রাঙাআলু খাঁটি না রং মেশানো, বুঝবেন কী উপায়ে? ছবি: ফ্রিপিক।
রাঙাআলু হেঁশেলের খুব পরিচিত সব্জি নয়। বিশেষ কিছু রান্নাতেই এটি লাগে। কিন্তু ইদানীং নানা রকম ডায়েট করার যে ঝোঁক তৈরি হয়েছে, তাতে দিব্যি জায়গা করে নিয়েছে এই সব্জিটি। ‘নো কার্ব’ ডায়েটে যেখানে আলু একেবারেই ব্রাত্য, সেখানে কিন্তু গুণের বিচারে ঠাঁই পেয়েছে রাঙাআলু। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) এতটাই কম যে, এর থেকে তৈরি হওয়া গ্লুকোজ় দ্রুত রক্তে মিশে যেতে পারে। তাই রক্তে বাড়তি শর্করা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। তা ছাড়া ভিটামিন ও নানা খনিজ সমৃদ্ধ সব্জিটি শরীরের জন্যও বেশ পুষ্টিকর। তাই এখন রাঙাআলু বাঙালি হেঁশেলেও জায়গা করে নিয়েছে। আর তার সঙ্গেই শুরু হয়েছে একটি সমস্যা। অসাধু ব্যবসায়ীরা রং মিশিয়ে বিক্রি করছেন এই সব্জিটি। তাই বাজার থেকে কেনা রাঙাআলু খাঁটি কি না, তা যাচাই করে নেওয়াই ভাল।
সব্জি টাটকা দেখাতে তার সঙ্গে যথেচ্ছ ভাবে মেশানো হচ্ছে কৃত্রিম রং। এমনটাই জানিয়েছে খাদ্যের গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (এফএসএসএআই)। দীর্ঘ দিন হিমঘরে রাখা বা পচন ধরেছে, এমন সব্জি তাজা দেখাতে প্রায়শই কৃত্রিম রঙের ব্যবহার করা হয়। এফএসএসএআই আরও জানাচ্ছে, শীতের নানা সব্জিতে এমন রং মেশানো হচ্ছে। রাঙাআলুর মতো রঙিন সব্জি আরও তরতাজা দেখাতে তাতে ‘রোডামাইন বি’ নামে এক ধরনের কৃত্রিম রং মেশানো হয়। এই রং কলকারখানায় ব্যবহৃত হয়, যা শরীরের জন্য বিপজ্জনক। এই রঙে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকে। সব্জির রং উজ্জ্বল দেখাতে ও দীর্ঘ সময় টাটকা রাখতে এই রাসায়নিকটি ব্যবহার করা হয়। এটি শরীরে ঢুকলে হার্ট ও কিডনিরও ক্ষতি হতে পারে।
রাঙাআলু খাঁটি কি না বুঝবেন কী উপায়ে?
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ
১) রাঙাআলুর রং যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লাল বা গোলাপি দেখেন এবং সব ক’টি আলুর রং একই রকম উজ্জ্বল হয়, তা হলে বুঝতে হবে, তাতে রোডামাইন-বি মেশানো আছে। রাঙাআলুর প্রাকৃতিক রং একটু ফ্যাকাশে হয়, তাতে মেটে রঙের ছোপ থাকে।
২) শুকনো অবস্থায় রাঙাআলু হাতে নিয়ে ঘষুন। যদি হাতে লালচে বা গোলাপি রং লেগে যায়, তা হলে বুঝতে হবে এতে কৃত্রিম রং মেশানো হয়েছে।
৩) আলু কেটে দেখুন, যদি ভিতরেও দেখেন লাল রং ঢুকে গিয়েছে, তবে সতর্ক হতে হবে। সাধারণত রাঙাআলু কাটলে ভিতরের রং সাদা বা হালকা হলদেটে হয়।
সহজ কিছু পরীক্ষা
১) তুলো নিয়ে সামান্য জল বা তেলে ভিজিয়ে নিন। এই ভেজা তুলো রাঙাআলুর উপরের লাল অংশে জোরে ঘষুন। যদি তুলোতে লাল বা গোলাপি রং লেগে যায়, তা হলে বুঝতে হবে, সেটিতে কৃত্রিম রং মেশানো হয়েছে।
২) একটি পাত্রে জল নিয়ে তাতে একটি রাঙাআলু ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। যদি দেখেন, জল লালচে বা গোলাপি হয়ে যাচ্ছে, তবে সেই আলু খাবেন না।
৩) আলুটিকে দুই টুকরো করে কাটুন। যদি আলুর খোসা থেকে রং চুঁইয়ে ভিতরে ঢুকে যায়, তা হলে বুঝতে হবে সেটি রঙে ডোবানো হয়েছে। এই রং মেশানো আলু খেলে লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
৪) রাঙাআলু ছোট টুকরো করে কেটে সেদ্ধ হতে দিন। কিন্তু রং বা রাসায়নিক মেশানো আলু সহজে সেদ্ধ হবে না। জলে ফোটানোর সময় তার থেকে খারাপ গন্ধও বার হবে।