Jacobin Cuckoo

অপেক্ষার নামই চাতক

চাতক পাখি কি আমরা দেখেছি? কিংবদন্তি বলছে, শুধু বৃষ্টির জলেই তার তেষ্টা মেটে। মেঘ আর ধারাজলের সঙ্গে তাকে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা শতবর্ষ প্রাচীন। তাকে নিয়ে বিভ্রান্তিও কম নেই। কত পাখির সঙ্গে যে কত বার যে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে তাকে! আসলে চাতক চিরকালই সন্ধানীর কাছে প্রহেলিকা। সে সন্ধানের চাতকব্রত যেন শেষই হওয়ার নয়।

দীপক দাস

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:১৪
Share:

ছবি: প্রসেনজিৎ নাথ।

একটা হ্যারিকেন। আর একটা টুনটুনি। দ্বিতীয়টা আসলে এক ধরনের লন্ঠন। ছোট্ট, চোঙাটে। চেহারাতেই তার উপাধিপ্রাপ্তি। মানুষের যেমন গাবলু, সিড়িঙ্গে। কাচ-টাচ মোছা থাকলে টুনটুনির আলো খারাপ নয়। মাদুরের উপর রাখা দুটোই। কাচের ঘেরাটোপে থাকা ছোট-বড় দুই দীপালোক ঘিরে পড়তে বসেছে বাড়ির ছেলেমেয়েরা. হ্যারিকেনের আলো যে জায়গায় গিয়ে নিস্তেজ, সেখানে অন্ধকার দূর করছে টুনটুনিটা। মৃদুতর ওই আলোটাই পছন্দ বাড়ির ছোটছেলের। তাতে উঠোনের উনুনে কাঠের জ্বালে রান্না করা মা-কাকিমার চোখকে ফাঁকি দেওয়া সহজ। পড়ার বই ছেড়ে ব্যাগ ঘাঁটা যায়। স্কুলের ব্যাগটি যে একটি খোকা-রত্নভান্ডার। তাতে পাড়ার কাকুর বাড়ি তৈরির জন্য স্তূপ করে রাখা বালি থেকে সংগ্রহ করা চকচকে পাথর আছে। আছে কাঁচা আমের ছাল ছাড়ানোর জন্য ঝিনুকের খোলা, স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ডের নীচে স্যরের ফেলে দেওয়া চকের শেষ অংশ। ঝিনুকের খোলাটার উঁচু দিকটা কায়দা করে ঘষা। সেই অংশটা দিয়ে অনায়াসে কাঁচা আম ছাড়ানো যায়।

পড়তে বসে আগে ছোটখোকা ব্যাগ হাতড়ে দেখে নেয়, সিন্দুকের সব রত্নভান্ডার ঠিকঠাক রয়েছে কি না। ভাইবোনদের লোভ আছে ওদিকে। ক’দিন অবশ্য ঝিনুক, পাথরে মন নেই তার। সে ‘কিশলয়’ বইটা খুলে চট করে এক বার পাথরকুচি পাতাটা দেখে নেয়। দাদা-দিদিদের কাছে শুনেছে, গাছ থেকে ছিঁড়ে নিলেও পাথরকুচি পাতা মরে না। তার গ্যাঁজ বেরোয়। সেই গ্যাঁজ থেকে গোটা গাছ! অবাক করা ব্যাপার। বিষয়টা ছোটখোকা হাতে-কলমে দেখে নিতে চায়। তাই এই অপেক্ষা। হাতে-কলমে সফল হলেই ভাইবোনদের হাতেনাতে দেখিয়ে অবাক করে দেবে।

সময় এগোয়। বড় হয় ছোটখোকা। বদলায় তার আগ্রহের বিষয়। কিন্তু ‘চাতকব্রত’ কি শেষ হয়? পাথরকুচি পাতার গ্যাঁজের অপেক্ষা হয়ে ওঠে মাধ্যমিকের রেজ়াল্ট, এসএসসি-র বিজ্ঞপ্তি, মেয়ের জন্য ভাল ঘর। বাড়ির বড়খুকি হয়তো ‘হলদে পাখির পালক’ প্রত্যাশী। যে পালক সে চিরকাল রেখে দেবে বইয়ের ভাঁজে, মনের মাঝে।

এ ‘চাতকব্রত’, সারা জীবনের। আচ্ছা চাতক পাখি কিসের অপেক্ষা করে? শোনা যায়, বৃষ্টির জলের।

কে তুমি… কে তুমি

চাতক পাখি কি আমরা দেখেছি? আমরা মানে যারা সকালে চায়ের সঙ্গে চানাচুর মুড়ি খায়, ফেরার সময় ট্রেন দেরি করলে স্টেশনের পাশে সাইকেল গ্যারাজ খোলা থাকবে কি না চিন্তা করে, অসীম সাহসে ছুঁচ না গলার জায়গায় টোটো গলিয়ে দেওয়া চালককে ধমকায়, সকালে ঝাঁটা দেওয়া থামিয়ে প্রতিবেশীর ঝগড়ার কারণ নির্ধারণ করে। চাতক চেনে না মনে হয় বেশির ভাগই। নামটা জানে— ‘কোন্ দেশেতে তরুলতা… চাতক বারি যাচে রে?’ কিন্তু ভ্রান্তিবিলাসও ঘটে।

গরমের দুপুরে যখন গোপালের মা, মানুর ঠাকুমা ‘ওরে জল থেকে ওঠ রে’ বা ‘এখনও এঁটো হাতে ঘুরচিস’ চিৎকার থামায়, বাজার থেকে শেষ মোটরবাইকটা ভুটভুটিয়ে পাড়া টপকে যায়, কুকুরগুলো অহেতুক বেড়াল, ছাগলকে ব্যতিব্যস্ত করা ছেড়ে কোনও গাছের ছাওয়ায় বা মন্দিরের পাশে ঘুমোয় তখন একটা পাখির ডাক শোনা যায়। টানা শিসের মতো ডাক। মিষ্টি তার সুর। শুনে মা-ঠাকুমারা বলে, “ওই চাতকপাখি জল টানছে। আজ বোধহয় বৃষ্টি হবে।” এ পাখিও তারা কখনও চোখে দেখেনি। যাদের একটু পাখি নিয়ে চর্চা-টর্চা আছে তারা বলে, জল টানা পাখিটা চাতক নয়। সে নাকি ফটিকজল।

চাতক নিয়ে আমজনতার একগলা সংশয়। জ্ঞানীদের সংশয়ও কি কম! কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন ‘চাতক পক্ষীর প্রতি’ কবিতা। শুরুটা এ রকম, ‘কে তুমি রে বল পাখি/ সোণার বরণ মাখি,/ গগনে উধাও হয়ে/ মেঘেতে মিশায়ে রয়ে,/ এত সুখে সুধামাখা সঙ্গীত শুনাও’। যাঁরা কবিতাটি পড়েছেন এবং চাতক চেনেন তাঁরা সংশয়ে পড়ে যাবেন। চাতকের কোনও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গেই মেলে না যে! মিলবে কী করে? কবিতাটি চাতকপাখিকে উৎসর্গ করা হলেও এ পাখি যে আসলে স্কাইলার্ক। পি বি শেলির বিখ্যাত ‘স্কাইলার্ক’ কবিতার অনুকরণে সৃষ্টি। ‘বৃত্র সংহার’ মহাকাব্যের রচয়িতার কেন চাতকে স্কাইলার্ক-ভ্রম? সে উত্তর আছে লোককাহিনির মেঘের আড়ালে লুকিয়ে।

লোককাহিনির সন্ধান মিলছে শরৎচন্দ্র মিত্রের লেখায়। বেঙ্গালুরু থেকে প্রকাশিত ‘মিথিক সোসাইটি’র ত্রৈমাসিক মুখপত্রে পাখি সম্পর্কিত জনশ্রুতি, কিংবদন্তি নিয়ে লিখেছিলেন ‘স্টাডিজ় ইন বার্ড মিথস’। প্রকাশকাল ১৯২৩ সালের অক্টোবর। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল অ্যানথ্রোপলজির লেকচারার শরৎচন্দ্র স্কাইলার্ক নিয়ে দু’টি কিংবদন্তির উল্লেখ করেছেন। একটি কিংবদন্তি বাংলার কোন জেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল তা জানাতে পারেননি। তবে গল্পটি ছিল এ রকম, এক গোপজন দুধে এন্তার জল মেশাত। সেই জল মেশানো দুধ বিক্রি করে বেশ ধনী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু মানুষ মরণশীল। ফলে সম্পত্তি-টম্পত্তি রেখে তাকে যেতে হল যমলোকে। পড়তে হল যমরাজের বিচারের সামনে। যমরাজ তাঁর অসততার জন্য শাস্তি দিতে উদ্যত। কিন্তু যমরাজের সঙ্গে তর্ক শুরু করে গোপজন। দাবি করতে থাকে সে সৎ। চোরেরা চিরকাল যা করে থাকে। মনুষ্যলোকের আদালতের বিচারেও। কিন্তু যমরাজের কাছে পাকা সাক্ষী ছিল। সাক্ষীরা হল ওই গোপজনের খদ্দের। তারা গোপজনের জল মেশানো দুধ খেয়ে অপুষ্টিতে মারা গিয়েছিল কি না, কিংবদন্তিতে উল্লেখ নেই। প্রতারিত খদ্দেররা একজোট হয়ে সাক্ষী দিল, দুধে জল মেশানোর বিষয়ে। সব শুনে যমরাজ বললেন, ‘ওহে অসৎ, পাপী গোপজন, তুমি দুধে যথেষ্ট জল মিশিয়েছ। তাই তুমি পরজন্মে জলের জন্য কষ্ট পাবে। নদী, সরোবর জলে ভরা থাকলেও সে জল পান করতে পারবে না। জল পাবে না সারা বছরও। পাবে শুধু বর্ষার জল। তাও একবিন্দু জলের জন্য যাচ্ঞা করে ফিরতে হবে। যমরাজের অভিশাপের পরেই সেই গোপজনের বিদেহী আত্মা একটা পাখিতে পরিণত হল। কী পাখি? শরৎচন্দ্র লিখছেন, স্কাইলার্ক। কিন্তু বন্ধনীতে লিখছেন চাতক। হেমচন্দ্রের সংশয়ের কারণ বোঝা যায়। কিন্তু সংশয়ের এখানেই শেষ নয়। গোপজন পাখিতে পরিণত হয়েই ‘ফটিকজল, ফটিকজল’ ডাকতে ডাকতে উড়ে গেল। এই ফটিকজল আবার আলাদা পাখি। ছোট্ট। সুন্দর। দুপুরে ভারী সুন্দর করে ডাকে।

দ্বিতীয় লোককাহিনি সংগ্রহ করা হয়েছিল এখনকার বাংলাদেশের ঢাকার ব্রাহ্মণগাঁও থেকে। এই গল্পের কেন্দ্রে একটি ছেলে। সে তার বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে থাকত। মা ছোটখাটো কাজ করে সংসার চালাত। এক দিন বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে পড়ল। ধীরে ধীরে তার অবস্থা খারাপ হতে থাকল। শেষের সে দিনে মৃত্যুশয্যাশায়ী মা একটু জলের জন্য কাতরাচ্ছিল। কিন্তু ছেলে ছিল খেলায় ব্যস্ত। তৃষ্ণা নিয়েই মরতে হল মাকে। বয়সকালে ছেলেও মারা গেল। আবার যমের বিচার। যম অভিশাপ দিলেন, ছেলেকে পাখি হয়ে জন্মাতে হবে। কিন্তু জল তার জন্য সীমিত হবে। পানের যোগ্য হবে একমাত্র বৃষ্টির জল। এ ছেলেও স্কাইলার্ক হয়ে ‘ফটিকজল ফটিকজল’ আবেদন করতে করতে উড়ে গেল।

হেমচন্দ্রের স্কাইলার্ক সংশয়ের উৎস কোন লোককাহিনি, তা নিশ্চিত রূপে বলা সম্ভব নয়। ভারতে দু’টি প্রজাতির স্কাইলার্ক পাওয়া যায়। একটির বাংলা বা হিন্দি নাম ভরত বা ভরতপক্ষী। শরৎচন্দ্র লিখেছেন, নামটি রায়বাহাদুর রামব্রহ্ম সান্যালের লেখায় মেলে। রামব্রহ্ম কলকাতা চিড়িয়াখানার প্রথম ডিরেক্টর ছিলেন। ‘দ্য ফনা অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়া, বার্ডস, দ্বিতীয় খণ্ড’-এর লেখক ইউজিন ডব্লিউ ওটসের দাবি, গুলগুলা হল ভরতপাখি। ভরত পাখি আসলে ভরুই। মাংসের জন্য বেশ শিকার করা হয় এই পাখিগুলো।

বাংলার বাসিন্দারা আরও একটি পাখিকে চাতক বলে ভুল করেন। সেটি হল আবাবিল। অজয় হোম এই পাখির নাম দিয়েছেন ‘হাওয়াশীল’। জগদানন্দ রায় ‘বাংলার পাখী’ বইয়ে আবাবিলের একটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। লিখেছেন, ‘উড়িতে উড়িতে এবং ডাকিতে ডাকিতে পোকা শিকার করা, বৃষ্টির সময়ে উড়িতে উড়িতে স্নান করা এবং জল খাওয়াই ইহাদের স্বভাব’। এই স্বভাবের জন্যই কি চাতক ভ্রম?

এক পাখির পরিচয়ে এত সংশয়! সাধারণ মানুষ আর কী করে! একটা রাজনৈতিক দলকে চিনতে কত বছর লেগে যায়। এতগুলো পাখির মধ্যে থেকে চাতক খুঁজে বার করা কি কম কথা! কবি-কথাকারদের দোষ দেওয়া যায় না। দোষ দেওয়া যায় না বলেই নিধুবাবু তথা রামনিধি গুপ্তের পঙ্‌ক্তির অর্থ বাস্তবে ভুল হলেও তা প্রবাদ— ‘বিনে স্বদেশী ভাষা/ পুরে কি আশা/ কত নদী সরোবর কিবা ফল চাতকীর/ ধারা জল বিনে কভু/ ঘুচে কি তৃষা’।

তুমি আসবে বলে

মাটির ঘরের ছোট্ট একটা জানলা। বড় রাস্তার পেটের মাঝখান থেকে যে মেঠো পথটা পাড়ার দিকে চলে গিয়েছে, সেটা দেখা যেত জানলা থেকে। জানলায় বসে বাবার জন্য অপেক্ষা করত দুই ভাই-বোন। এমন কাজ করে বাবা, রোজ বাড়ি আসতে পারে না। পাঁচ-ছ’দিন পরে ফিরত। ফেরার দিনগুলোয় ভাই-বোনের কাজ ছিল বাবার পথ চেয়ে বসা থাকা। শহরের গল্প হবে। কত আদর করবে।

এক দিন পুজোর সময়ে ক্লাবে ভিসিপি ভাড়া করে সিনেমা দেখানো হচ্ছিল। তখন বড় হয়ে গিয়েছে ছেলে মেয়ে দু’টো। তারাও দর্শক। ঝাড়পিটের সিনেমা। তাতে একটা দৃশ্য ছিল। বড়লোকের অন্যায়ের প্রতিবাদ করে জেলে গিয়েছিল একটা লোক। সে ফিরছে। খবর পেয়ে তার বৌ ছুটতে শুরু করল। ছুটছে… ছুটছে… ছুটছে…। দৃশ্যটায় মনটা কেমন যেন করে উঠল মেয়েটার। মনে পড়ে গেল বাবার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় তাদের দুই ভাইবোনের জানলায় বসে থাকার দিনগুলো। তারা কি কোনও দিন ভেবে দেখেছে, আরও এক জন অপেক্ষা করে থাকত বাবার বাড়ি ফেরার জন্য? রান্না করা, বাসন মাজা, ছেলেমেয়েদের খেতে দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে তার মনেও তখন নিশ্চয়ই বৃষ্টি নামত… ‘রিমঝিম গিরে সাওয়ন…’।

প্রেমের গানে, মিলনের সুরে কেমন করে যেন মিশে থাকে বৃষ্টির রোমান্টিকতা। বৈষ্ণব পদাবলি থেকে বলিউড— ধারাপাত অবিরাম। অভিসারিকা রাধার কথা লিখলেন পদাবলির কবি, ‘গগনে অবঘন মেহ দারুণ/ সঘনে দামিনী চমকই’। কিংবা ‘এ ঘোর রজনী মেঘের ঘটা/ কেমনে আইল বাটে।/ আঙ্গিনার মাঝে বঁধুয়া ভিজিছে/ দেখিয়া পরাণ ফাটে’। বলিউডে হরিহরণ গাইলেন মজরুহ সুলতানপুরীর অভিসার, ‘সাওয়ন বরসে তরসে দিল/ কিঁউ না নিকলে ঘর সে দিল…’।

প্রেমের ধারাপাত কার মস্তিষ্কপ্রসূত? জানা যায় না। কিন্তু চাতকের সঙ্গে বৃষ্টির যোগ? খোঁজার চেষ্টা হয়েছে। সে চেষ্টা শতবর্ষপ্রাচীন। খুঁজেছিলেন সত্যচরণ লাহা। কলকাতার বিখ্যাত লাহা পরিবারের সন্তান। যিনি সত্যচরণ ল নামেই বেশি পরিচিত। পাখি নিয়ে তাঁর লেখা ‘প্রবাসী’, ‘মানসী’, ‘ভারতবর্ষ’, বোম্বে ন্যাচারাল সোসাইটি-র জার্নাল ছাড়াও বিদেশের পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত। আলিপুর চিড়িয়াখানার তিনিই প্রথম ভারতীয় সভাপতি। লন্ডন জুলজিক্যাল সোসাইটির ফেলো ছিলেন (সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান)। সত্যচরণের ‘পাখীর কথা’ বইয়ে ‘কালিদাস সাহিত্যে বিহঙ্গ পরিচয়’ শীর্ষক পর্ব রয়েছে। কিছু বছর পরেঅবশ্য ‘কালিদাসের পাখী’ নামে আস্ত একখানা বই লিখে ফেলেছিলেন।

চাতক ভারতের প্রাচীন সাহিত্যে বেশ খানিকটা জায়গা দখল করে রয়েছে। কিন্তু সব জায়গাতেই পাখিটির সঙ্গে মেঘের সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। ‘পাখীর কথা’ অনুযায়ী, কালিদাসের ‘মেঘদূতম’-এ চার বার চাতকের উল্লেখ রয়েছে। বিরহী যক্ষের দূত হতে না হতেই মেঘের বাম পাশে চাতকের দেখা মেলে। পাখিটিকে মধুরভাষী বলেছেন কালিদাস। অভিধানেও উল্লেখ রয়েছে চাতকের। বাচস্পত্য অভিধানে চাতকের আর এক নাম পাওয়া যায়, সারঙ্গ। কালিদাসেও সারঙ্গ রয়েছে। সব ক্ষেত্রেই ‘মেঘ দরশনে হায় চাতকিনী ধায় রে’ স্বভাব তার।

এই যে ‘চাতকব্রত’, এর কি কোনও বৈজ্ঞানিক সত্যতা রয়েছে?

‘কালিদাসের পাখী’তে সত্যচরণ হোরেস উইলসনের ইংরেজি অনুবাদে চাতকের পরিচয় উল্লেখ করেছেন। উইলসন লিখেছেন, সিক্ত ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় চাতক উজ্জ্বল চরিত্র। তাঁর ধারণা, অনূদিত ‘অমরকোষ’ থেকে চাতকের তেমন পরিচয় মেলে না। সম্ভবত এটি পাপিয়ার মতো কোনও কাক্কু। স্টুয়ার্ট বেকারের ‘ফনা অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়া’য় চাতক অর্থাৎ পায়েড ক্রেস্টেড কাক্কুর হিন্দি ও বাংলায় স্থানীয় নাম দেওয়া রয়েছে। এখানে চাতক নামটি পড়ছে হিন্দির ভাগে। পাপিয়া নামটিও হিন্দিতে। বাংলায় বলা হয়েছে কোলা বুলবুল।

