জ্বর থেকে উঠে কী খেলে শরীর দ্রুত সারবে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
শীতের শেষ ও বসন্তের আগমনীর সন্ধিক্ষণে ফের একবার ভাইরাল জ্বর মাথাচাড়া দিয়েছে। ঘরে ঘরে সর্দি, শুকনো কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো লক্ষণও দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকেরা সাবধান করে জানিয়েছেন, এই সময়টাতে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। অ্যাডেনোভাইরাসের দাপটে ভাইরাল জ্বরও হচ্ছে। শিশু ও বয়স্কেরা ভুগছেন বেশি। জ্বর থেকে উঠেও রেহাই নেই। দুর্বলতা কাটতে অনেকটা সময় লেগে যাচ্ছে। সেই সঙ্গেই খিদে কমছে, মুখে অরুচিও হচ্ছে। এ দিকে চটপট সেরে উঠতে গেলে ভাল-মন্দ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু মুখে যদি স্বাদই না থাকে, তা হলে খাবেনই বা কী? দুর্বলতা কাটিয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে গেলে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। শরীরে জলের ঘাটতি যেন না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখতে হয়। তাই এই সময়ে কেমন ভাবে খাওয়াদাওয়া করা জরুরি, তা জেনে রাখা ভাল।
পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তীর মতে, জ্বর থেকে উঠে খাওয়ায় রুচি থাকে না। তাই প্রথমে তরল খাবার দিয়ে শুরু করতে হবে। ধীরে ধীরে খাওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। এমন খাবার খেতে হবে যাতে প্রোটিনের ভাগ বেশি থাকে। আবার কার্বোহাইড্রেট বাদ দিলে চলবে না। অতিরিক্ত তেল বা মশলা খাওয়া যাবে না, চিনিও কম খেতে হবে। কেমন ভাবে খেলে উপকার হবে, জেনে নেওয়া যাক।
ঘরে তৈরি প্রোটিন শেক
শুরুটা প্রোটিন শেক দিয়ে করাই ভাল। যে কোনও অসুস্থতা থেকে ওঠার পরে শরীর দুর্বল থাকে। এই সময়ে ঘরে তৈরি প্রোটিন শেক খেলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। এটি এনার্জি ড্রিঙ্কের মতোও কাজ করবে। আবার শরীর থেকে টক্সিনও দূর করবে। কী ভাবে বানাবেন?
১) ১ কাপ ভ্যানিলা প্রোটিন পাউডার, অর্ধেকটা কলা, ১ চা চামচ পিনাট বাটারের সঙ্গে ১ কাপ জল মিশিয়ে নিন। মিক্সারে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে লো-ক্যালোরি প্রোটিন শেক। লিভারের সমস্যা থাকলে এই প্রোটিন শেক ভাল কাজ করবে।
২) ১ চা-চামচ প্রোটিন পাউডার, ১ কাপ পালং শাক কুচোনো, অর্ধেকটা সবুজ আপেল, ১ চা-চামচ চিয়া বীজ ও ১ কাপ ডাবের জল নিতে হবে। সমস্ত উপকরণ মিক্সারে ভাল করে পিষে নিয়ে মিহি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। এর পর তা গ্লাসে ঢেলে পুদিনা পাতা ছড়িয়ে খেতে পারেন। সকালে জলখাবারের সঙ্গে বা বিকেলে এই পানীয় খেলে শরীরে শক্তি হবে।
মুসুর ডালের স্যুপ
প্রোটিনের জন্য এই স্যুপ খুবই উপকারী। বাড়ির বয়স্কদের ও ছোটদের খাওয়াতে পারেন। প্রথমে মুসুর ডাল ভাল করে ধুয়ে নিয়ে একটি পাত্রে ভিজিয়ে রাখুন। পছন্দ মতো সব্জি ছোট ছোট করে কেটে নিন। এ বার প্রেশার কুকারে সামান্য ঘি দিয়ে তার মধ্যে পেঁয়াজ, আদা, টম্যাটো, কেটে রাখা সব্জি এবং ভেজানো ডাল এক সঙ্গে সেদ্ধ করতে দিন। সঙ্গে নুন এবং গোলমরিচ দিতে ভুলবেন না। প্রেশার কুকারে দুটো সিটি উঠলেই নামিয়ে ফেলুন। ছেঁকে নিয়ে উপর থেকে গোলমরিচ গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে স্যুপ।
লেবু-ধনেপাতার চিকেন স্ট্যু
মুরগির মাংস ছোট টুকরো করে কেটে নিন। সব্জির মধ্যে পেঁপে, গাজর, বিন, ক্যাপসিকাম নিতে হবে। সঙ্গে লাগবে রসুন কুচি, প্রচুর পরিমাণে ধনেপাতা কুচি, লেবুর রস ও গোলমরিচের গুঁড়ো। কড়াইতে সামান্য মাখন বা অলিভ অয়েল দিয়ে রসুন কুচি হালকা ভেজে নিন। মাংসের টুকরো ও সব্জি দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। এর পর জল দিন। মাংস সেদ্ধ হয়ে এলে নামানোর ঠিক আগে প্রচুর ধনেপাতা কুচি এবং ২ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে দিন। লেবুর টক ভাব এবং ধনেপাতার সুগন্ধ মুখের অরুচি দ্রুত দূর করবে।
ওট্স-সব্জির খিচুড়ি
আধ কাপ ওট্স শুকনো খোলায় ভেজে নিন। আধ কাপের মতোই মুগ ডাল একই ভাবে ভেজে নিন। প্রথমে কড়াইতে সামান্য ঘি বা তেল দিয়ে আদা ও জিরে ফোড়ন দিন। এ বার ছোট টুকরো করে কাটা পেঁপে, গাজর, বিন দিয়ে হালকা নাড়াচাড়া করে ভেজে রাখা ডাল ও ওট্স দিয়ে দিন। পরিমাণ মতো জল ও নুন দিয়ে প্রেসার কুকারে ২-৩টি সিটি দিন। নামানোর আগে সামান্য ধনেপাতা কুচি দিলে সুন্দর গন্ধ হবে যা রুচি ফেরাবে।