নতুন বছর পেরিয়েছে এক মাস হল। নতুন বছরে জীবনকে নতুন ভাবে গুছিয়ে নেওয়ার, বদলে ফেলার চেষ্টা করছেন অনেকে। জীবনে অনেক ভাল কিছু, নতুন কিছু ঘটার আশায় রয়েছেন।
প্রতি বছর শুরুর দিকে আরও একটি বিষয় নিয়ে অনেকেই মুখিয়ে থাকেন। আর তা হল, ভবিষ্যদ্বাণী। ফরাসি দার্শনিক তথা ভবিষ্যৎদ্রষ্টা নস্ট্রাদামুস হোক বা বুলগেরিয়ার ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গা, নতুন বছর নিয়ে কী বলে গিয়েছেন তা জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন অনেকে। ২০২৬ সাল নিয়ে তাঁদের ভবিষ্যদ্বাণী ইতিমধ্যেই অনলাইনে ‘ট্রেন্ড’ করছে।
২০২৬ সাল নাকি যুদ্ধ, দুর্যোগ, রাজনৈতিক পরিবর্তন, এমনকি মানুষের সঙ্গে ভিন্গ্রহীদের মুখোমুখি হওয়ার বছর। তেমনটাই নাকি চলতি বছরের ভবিতব্য। সবচেয়ে উদ্বেগজনক ভবিষ্যদ্বাণীগুলির মধ্যে একটি হল— তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
তবে ভবিষ্যদ্দ্রষ্টাদের এই তালিকায় জুড়ে গিয়েছে আরও এক দল মানুষ। তাঁরা দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর একদল ওঝা বা শামন।
ওই ওঝার দলের ভবিষ্যদ্বাণী, ২০২৬ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়বেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে সত্যি বলে মানতে শুরু করেছেন।
বিশ্বাস করবেন না-ই বা কেন! ওই ওঝার দলই তো এর আগে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, সামরিক অভিযানে আমেরিকার হাতে বন্দি হবেন ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। আর সেই বাণী সত্যি বলে প্রমাণিত হওয়ার পরেই ওই ওঝাদের নিয়ে মাতামাতি শুরু হয়েছে। সারা বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন ওই ওঝারা।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষের দিকে পেরুর রাজধানী লিমার কাছে তাঁদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে ওই ভবিষ্যদ্বাণীগুলি করে ওঝার দল। বিশ্বের বিভিন্ন নেতা এবং সংঘাত নিয়ে পূর্বাভাসের সময় মাদুরোর আটক এবং ট্রাম্পের অসুস্থতা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে জুয়ান ডি ডিওস গার্সিয়া নামে এক ওঝা সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের প্রস্তুত রাখা উচিত। কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়বেন এ বছর।’’
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসে ট্রাম্পের পা ফুলে যাওয়া এবং হাতের ক্ষতের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের তরফেও বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি জারি করা হয়।
আর তার পরেই ডিসেম্বরে ট্রাম্পের গুরুতর অসুস্থ হয়ে প়ড়া নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন ওই ওঝারা। সেই সময় মাদুরোকে নিয়েও মন্তব্য করেন তাঁরা।
ওঝার দলের দাবি ছিল, চলতি বছরে ক্ষমতাচ্যুত হবেন ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট। ক্ষমতা থেকে অপসারিত এবং নির্বাসিত করা হবে তাঁকে। এক জন ওঝা নাকি এ-ও বলেছিলেন, ২০২৬ সালে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাদুরোকে ট্রাম্প ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবেন বলে স্বপ্ন দেখেছেন তিনি।
নতুন বছরের কয়েক দিন যেতে না যেতেই ওঝার ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি বলে প্রমাণিত হয়। আমেরিকার হাতে বন্দি হন মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী। তার আগে গোপন অভিযানও চালানো হয়।
আর সে কারণেই ট্রাম্পের শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও আলোচনা জোরদার হয়েছে। এর আগেও একাধিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ওই ওঝারা। এমনকি পরস্পরবিরোধী ভবিষ্যদ্বাণীও করেছিলেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে পরস্পরবিরোধী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন পেরুর ওই ওঝারা। গার্সিয়া নামের ওই ওঝা বলেছিলেন যে, যুগ্ধ শেষ হয়ে যাবে। অন্য দিকে, আর এক ওঝা আনা মারিয়া সিমিওন দাবি করেছিলেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।
ভূমিকম্প এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো প্রাকৃতিক বিষয় নিয়েও সতর্ক করেছিলেন ওঝারা। পেরুর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মৃত্যু নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী মিলিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা।
তবে পেরুর ওই ওঝাদের ভবিষ্যদ্বাণীগুলি প্রমাণভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণী নয়। সেগুলো একটি সাংস্কৃতিক রীতি, যা কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাকতালীয় ভাবে মিলে গিয়েছে। অন্তত তেমনটাই দাবি কিছু মানুষের।
ওঝাদের ভবিষ্যদ্বাণীগুলির কোনওটিই যাচাই করা হয়নি। বিশেষজ্ঞেরাও বলছেন, কোনও ভবিষ্যদ্বাণীকে নির্ভরযোগ্য হিসাবে বিবেচনা করার জন্য ঘটনার আগে স্পষ্ট বিবরণ রেকর্ড থাকা উচিত এবং একাধিক স্বাধীন উৎস দ্বারা নিশ্চিত হওয়া উচিত। পেরুর ওঝাদের কোনও ভবিষ্যদ্বাণীই সেই সব মানদণ্ড পূরণ করে না।