গুরুত্বপূর্ণ, সমস্ত কথাই ভাগ করে নিলেন অনুরাগীদের সঙ্গে।
অধিকাংশ বাড়িতেই এমন একটি ঘর বা কোণ থাকে, যা পরিবারের সদস্যদের অনুভূতির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। তা সে বাগান হোক বা ছাদ, নিজের একান্ত ঘর হোক বা পড়ার ঘর। শান্ত কোনও জায়গায় পরিবারের লোকজন আশ্রয় খুঁজে নিতে চান। এক এক সদস্যের কাছে তা এক এক রকমের হতে পারে। আবার পরিণীতি চোপড়া ও তাঁর স্বামী রাঘব চড্ঢার মতো একই জায়গা দু’জনের প্রিয় হতে পারে। ঠিক সেই অংশের দিকেই এ বার ক্যামেরা তাক করলেন নায়িকা। সদ্যোজাত পুত্রসন্তান নীরের জন্য বানানো নার্সারির অন্দরসজ্জা তুলে ধরলেন নিজের ইউটিউব চ্যানেলের ভ্লগে। নায়িকার কথায় জানা গেল, এই ঘরটিই তাঁদের মনে সবচেয়ে বিশেষ জায়গা করে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এ যেন এক ধরনের শান্তির আশ্রয়।
নীরের জন্য ঘর সাজাতে ব্যস্ত পরিণীতি। ছবি: সংগৃহীত।
পরিণীতি বলেছেন, নীরের পক্ষে এখনই এই ঘরের অন্দরসজ্জার নান্দনিকতা বোঝা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু নতুন মা হিসেবে দিনের ৯৯ শতাংশ সময় পরিণীতি এই ঘরেই কাটান। তাই বলা যেতে পারে, নিজেদের জন্যই এই ঘর বানিয়েছেন আপাতত।
এ এক ছোট্ট জগৎ। এখানে প্রতিটা কোণ তৈরি হয়েছে ভালবাসা আর যত্ন দিয়ে। এই ঘর বানানোর সময় তাঁরা খুব মন দিয়ে প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়ে নজর দিয়েছেন। মেঝে থেকে দেওয়াল, আসবাবের রং থেকে টেক্সচার, কার্পেট থেকে খেলনার রং— আপাদমস্তক ভেবেচিন্তে তৈরি হয়েছে। আসলে জেন বৌদ্ধধর্মের শান্ত আমেজ সেই ঘরে আনতে চেয়েছিলেন তাঁরা।
শিশুর ঘরটি সাজানো হয়েছে খুব নরম ও শান্ত রঙে। চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার মতো ঝলমলে কোনও রং বেছে নেননি দম্পতি। গোটা ঘরের ইট, কাঠ, পাথর ছাড়া জিনিসপত্রেও সেই রঙের প্যালেট ব্যবহার করা হয়েছে। শিশুর ঘুম, আরাম আর নিরাপত্তাই এখানে প্রাধান্য পাচ্ছে।
তারকাসন্তানের ঘরে লম্বা, সাদা, স্বচ্ছ পর্দা টাঙানো হয়েছে, যাতে জানলা দিয়ে আলো-হাওয়া প্রবেশ করতে পারে। জানলার নীচে প্যানেলিং বসানো হয়েছে, যাতে রয়েছে ব্রিটিশ সংস্কৃতির ছোঁয়া। ঘরে যে গালিচা পাতা হয়েছে, সেটি পারসিক সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত। শিশুসুলভ রংবেরঙের গালিচা রাখতে চাননি পরিণীতি। বরং চোখে আরাম দেয়, এমন নকশা এবং রঙের কার্পেটই বেছে নেওয়া হয়েছে।
বেবি কটের উপরে বিছানো চাদর থেকে শুরু করে উপর থেকে ঝোলানো খেলনাগুলিও বানানো হয়েছে বিশেষ ভাবনায়। সবের উপরে রয়েছে ডোরাকাটা বা পোলকা ডটের কাজ। সেই রংগুলিও বেশ হালকা। দেওয়াল জুড়ে ভিন্টেজ গাড়ির ছবি ফ্রেম করে টাঙানো রয়েছে। বেত দিয়ে বানানো আলমারিতে একরত্তির পোশাক গুছিয়ে রাখেন পরিণীতি। বেতের কাজ করা আলমারির ধারগুলি আর্চ হিসেবে তৈরি হয়েছে।
দেওয়ালে হালকা রঙের কাজ, মেঝেতে নরম রঙের কার্পেট, ঘর জুড়ে নরম আলো, অন্দরসজ্জার জন্য বাহুল্যবর্জিত জিনিস, খেলনা ও শিশুর প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রীতেও রাখা হয়েছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। সব মিলিয়ে এমন ঘর এক শিশুর বেড়ে ওঠা এবং তার মায়ের মানসিক শান্তির জন্যই যেন তৈরি।