who is Kasia Vuorinen

স্রেফ বিদেশি গাড়ির ভিডিয়ো দেখিয়েই আয় ৯ কোটি! গাড়ি চালানোর সময়ে জুতো খুলে রাখেন ‘সুপারকারের রানি’

বিলাসবহুল গাড়ি এবং সেগুলির বিভিন্ন দিক নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে লক্ষ লক্ষ মানুষের মন জয় করেছেন ইউরোপীয় বিষয়স্রষ্টা তরুণী। সবুজ চোখের তারা এবং স্লাভিক-ঘেঁষা ইংরেজি উচ্চারণের সাহায্যে নেটমাধ্যমে বিদেশি বিলাসবহুল গাড়ি দেখিয়ে কয়েক লক্ষ অনুসারী তৈরি করে ফেলেছেন সমাজমাধ্যমে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:০৩
Share:
০১ ১৬

বয়স মাত্র ৩৭। অনায়াসেই তাঁকে মডেল বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। তিনি অবশ্য তাঁর নিজের ব্র্যান্ডের মডেলও বটে। সমাজমাধ্যমে তাঁর পরিচিতি ‘কুইন অফ সুপারকার্স’ নামে। পিতৃদত্ত নামটি ব্যবহার না করে মঞ্চনাম বা ব্র্যান্ডের এই নামেই বহুল পরিচিত হয়েছেন তিনি। দুবাইয়ের বাসিন্দা নেটপ্রভাবী তরুণীর নাম কাসিয়া ভুরিনেন।

০২ ১৬

পূর্ব ইউরোপের শান্ত পরিবেশ থেকে দুবাইয়ের সোনালি বালির দেশে কাসিয়ার পৌঁছোনোর গল্পটি টায়ারের ধোঁয়া আর ধুলোয় লেখা এক আধুনিক রূপকথার মতো। তিনি শুধু সুপারকারের পুরুষপ্রধান জগতে নিজের জায়গা খুঁজে নেননি, রীতিমতো শাসন করছেন।

Advertisement
০৩ ১৬

বিষয়স্রষ্টা হিসাবে তাঁর ভিডিয়োগুলি কিছুটা স্বতন্ত্র। বিলাসবহুল গাড়ি এবং সেগুলির বিভিন্ন দিক নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে লক্ষ লক্ষ মানুষের মন জয় করেছেন কাসিয়া। দুবাইয়ে চলে আসার পর ‘কুইন অফ সুপারকার্স’ আক্ষরিক অর্থেই একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। শুধুমাত্র বিদেশি বিলাসবহুল গাড়ি দেখিয়েই কয়েক লক্ষ অনুসারী তৈরি করে ফেলেছেন সমাজমাধ্যমে।

০৪ ১৬

কাসিয়া সবুজ চোখের তারা এবং স্লাভিক-ঘেঁষা ইংরেজি উচ্চারণে লক্ষ লক্ষ মানুষের মন জয় করেছেন। পূর্ব ইউরোপের নাগরিক হয়েও ২০১৮ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বাসিন্দা নেটপ্রভাবী তরুণী। তার পরই অনন্য বিষয় উপস্থাপনের জন্য তিনি বিশ্ব জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের নজর কেড়েছেন।

০৫ ১৬

ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ বিচরণ কাসিয়ার। কাসিয়া তাঁর ভিডিয়োগুলিতে বিভিন্ন সুপারকারের বৈশিষ্ট্য, চালানোর অভিজ্ঞতার মতো বিষয়গুলি নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। বিষয়গুলি একঘেয়ে না হওয়ায় গাড়ির সমঝদার ও গাড়িপ্রেমী লক্ষ লক্ষ নেটাগরিকের কাছে ভিডিয়োগুলি বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

০৬ ১৬

প্রথম প্রথম শখে এই ধরনের ভিডিয়ো তৈরি করতে শুরু করেছিলেন কাসিয়া। ধীরে ধীরে এটি ব্যবসায় পরিণত করেন সুন্দরী নেটপ্রভাবী। কয়েক বছর যেতে না যেতেই ব্র্যান্ডে রূপান্তরিত করে ফেলেছেন নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মটিকে।

০৭ ১৬

বর্তমানে কাসিয়ার চারপাশে ১৫ জন ডিজিটাল কন্টেন্ট বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। এই দলে প্রযোজক, সম্পাদক, চিত্রগ্রাহক এবং সমাজমাধ্যম বিশেষজ্ঞেরা রয়েছেন। ভিডিয়োগুলি এক বার দেখলে নজর ফেরানো দায়। বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের গাড়িগুলির সামনে দাঁড়িয়ে শুধু ছবিই তোলেন না কাসিয়া, দুবাইয়ের মসৃণ রাস্তায় সেই গাড়ি ছুটিয়েও দেখান তিনি।