কিন্তু ক্লামাটর জ্যাকোবিনাস বা পায়েড ক্রেস্টেড কাক্কু বা জ্যাকোবিন কাক্কুর সঙ্গে মেঘের সম্পর্ক কী? সত্যচরণের ভাষায়, “মেঘের সহিত এই বিহঙ্গের যত দূর সম্পর্ক খুঁজিয়া পাওয়া যায় তাহাতে দেখা যায় যে, বর্ষাঋতু ইহার গর্ভাধান কাল এবং এই সময়ে সে এত মুখর হয় যে, তাহার রব ও কাকলি অনবরত শুনিতে পাওয়া যায়।” কালিদাস যে বলেছেন, চাতক মধুরভাষী? পশ্চিমের পক্ষিবিদদের মতে, প্রজননকালে চাতক বড়ই চেঁচামেচি করে। অনেক সময়ে দেখা যায়, দুই বা তিনটি পুরুষ চাতক এক চাতকিনীর পিছু নিয়েছে। প্রবল স্বরে উড়ে চলেছে তার পিছু পিছু। সে স্বর বেশ উচ্চগ্রামের।

আর চাতকব্রত? কালিদাসেরই ‘মালবিকাগ্নিমিত্রম্’ নাটকে বিদূষক চাতকব্রতের ব্যাখ্যা করেছেন। সত্যচরণের বাংলা অনুবাদে তা এই রকম, “আমি শুষ্ক মেঘগর্জ্জিত অন্তরীক্ষে জলপানের প্রার্থনায় চাতকব্রত অবলম্বন করিয়াছি।” বৃষ্টি ছাড়া অন্য উৎস থেকে জল পান না করার এই ধারণার বৈজ্ঞানিক সত্যতা নেই। অজয় হোমের ‘চেনা অচেনা পাখি’র চাতক পর্বটির শুরুটা একটু পড়ে নেওয়া যেতে পারে— “মনের মধ্যে একটা ভুল ধারণা একবার যদি গেঁথে যায়, তা আর কিছুতেই যেতে চায় না। সেই ভুল ধারণার মূল উৎস কিংবদন্তি, প্রচলিত লোকবিশ্বাস এবং বহু কবির কাব্যে তার ব্যবহার। এই রকম একটা পাখির সম্বন্ধে ভুল ধারণাটাকে ত্যাগ করতে বহু বছর লেগেছিল। নির্ভুল নামটা হিন্দিতে পেয়েছি কিন্তু বাংলায় কোথাও পাইনি, এমনকি বহু পুরাতন আদি পক্ষীতত্ত্বের বইতেও নয়। ডঃ সত্যচরণ লাহার ‘কালিদাসের পাখী’ (১৯৩৪) বইতে পূর্ণ আলোচনা থাকা সত্ত্বেও ১৯৫০ সালে যখন যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ‘পশুপক্ষী’ বইটিকে পরিশোধিত ও পরিবর্তিত করেছি, তখনও সেখানে পুরনো ভুলটিকেই রেখে দিয়েছি। সংস্কার ছাড়তে পারিনি।”

কিন্তু সংস্কৃত সাহিত্যের চাতক আর পশ্চিমের পক্ষিবিদদের চাতক কি এক? সত্যচরণ এ বিষয়ে আক্ষেপ করে বলেছেন, “আমাদের কবিগণ যদি ময়ূরের মত চাতকের রূপ বর্ণনা করিতেন, তাহা হইলে সে বাস্তবিক কোন জাতীয় পক্ষী তাহার নির্দ্ধারণ করিতে কিছু মাত্র বেগ পাইতে হইত না।”

পরভৃৎ ও পরভৃত

ছন্দের গুঁতো খেয়ে পড়ুয়াদের ‘চোখ থেকে অবিরল অশ্রু গড়ায়’। ছন্দেই সে কথা বলে গিয়েছেন কবি। ব্যাকরণ ক্লাসেও কি কম হেনস্থা হতে হয়! ণত্ব, ষত্ব ছেড়েই দেওয়া যাক। সে জ্ঞান অনেক বড় বয়স পর্যন্ত অনেকের আয়ত্তে আসে না (উভয়ার্থেই)। সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দের সারণি মুখস্থ করাও কি কম হ্যাপা ছিল নাকি? চাস আর চাষের যে আকাশ-পাতাল তফাত! তেমনই পরভৃৎ আর পরভৃত। যে পাখি অন্যের ছানাকে খাইয়েদাইয়ে বড় করে, সে পরভৃৎ। কাকের বাসায় কোকিল ডিম দেয়। কাক কোকিলছানাকে পুষ্ট করে। তাই কাক হল পরভৃৎ। আর পরভৃত সে, যে অন্য পাখি দ্বারা পালিত হয়। সাধারণত কোকিল। কিন্তু বাংলার স্যর ক্লাসে পড়া ধরলে কাক-কোকিলে গুলিয়ে ফেলা স্বাভাবিক।

ঘটনা হল, কোকিলের মতো চাতক পাখিও পরভৃত। সেও ছাতারে এবং অন্য পাখির বাসায় ডিম দেয়। কাকের বাসায় কোকিল-ছা কোনও দিন চাক্ষুষ হয়নি, আশপাশের নারকেল গাছে বেশ কয়েক বার কাক বাসা করলেও। সে পাখি গৃহস্থের হাঁস-মুরগির ছানা সাবাড় করেছে, তার ছানা মেরে ফেলা বালকের মাথায় এন্তার ঠুকরে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছে, কিন্তু কোকিলের বাচ্চাকে খাইয়ে দেওয়া চোখে পড়েনি। কিন্তু চাতকছানাকে খাইয়ে দিচ্ছে ছাতারে— সে দৃশ্যের সাক্ষী হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে।

নজরে এসেছিল আচমকাই। বাগানে পাখির জন্য জলের সরা দেওয়া থাকে। বছরভর নানা পাখিই আসে। ছাতারেগুলো রোজ। এক দিন একটা অচেনা পাখি দেখা গেল। ছাতারের দলেই। মাটিতে বসে ডানা কাঁপিয়ে হ্যা-হ্যা করছে। বায়নাকুটে বাচ্চারা যেমন খাবার দেখলেই হ্যা-হ্যা করে। প্রথম দিন অসুস্থ মনে হয়েছিল পাখিটাকে। বেশি ক্ষণ থাকেনি। দ্বিতীয় দিন আবার দেখা গেল। ছবি তুলে পাঠানো গেল এক পাখিপ্রিয় বন্ধুর কাছে। তিনি জানালেন, এটি চাতকের ছানা। ব্যাটা পরভৃত।

স্কুলজীবনে দেখলে স্যরকে পরভৃতের উদাহরণ চাতক দেওয়া যেত। ‘জরা হটকে’ হত না কি!

বাংলার বারি?

আমগাছে মুকুল হলে কী মনে হয়? বসন্তের কথা, কাঁচা আম মাখা, আম তেল, আমসত্ত্ব, কত কী! একটা ছেলের মনে পড়ত মামার বাড়ির কথা। মুকুল থেকে গুটি, তার পর আমের কুসি… আর একটু বড় হলে গরমের ছুটি। মামার বাড়ির ট্রেন ধরা।

মানুষের মতো পাখি-প্রাণীদেরও মরসুমি যাতায়াত রয়েছে। ভাল কথায় যাকে পরিযাণ বলে। ব্রাজ়িলের আমাজ়ন নদীর ডোরাডো ক্যাটফিশ যেমন। বাঁচে ১২-১৫ বছর। এই সময়ের মধ্যে আট হাজার থেকে বারো হাজার কিলোমিটার নদীপথ পার করে। সফর শুরু হয় আন্দিজ় পর্বতের পাদদেশের পাহাড়ি নদী থেকে। সেখানেই জন্ম তার। গিয়ে পৌঁছয় অতলান্তিক মহাসাগর ও আমাজ়নের মোহনায়। সেখানে প্রচুর খাবার। মোহনায় কাটায় দু’তিন বছর। খেয়েদেয়ে শক্তপোক্ত হয়ে নেয়। তার কোনও এক দিন ‘গুরু গুরু মেঘ গুমরি গুমরি গরজে গগনে গগনে’। বড় হয়ে যাওয়া ডোরাডো বোঝে, এ বার ফেরার পালা। প্রবল বর্ষায় আমাজ়ন অববাহিকা তখন জলপথের জাতীয় সড়ক। সরু ধারা স্রোতস্বিনী হয়েছে। উল্টো যাত্রায় পূর্ণবয়স্ক ডোরাডো আবার ফিরে আসে আন্দিজ়ের পাদদেশে।

