Roti Making Mistakes

তাওয়ায় কত বার উল্টোন রুটি? ৫ ভুলে শক্ত হয়ে যাচ্ছে কি আটার লেচি? রইল বানানোর সঠিক পন্থা

কখনও মোটা হয়ে যায়, কখনও বা বেশি পাতলা। কোনও দিন পুড়ে গিয়ে শক্ত হয়ে যায়, কোনও দিন আবার ভাল করে সেঁকাই হয় না। নানাবিধ ভুলের কারণেই রুটি অনেকের পছন্দের তালিকায় স্থান পায় না।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪০
Share:

রুটি বানানোর সময়ে কী কী ভুল হতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।

রোজের খাবার। দিনে-রাতে আপনার ভরসা। পেট ভরানো থেকে শরীর সুস্থ রাখার হাতিয়ার। কিন্তু সেই রুটি বানানোর কায়দাতেই যদি ভুল থেকে যায়, তা হলে খাবার খাওয়ায় আর তৃপ্তি থাকে না। কখনও মোটা হয়ে যায়, কখনও বা বেশি পাতলা। কোনও দিন পুড়ে গিয়ে শক্ত হয়ে যায়, কোনও দিন আবার ভাল করে সেঁকাই হয় না। নানাবিধ ভুলের কারণেই রুটি অনেকের পছন্দের তালিকায় স্থান পায় না। নয়তো আটার ওই মণ্ডই বড় সুস্বাদু হয়ে উঠতে পারে।

Advertisement

নরম, তুলতুলে, ফোলানো রুটি বানানোর জন্য ৫টি ভুল এড়িয়ে চলুন—

১. সব রকমের গমের আটা থেকেই যে একই রকমের রুটি তৈরি হবে, তা নয়। ভাল রুটির জন্য এমন আটার প্রয়োজন, যা আস্ত গম গুঁড়ো করে মিহি করা হয়েছে, যার মধ্যে মাঝারি পরিমাণে প্রোটিন থাকবে এবং টাটকা সুগন্ধ থাকবে। অনেক সময়ে পুরনো আটা, অথবা রান্নাঘরের গরম পরিবেশে বেশি দিন ধরে জমিয়ে রাখা আটা দিয়ে রুটি বানাতে গেলেই মুশকিল হয়ে যায়। আর্দ্রতার কারণে স্থিতিস্থাপকতা হারায় সেই ধরনের আটা, যার ফলে রুটি শুকিয়ে শক্ত যায়। এক মাসের বেশি দিনের জন্য আটা মজুত করা বন্ধ করুন। আটা পুরনো হয়ে গেলে সুস্বাদু রুটি বানানো যাবে না। বায়ুনিরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে আটাকে। সূর্যালোক এবং তাপ থেকে দূরে রাখুন।

Advertisement

আটা মাখার সময়ে ভুল না থেকে যায়। ছবি: সংগৃহীত।

২. আটা মাখার সময়ে প্রথমেই অতিরিক্ত জল মিশিয়ে দেবেন না। এর ফলে আটার টানটান ভাব নষ্ট হয়ে যায়। তার ফলে রুটি ভাল বানানো যায় না। পাত্রের এক জায়গায় সমস্ত আটা জমে আঠালো হয়ে যেতে পারে। ধাপে ধাপে, প্রয়োজন মতো জল মেশাতে হবে আটামাখায়। বিভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন পরিমাণ জলের প্রয়োজন পড়ে।

৩. আটা মাখার পর সঙ্গে সঙ্গে রুটি বানাতে শুরু করলে রুটি নরম হবে না। তাই মাখা হয়ে গেলে আটার মণ্ডটি বেশ খানিক ক্ষণ ঢাকা দিয়ে দিয়ে রেখে দিতে হবে। যাতে আটার গ্লুটেন শিথিল হওয়ার সময় পায় এবং আর্দ্রতা আটার মধ্যে সমান ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মাখা আটা ঢেকে ঘরের তাপমাত্রায় অন্তত ২০-৩০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। যত বেশি সময় দেবেন, তত ভাল।

৪. অনেকেই রুটি বানানোর সময়ে তাওয়ায় বার বার রুটি উল্টোতে থাকেন। এর ফলে আটার লেচি পর্যাপ্ত পরিমাণে তাপ এবং বাষ্পের সংস্পর্শে থাকতে পারে না। ঠিক যেমন বেশি ক্ষণ এক দিকে রাখলে রুটি পুড়ে যাবে, অন্য দিকে রুটি ঘন ঘন উল্টে দিলেও সেটি ভাল ভাবে তৈরি হবে না। প্রথমে একটি দিক তৈরি হোক ফুলে না ওঠা পর্যন্ত। পাশাপাশি, হালকা বাদামি দাগও পড়বে রুটিতে। তার পর উল্টো দিকের পালা। দ্বিতীয় দিকটি অল্প সময়ের জন্য রান্না করুন, কাপড় বা খন্তা দিয়ে আলতো করে চেপে ধরলে রুটি ফুলে উঠবে। প্রয়োজনে আরও এক বার উল্টে নিতে পারেন।

৫. রুটি বানানোর পর আঢাকা অবস্থায় রেখে দিলে সেটি শক্ত হয়ে যাবে। বাতাসের সংস্পর্শে এলেই তুলতুলে ভাব হারিয়ে যায়। তাই তাওয়া থেকে নামিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে রুটি। কাপড় বিছিয়ে তার মধ্যে রুটি রাখা যায় (কাপড়ের অন্য অংশ দিয়ে অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে), নয়তো ক্যাসারলেও রাখা যায়। এর ফলে বাষ্প ভিতরেই আটকে থাকবে আর রুটিও নরম থাকবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement