US-Iran War Impact

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ধাক্কা খাচ্ছে জ়েন জি-র প্রিয় নরম পানীয়! কেন বাজারে অমিল ডায়েট কোক? নেপথ্যে ‘ব্ল্যাক সোয়ান’?

এ বছর ভারতে পুরোদমে গ্রীষ্মকাল শুরু হয়ে গেলেও গরম থেকে স্বস্তি পাওয়ার জন্য ডায়েট কোক নামে পরিচিত সেই ঠান্ডা ‘রুপোলি ক্যান’টির দেখা মিলছে না বাজারে। মিললেও তা শেষ হয়ে যাচ্ছে চটপট।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৫৯
Share:
০১ ১৯

গরমকালে ভারতের মতো দেশে ঠান্ডা নরম পানীয়ের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। সোডা জাতীয় নরম পানীয় কিনতে দোকানে দোকানে ভিড় লেগেই থাকে। আবার স্বাস্থ্যসচেতন গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে বিকল্প হিসাবে ‘চিনি ছাড়া’ নরম পানীয় তৈরি করে বিভিন্ন কোম্পানি।

০২ ১৯

অনেকেই সেই পানীয়ের মোড়কে ‘ডায়েট’ লেখা দেখে, তা স্বাস্থ্যকর ভেবে পান করেন। বিগত কয়েক বছরে এই ডায়েট পানীয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ডায়েট নরম পানীয়ের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হল কোকোকোলা সংস্থার ডায়েট পানীয়, ‘ডায়েট কোক’।

Advertisement
০৩ ১৯

তবে এ বছর ভারতে পুরোদমে গ্রীষ্মকাল শুরু হয়ে গেলেও গরম থেকে স্বস্তি পাওয়ার জন্য ডায়েট কোক নামে পরিচিত সেই ঠান্ডা ‘রুপোলি ক্যান’টির দেখা সে ভাবে মিলছে না।

০৪ ১৯

কেন এ বছর জনপ্রিয় চিনিমুক্ত নরম পানীয়টি খুঁজে পাওয়া এত দুষ্কর হয়ে উঠেছে? কেন চাহিদা তুঙ্গে থাকা সত্ত্বেও দোকানগুলিতে জোগান আসছে না ডায়েট কোকের? হঠাৎ করে কোথায় উধাও হয়ে গেল জনপ্রিয় পানীয়?

০৫ ১৯

আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ মজুত ঘাটতি মনে হলেও, এটি একটি অনেক বড় বৈশ্বিক সঙ্কটের সঙ্গে জড়িত, যা অ্যালুমিনিয়াম থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত পর্যন্ত বিস্তৃত।

০৬ ১৯

আসলে সমস্যা নরম পানীয়টি নিয়ে নয়, যে রুপোলি অ্যালুমিনিয়ামের ক্যানে ভরে তা বাজারজাত করা হয়, তা নিয়ে। অ্যালুমিনিয়ামের ক্যানের ঘাটতি দেশ জুড়ে ডায়েট কোক এবং অন্যান্য ক্যানজাত পানীয়ের সরবরাহে আঘাত হানছে।

০৭ ১৯

অন্যান্য পানীয় প্লাস্টিকের বোতল বা কাচের পাত্রে পাওয়া গেলেও ডায়েট কোক মূলত ক্যানের উপর নির্ভরশীল। এ কারণেই অ্যালুমিনিয়ামের সরবরাহ কমে গেলে এটি আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে।

০৮ ১৯

এই ঘাটতির নেপথ্যে রয়েছে অ্যালুমিনিয়ামের দামে ব্যাপক বৃদ্ধি। বিশ্বব্যাপী ‘লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জ’-এ অ্যালুমিনিয়ামের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই মাসের শুরুতে তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি টনের দাম ৩,৬৭২ ডলার দাঁড়িয়েছে। ভারতেও দাম বেড়ে প্রতি কেজি প্রায় ৩৭৫ টাকায় পৌঁছেছে।

০৯ ১৯

সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী অ্যালুমিনিয়ামের বাজার বর্তমানে একটি ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ ঘটনা (‘ব্ল্যাক সোয়ান’ ঘটনা হল একটি অত্যন্ত বিরল এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনা, যার পরিণতি মারাত্মক ও ব্যাপক হয়)।

১০ ১৯

পণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘মার্কুরিয়া’ ধাতু এবং খনি গবেষণা বিভাগের প্রধান নিক স্নোডন রয়টার্সকে বলেন, “অ্যালুমিনিয়ামের বাজারে আমরা যে সরবরাহ সঙ্কট দেখছি, তা সম্ভবত ২০০০-পরবর্তী যুগে কোনও মৌলিক ধাতুর বাজারের সম্মুখীন হওয়া সবচেয়ে বড় একক সরবরাহ সঙ্কট।” তিনি আরও বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই একটি ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ ঘটনার মধ্যে আছি। কেউ আগে থেকে কিছু অনুমান করতে পারেনি।”

১১ ১৯

বিশেষজ্ঞেরা অবশ্য এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে চলা সংঘাতকে। পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন অ্যালুমিনিয়াম গলানোর ক্ষমতা রয়েছে, যা বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় ৯ শতাংশ। যদিও এই অঞ্চলটি উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করে না, তবে সেখানকার পরিস্থিতি বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

১২ ১৯

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নৌপথকে প্রভাবিত করার কারণে, পণ্য পরিবহণ এবং বিমার খরচ বেড়েছে এবং অ্যালুমিনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য।

১৩ ১৯

‘মার্কুরিয়া’ অনুমান করছে যে এই বছর সরবরাহে অন্তত ২০ লক্ষ টনের ঘাটতি থাকবে। সহজ কথায়, এই ধাক্কা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত মজুত নেই কোনও দেশের কাছে। এই সরবরাহ প্রতিস্থাপন করাও সহজ নয়। বিশ্বের বৃহত্তম অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক চিন ইতিমধ্যেই উৎপাদন সীমার মধ্যে কাজ করছে। অন্য দিকে, আমেরিকা এবং ইউরোপের অব্যবহৃত উৎপাদনক্ষমতা খুব কম। এই কাঠামোগত সঙ্কটই অ্যালুমিনিয়ামের দামকে উঁচুতে ধরে রেখেছে।

১৪ ১৯

ভূ-রাজনীতির বাইরেও একাধিক কারণ রয়েছে অ্যালুমিনিয়ামের দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে। নির্মাণ, অটোমোটিভ এবং প্যাকেজিং খাতে ধাতুটির চাহিদা বিপুল বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে, সরবরাহে ব্যাঘাত এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচ উৎপাদনকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলছে।

১৫ ১৯

অ্যালুমিনিয়াম গলানোর জন্য অনেক শক্তির প্রয়োজন। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুতের খরচ বেড়েছে। ফলে তা অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের খরচও সরাসরি বাড়িয়ে দিয়েছে।

১৬ ১৯

ফলে অ্যালুমিনিয়ামের সরঞ্জাম কিনতে সাধারণ মানুষের যেমন পকেটে চাপ পড়ছে, তেমনই বিশ্ব জুড়ে তৈরি হওয়া এই অস্থিরতা পানীয় প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির জন্যও তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ কম থাকায় সংস্থাগুলি পশ্চিম এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো অঞ্চল থেকে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি দামে অ্যালুমিনিয়ামের ক্যান আমদানি করছে।

১৭ ১৯

কিছু উৎপাদক ঘাটতির কারণে উৎপাদন কমিয়েছে। আবার অন্যেরা লাভ এবং লভ্যতার উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যকে অন্যগুলির চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে ধাক্কা খাচ্ছে ‘জেন জ়ি’-এর অন্যতম প্রিয় পানীয় ‘ডায়েট কোক’।

১৮ ১৯

গত কয়েক বছরে চিনিমুক্ত এবং কম চিনিযুক্ত পানীয়ের চাহিদা তীব্র ভাবে বেড়েছে। গত এক বছরে এই ধরনের পণ্য বিক্রি দ্বিগুণ হয়েছে, যা এমন একটি অসামঞ্জস্য তৈরি করেছে যেখানে চাহিদা বাড়ছে আর সরবরাহ কমে আসছে। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, জেন জ়ি প্রজন্মের অনেক ক্রেতার জন্য ডায়েট কোক একটি দৈনন্দিন অপরিহার্য পানীয় হয়ে উঠেছে। চিনি কম থাকার কারণে এটি এমন একটি পছন্দের পানীয় হয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্মের কাছে।

১৯ ১৯

সরবরাহ কমে আসায় এক্স এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলিতে ইতিমধ্যেই এই পানীয়টি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ার বিষয়ে পোস্ট করা শুরু হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে পাওয়া গেলে গ্রাহকেরা একসঙ্গে অনেক বেশি পরিমাণে ‘ডায়েট কোক’ কিনে রাখছেন, যা এই ঘাটতিকে আরও বেশি দৃশ্যমান করে তুলছে।

সব ছবি: সংগৃহীত এবং এআই সহায়তায় প্রণীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement