নেকড়ে ‘শিকারে’ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট, প্রিয় ঘোড়ার মৃত্যুর ‘বদলা’ নিতে বদল চান আইনেও

আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’র দাবি, নেকড়ে ‘শিকারে’ নেমেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন। কিন্তু কেন নেকড়েশিকারির তকমা পাচ্ছেন তিনি?

Advertisement
আনন্দবাজার অনলাইন ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:৫৩
Share:
০১ ১৮

ইউরোপীয় দেশগুলিতে কি নিজেদের ‘বিপন্ন’ তকমা হারাতে পারে নেকড়েরা? ওই মহাদেশ জুড়ে নেকড়েদের হামলায় গৃহপালিত পশুপাখিদের প্রাণহানি রুখতে তৎপর হল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার এ নিয়ে হুঁশিয়ারির সুর শোনা গিয়েছে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের কণ্ঠে।

০২ ১৮

ইউরোপে নেকড়েদের উপর থেকে সুরক্ষাকবচ সরিয়ে নেওয়ার কথা চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উরসুলা। যদিও এ নিয়ে চটজলদি পদক্ষেপ করার বদলে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত গ্রহণের পক্ষপাতী তিনি।

Advertisement
০৩ ১৮

সোমবার কমিশনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘ইউরোপের কয়েকটি অ়ঞ্চলে গৃহপালিত পশুপাখি এমনকি মানুষজনের ক্ষেত্রেও বিপদসঙ্কেত বয়ে আনছে নেকড়ের দলের আক্রমণ।’’

০৪ ১৮

এই বন্যপ্রাণীদের আক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে কি তবে প্রয়োজনে নেকড়েদের মেরে ফেলার অনুমতি দেওয়া হবে? এ নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে। তবে এ নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলির স্থানীয় কমিটি, বিজ্ঞানী এবং আধিকারিকদের সহায়তা চেয়েছেন উরসুলা।

০৫ ১৮

ইউরোপীয় দেশগুলিতে নেকড়েদের সংখ্যা জানানোর জন্য ওই কমিটি, বিজ্ঞানী এবং সরকারি আধিকারিকদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন উরসুলা। নেকড়েদের হামলায় জনজীবনে কী প্রভাব পড়েছে, তা-ও জানানোর কথা বলেছেন তিনি।

০৬ ১৮

আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই রিপোর্ট জমা করার অনুরোধ করেছেন উরসুলা। এই তৎপরতার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে? আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’র দাবি, নেকড়ে ‘শিকারে’ নেমেছেন উরসুলা। কিন্তু কেন নেকড়েশিকারির তকমা পাচ্ছেন তিনি?

০৭ ১৮

গত বছরের সেপ্টেম্বরে জার্মানির হ্যানোভারে পরিবারের খামারবাড়িতে নেকড়ের হামলায় তাঁর প্রিয় ঘোড়া ডলির মৃত্যু হয়। ঘটনাচক্রে, তার পরেই আসরে নেমেছেন উরসুলা।

০৮ ১৮

ওই ঘটনার ঠিক এক বছর পর নেকড়েদের সুরক্ষাকবচ সরানোর প্রসঙ্গে এই ঘোষণা করেন তিনি। ফলে দুইয়ে দুইয়ে চার করে নিতে বিশেষ দেরি করেনি সংবাদমাধ্যমের একাংশ।

০৯ ১৮

জার্মান রাজনীতিক উরসুলা আরও জানিয়েছেন, প্রয়োজনে নেকড়েদের সুরক্ষাকবচ নিয়ে আইন শিথিল করা হতে পারে। যদিও সমস্ত পরিসংখ্যান এবং মতামত গ্রহণের পরেই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

১০ ১৮

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, দীর্ঘ দিন ধরেই ইউরোপে নেকড়ে শিকারের চল ছিল। নেকড়েদের সংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করায় গত শতকের পাঁচের দশকে এ নিয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়। সে সময় বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে নেকড়ের কয়েকটি প্রজাতিকে বিপন্ন বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।

১১ ১৮

নেকড়ে শিকারে বিধিনিষেধ আরোপ করার জেরে ইউরোপ জুড়েই এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, ইইউ সদস্যভুক্ত ২৭টি দেশে এখন অন্তত ১৯,০০০ নেকড়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে বুলগেরিয়া, গ্রিস, ইটালি, পোল্যান্ড, রোমানিয়া এবং স্পেনে সংখ্যাটি হাজারের বেশি।

১২ ১৮

উরসুলার নিজের দেশ জার্মানিতে ১৬১টি নেকড়ের দল রয়েছে বলে জানিয়েছে ফেডেরাল উল্‌ফ ডকুমেন্টেশন অ্যান্ড অ্যাডভাইজ়ারি অফিস। প্রতিটি দলে আট থেকে ১২টি নেকড়ে থাকে। এ ছাড়া, সে দেশে আরও ৪৩ জোড়া এবং ২১টি নেকড়ের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

১৩ ১৮

পরিবেশবিদরা আরও জানিয়েছেন, শুধুমাত্র গত দশকেই নেকড়েদের সংখ্যায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। ইউরোপের বেশির ভাগ দেশেই তাদের সুরক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। যদিও উরসুলার দাবি, ইইউ-এর আইনেই নেকড়ে শিকার করা নিয়ে শিথিলতা রয়েছে।

১৪ ১৮

জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য বাভারিয়ার যেমন গৃহপালিত পশুপাখির উপর নেকড়েদের হামলা হলে আত্মরক্ষায় তাদের মেরে ফেলতে পারেন কৃষকেরা। গত বছর ব্র্যানডেনবার্গেও একের পর এক নেকড়ের দলের হামলার পর একই পদক্ষেপ করার অনুমতি দিয়েছে সেখানকার প্রশাসন।

১৫ ১৮

যদিও ইইউ-এর একটি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৯৯২ থেকে নেকড়েদের সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। তবে কি নেকড়েদের মেরে ফেলার অনুমতি দেওয়া হবে? উরসুলার ঘোষণার পর এ প্রশ্ন উঠছে।

১৬ ১৮

কমিশনের মুখপাত্র অ্যাডেলবার্ট জাঞ্জ অবশ্য বলেন, ‘‘গোটা বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিসংখ্যান পেলে তবেই এ নিয়ে চিত্রটি আমাদের কাছে স্পষ্ট হবে। এবং তার পরেই আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারব।’’

১৭ ১৮

উরসুলার নিজের দেশের পরিবেশমন্ত্রী স্টেফি লেমকে অবশ্য চরম পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সোমবার সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি জানিয়েছেন, গৃহপালিত পশুদের বাঁচাতে নেকড়েদের দেখা মিললেই যাতে গুলি করে মারা যায়, চলতি মাসের শেষে সে প্রস্তাব করার কথা চিন্তা-ভাবনা করছেন।

১৮ ১৮

প্রায় একই সুর শোনা গিয়েছে ফ্রান্সের কৃষিমন্ত্রী মার্ক ফেনোর কণ্ঠে। তাঁর মতে, এই বিষয়ে বাস্তববাদী হয়ে সাহসী পদক্ষেপ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘এক সময় এই নিয়ম করা হয়েছিল বিপন্ন প্রাণীদের সুরক্ষার জন্য। তবে এখন কৃষকেরা এবং তাঁদের জীবন-জীবিকা বিপন্ন।’’

সব ছবি সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement