‘প্রেমে ধোঁকা খেয়ে ছলছল চোখে কাত না হয়ে বরং বদলা নিন।’ প্রেম দিবসের দিন পনেরো আগে এমন প্রস্তাব নিয়ে এল একটি বিজ্ঞাপন!
বিজ্ঞাপনের লক্ষ্য মূলত প্রেমে প্রতারিতরাই। তাঁদের বলতে চাওয়া হয়েছে, প্রেমিক বা প্রেমিকা না থাকুক, ভ্যালেন্টাইন্স ডে উদ্যাপন করতে পারবেন তাঁরাও। তবে একটু অন্য ভাবে। গদগদ প্রেমের বদলে তাঁদের প্রেম দিবস কাটবে প্রাক্তনের উপর গায়ের জ্বালা মিটিয়ে।
ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র আগে কার্ড, ফুল, হরতন আকৃতি চকোলেট বাক্স, মোমবাতির আলোয় নৈশভোজ এমনকি প্রেমিকাকে নিয়ে একান্তে ছুটি কাটানোর বিজ্ঞাপনও দেখা যায় সর্বত্র। তবে সে সবই অনুরাগের প্রকাশ। আর এই বিজ্ঞাপন অনুরাগ নয়, রাগের প্রকাশ চায়।
কিন্তু তাতে বিজ্ঞাপনদাতার লাভ কী? প্রেমিক প্রেমিকা পরস্পরের উপর রাগ দেখালে তারা কী পাবে! জবাব রয়েছে বিজ্ঞাপনেই— অর্থ।
কার্ড-ফুল-নৈশভোজের লুকনো প্রেমের মতোই এ বার প্রেমে আঘাত পেয়ে বেড়ে ওঠা যন্ত্রণাকেও পণ্য বানিয়ে বেচছে বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাটি।
কী ভাবে? এ প্রসঙ্গে একটি বলিউডের ছবির কথা বলতেই হচ্ছে। ‘জব উই মেট’ ছবিতে প্রেমে প্রতারিত গল্পের নায়িকা গীত (করিনা কাপুর খান)কে বন্ধু আদিত্য (শাহিদ কাপুর) প্রাক্তন-সমস্যার সমাধান বাতলে দেয়।
গীতকে আদিত্য বলেছিল, ‘‘উসে ফোন মিলা অউর গালি দে।’’ সোজা কথায় প্রাক্তনকে ভুলতে তাকে প্রাণ ভরে গালমন্দ করার পরামর্শ দিয়েছিল আদিত্য। নতুন বিজ্ঞাপনটিরও বক্তব্য কিছুটা তেমনই। দুনিয়া জোড়া ‘গীত’দের প্রাক্তন সমস্যার সমাধান করতে এক নতুন ধরনের উপায় বের করেছে বিজ্ঞাপনদাতারা।
তাদের পরামর্শ, ‘‘প্রাক্তনের নামে একটি আরশোলার নাম রাখুন। তারপর ওই আরশোলাটিকে জলজ্যান্ত অবস্থায় আমরা কোনও জন্তুকে দিয়ে খাওয়াবো।’’
নাম রাখতে খরচ পড়বে ৫ ডলার। যা ভারতীয় মুদ্রায় সাড়ে তিনশো টাকার কিছু বেশি। তবে তারপর আর কোনও খরচ নেই। প্রাক্তনের নামধারী আরশোলাকে জ্যান্ত চিবিয়ে খাওয়ানোর দায়িত্ব নেবে বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থা।
গোটা ঘটনাটি নেট মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার হবে। যাতে জন্তুর মুখে আরশোলারূপী প্রাক্তনের শেষ হওয়ার প্রতিটি মুহূর্ত তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতে পারেন প্রেমে ধোঁকা খাওয়া প্রেমিক বা প্রেমিকা। এমনকি প্রাক্তনের নামের আরশোলাটির নিধনের শংসাপত্রও দেওয়া হবে তাঁদের। এ সবের জন্য লাগবে স্রেফ ওই সাড়ে তিনশো টাকা। যা সংস্থাটি নেবে অনুদান হিসেবে।
বিজ্ঞাপনটি দেওয়া হয়েছে আফ্রিকার একটি চিড়িয়াখানার তরফে। চিড়িয়াখানার নাম লেহিগ ভ্যালি জু। তারা জানিয়েছে, প্রেমে ছ্যাঁকা খাওয়া প্রেমিক প্রেমিকারা চাইলে প্রাক্তনের নামে আরশোলার বদলে অন্য কোনও বিষাক্ত পোকামাকড়ের নামও রাখতে পারেন। পোকামাকড়ের রকমফের অনুযায়ী বেছে নেওয়া হবে কোন জন্তুকে দিয়ে তাদের খাওয়ানো হবে।
পুরো ব্যবস্থাটির একটা নামকরণও করেছে চিড়িয়াখানাটি— ‘বাগ অফ’। এ ক্ষেত্রে ‘বাগ’ শব্দটি পোকামাকড় অর্থে আর ‘অফ’ শব্দটি দমন অর্থেও ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে হতে পারে। তবে ইংরেজি এই শব্দবন্ধটির সাধারণত ‘ভাগ হতচ্ছাড়া’ গোছের ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়।