০৮ ১৬

ইউরোপের বাসিন্দা কাসিয়া, সমাজমাধ্যমে বিষয় তৈরির জগতে প্রবেশের আগেই একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। দুবাইয়ের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক আসরে সেই একই দৃঢ়তা নিয়ে নিজের একটি জায়গা করে নেন। তাঁর লক্ষ্য শুধু সুপারকার প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এর মূল উদ্দেশ্য হল নারীদের এমন সব ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে অনুপ্রাণিত করা, যেখানে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব কম ছিল, বিশেষ করে বিলাসবহুল গাড়ির ক্ষেত্রে।

০৯ ১৬

কাসিয়ার ভিডিয়ো সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয়টি হল সুপারকার চালানোর আগে জুতো খুলে ফেলা। এটি তার ট্রেডমার্ক বা বিশেষ ভঙ্গি হয়ে উঠেছে। তিনি এই বিষয়টি নিয়ে অনেক কন্টেন্ট তৈরি করেছেন এবং এটি তাঁকে অন্যান্য সুপারকার রিভিউয়ারের থেকে আলাদা করেছে। কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের জন্য অন্যদের তুলনায় তাঁর ভিডিয়োগুলিকে আলাদা করা সহজ।

১০ ১৬

ইনস্টাগ্রামে তার ৩৮ লক্ষ অনুসরণকারী গাড়ি চালানোর আগে তাঁকে জুতো, বুট বা স্যান্ডেল খুলতে দেখতে অভ্যস্ত। কখনও কখনও তিনি নামীদামি ব্র্যান্ডের জুতো, বুট বা স্যান্ডেল পরে হাজির হন। বিলাসবহুল বা সুপারকারের দরজা বন্ধ করার আগেই তিনি সেই জুতো খুলে নেন।

১১ ১৬

একটি জনপ্রিয় রেসিং সিমুলেশন গেম হল ‘গ্রান তুরিসমো ৭’। এই গেমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মুখ হয়ে উঠেছিলেন কাসিয়া। ফলে দুবাইয়ের বিশাল বিশাল বিলবোর্ডে তাঁর সুন্দর মুখের ছড়াছড়ি। কাসিয়া তাঁর ইনস্টাগ্রাম বায়োয় নিজেকে ‘এক জন গর্বিত মা ও স্ত্রী, সমাজমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং ব্যক্তিগত সুপারকার ক্রেতা’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

১২ ১৬

মনের মানুষ খোঁজার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে সুপারকার। কাসিয়া যদি রানি হন তা হলে দুবাইয়ের সুপারকারের ‘রাজা’ বলতে সকলে একডাকে জোয়েল নিকানোর ভুরিনেনকেই চেনেন। ছ’বছর আগে রেসট্র্যাকে জোয়েল ও কাসিয়ার পরিচয় হয়। তার পর থেকেই তাঁদের প্রেমপর্ব শুরু। দু’জনের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে (যাকে সুপারকারের রাজকুমারী বললেও চলে)। দুবাইয়ে ‘গাড়ি-ভরা’ এক বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন তাঁরা।

১৩ ১৬

দুবাইয়ের অভিজাত গাড়ির সংস্কৃতির প্রচারের মাধ্যমে কাসিয়া বেশ কিছু আকর্ষণীয় দিক তুলে ধরেছেন। মোটর রেসিংয়ের অনুরাগী, এই ৩৭ বছর নেটপ্রভাবী একটি ফর্মুলা১ গাড়ি চালানোর স্বপ্ন লালন করেন মনের মধ্যে।

১৪ ১৬

এরই মধ্যে, তিনি ইয়াস মেরিনা এবং দুবাই অটোড্রোম-সহ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিভিন্ন রেস ট্র্যাক মাতিয়ে রেখেছেন। ল্যাম্বরঘিনি, হুরাকান সুপার ট্রফিও, অডি এলএমএস জিটি ২ এবং ম্যাকলারেন, অ্যাস্টন মার্টিন ও ফেরারির মতো ট্র্যাকের সেরা গাড়িগুলো চালিয়েছেন।

১৫ ১৬

দুবাইয়ে সুপারকার চালানোর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে চাইলে তাও সম্ভব কাসিয়ার সুবাদে। কারণ সুপারকার এবং বিলাসবহুল গাড়ি সংক্রান্ত নানা বিষয়ে কাসিয়ার ভালবাসার সুবাদে তিনি দুবাইয়ের অটোমোবাইল শিল্পের বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রিমিয়াম সুপারকার অভিজ্ঞতা প্রদানকারী ব্র্যান্ড ‘কুইন অফ সুপারকার রেন্টাল’। এর মাধ্যমে সুপারকার ভাড়া নিয়ে দুবাই ঘুরে দেখতে পারেন গাড়িপ্রেমীরা।

১৬ ১৬

তিনি স্পনসরশিপ চুক্তি, ব্র্যান্ডের সঙ্গে সহযোগিতা এবং বিলাসবহুল সুপারকার সম্পর্কিত বিষয়গুলি তৈরির মাধ্যমে প্রচুর আয় করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয় ১০ লক্ষ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় ৯ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।

ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement