মাঝারি উচ্চতা, গায়ের রং শ্যামবর্ণ, পরনে সাধারণ পোশাক। কিন্তু সব রহস্য লুকিয়ে চোখের মণিতে। কারণ সে মণি সাধারণ নয়, ঘোলাটে হলুদ বর্ণের। ঠিক যেন বাঘের চোখ। আর ব্যাঘ্রনয়নী হওয়ার কারণেই যাবতীয় পরিচিতি পাপ্পু দেবীর।
চোখের মণি বাঘের মতো হওয়ার কারণে প্রায় দু’দশক আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন পাপ্পু। বছর কুড়ি পর আবার হইচই পড়েছে তাঁকে নিয়ে। সমাজমাধ্যম ছেয়ে গিয়েছে তাঁর ছবিতে।
কিন্তু কে এই পাপ্পু? রাজস্থানের পুষ্কর শহর বার্ষিক উটের মেলা এবং হ্রদের জন্য পরিচিত। সেই শহরে ছড়িয়ে রয়েছে অনেক গল্প। তার মধ্যেই একটি কাহিনি পাপ্পু দেবীর।
প্রায় দু’দশক আগে পুষ্কর মেলায় এক জন চিত্রগ্রাহকের ক্যামেরায় ধরা পড়েন বছর কুড়ির পাপ্পু। বাঘের মতো চোখ এবং তীক্ষ্ণ চাহনির কারণে সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার পরেই তাঁকে নিয়ে হইচই পড়ে।
সে বছর পুষ্কর মেলায় উপস্থিত পাপ্পুর গভীর, হলুদ-সবুজ চোখ দেখে অনেক মানুষই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। তবে কালের নিয়মে মানুষের মনে পাপ্পুর স্মৃতি এখন মলিন।
তবে সম্প্রতি আবার ভাইরাল হয়েছে পাপ্পু দেবীর ছবি। আবার আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি। বর্তমান প্রজন্মের এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁরা তাঁকে চেনেন না, তাঁদের মনে নতুন করে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছেন তিনি।
পাপ্পু পুষ্করেরই বাসিন্দা। এখন বয়স প্রায় ৪০। হাতে তৈরি ‘বানজারা’ স্টাইলের ব্যাগ এবং স্মারক সামগ্রী তৈরি করেন তিনি। ফুটপাথে দোকান বসিয়ে সেগুলি বিক্রি করেন।
পাপ্পুর দোকানে এখনও ২০ বছর আগে তোলা তাঁর সেই ছবি সম্বলিত পোস্টকার্ড বিক্রি হয়। এখনও মেলার সময় পাপ্পুর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ভিড় জমে তাঁর দোকানের সামনে।
পাপ্পু বিয়ে করেছেন এক জন গাড়িচালককে। পর্যটকদের জঙ্গল সাফারিতে নিয়ে যান তিনি। দম্পতির তিন কন্যাসন্তান রয়েছে।
মজার বিষয় হল, তিন কন্যার মধ্যে পাপ্পুর দুই মেয়ে তাঁর মতোই উজ্জ্বল এবং আকর্ষণীয় চোখ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। তেমনটাই জানা গিয়েছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে। তিন সন্তানই মাকে দোকান চালাতে সাহায্য করেন। মেলার সময় পর্যটকদের তাঁদের তৈরি ব্যাগ কেনার জন্য ডেকে নিয়ে আসেন।
পর্যটকেরা প্রায়ই পাপ্পু এবং তাঁর মেয়েদের চোখ দেখে অবাক হয়ে যান। অনেকে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসাও করেন যে, তাঁরা লেন্স পরে রয়েছেন কি না।
গত বছর সংবাদমাধ্যমে পাপ্পু মন্তব্য করেছিলেন, তিনি বানজারা সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নন। পর্যটকদের অনেকেই তাঁকে তাঁর চোখের সঙ্গে মানানসই পোশাক পরার পরামর্শ দেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
যে পুষ্কর মেলার সৌজন্যে পাপ্পুর পরিচিতি, তা লোকসংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের জন্য বিশ্ব জুড়ে জনপ্রিয়। একাধিক অনন্য প্রদর্শনী এবং প্রতিযোগিতার আসর বসে সেই মেলায়।
বার্ষিক উট এবং পশুপালন মেলা সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। ভিড় জমান বিভিন্ন রাজ্য এবং দেশের মানুষ।
একই ভাবে মোহময় বাদামি চোখ, শ্যামলা রঙের কারণে কুম্ভমেলার সাধুসন্ত এবং অন্য পুণ্যার্থীদের ভিড়ে নজর কেড়েছিলেন মোনালিসা। মহাকুম্ভের মেলায় ঘুরে ঘুরে হরেক রকমের রঙিন পুঁতি, রুদ্রাক্ষ দিয়ে তৈরি মালা বিক্রি করতেন ইনদওরের ওই তরুণী। কিন্তু সমাজমাধ্যমের জেরে তিনি এখন ঘরে ঘরে পরিচিত নাম।