পরিযায়ী প্রাণীরা বর্তমানে নানা বাধার সামনে পড়ে। রাষ্ট্রপুঞ্জ এই জন্যই প্রচার করছে, প্রাণীদের কোনও সীমান্ত হয় না। তারা যে সব দেশের অতিথি, তাদের সবাইকে একজোট হয়ে রক্ষা করতে হবে ওদের। মানুষের ক্ষেত্রেও এমনটাই ভাবা উচিত।

প্রকৃতির সন্তানদের মানুষের তৈরি সীমানায় আটকে রাখা উচিত নয়। কিন্তু চাতকের কী হবে? ছোটবেলা থেকে যে আমরা পড়ে এসেছি, যেখানে চাতক বারি যাচে সেটাই বাংলাদেশ!

বড়রা কী বলছেন দেখা যাক। ‘পপুলার হ্যান্ডবুক অব ইন্ডিয়ান বার্ডস’ বইয়ে হিউ হুইসলার বলছেন, চাতক পাখিটি ভারতের অধিকাংশ স্থানে বর্ষার আগন্তুক মাত্র। অন্য সময়ে পাখিগুলো এমন এক জায়গায় থাকে সেখানকার আবহাওয়া বিশেষ ভাবে স্যাঁতসেঁতে। হুইসলারের লেখায় পাওয়া যায়, পূর্ব ও দক্ষিণ ভারত ছাড়াও বর্মা (এখন মায়ানমার) এবং আফ্রিকার বড় অংশে এই পাখির দেখা মেলে। তাঁর ধারণা, পাখিটা গরমে ভারতে ও শীতে আফ্রিকায় কাটায়। বম্বে ন্যাচরাল হিস্ট্রি সোসাইটি-র জার্নালে হুইসলারের লেখা ‘দ্য মাইগ্রেশন অব পায়েড ক্রেস্টেড কাক্কু (ক্লামাটর জ্যাকোবিনাস)’ অনুযায়ী, বাংলায় চাতকের দেখা বর্ষার সময়ে মিলেছে। হুইসলার চাতককে ‘বর্ষার অতিথি’ বলেছেন।

স্টুয়ার্ট বেকারের ‘ফনা অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়া’ অনুযায়ী, পায়েড ক্রেস্টেড কাক্কুর সারা ভারতেই মেলে। উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে— আফগানিস্তান, বর্মা (এখন মায়ানমার)। পাওয়া যায় দক্ষিণ আফ্রিকার বেশ বড় অংশেও। ভারতের বিভিন্ন অংশে জুন-জুলাইকেই প্রজননের সময় বলা হয়েছে। অন্যের বাসায় ডিম পাড়ে।

অজয় হোম ‘চেনা অচেনা পাখি’তে চাতকের বাসস্থান সম্পর্কে বলছেন, “অনুমান করা হয় আফ্রিকাতে। কিন্তু সঠিক প্রমাণ নেই পরিযায়ী হয় কি না। আংটি পরিয়েও দেখা হয়নি। সুতরাং এদের যাওয়া-আসার পথ আলাদা ও হেঁয়ালিপূর্ণ।”

এই হেঁয়ালির জবাব ওই রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রচারে। পরিযায়ীদের কোনও সীমান্ত হয় না। তারা যখন বাংলার অতিথি, তখন বাংলার কবি তাঁকে কবিতায় স্থান দিতে পারেন বইকি। আফ্রিকায় দেখা গেলে সেখানকার কাহিনিতে রূপক হয়ে উঠলে আপত্তির কিছু নেই। বরং মানুষের আগ্রহ বাড়ে। রক্ষা করতে মন চায়। আফ্রিকার কথা জানা নেই। ভারতের রাজস্থানেই চাতক আছে কবিতায়। রাজস্থানি কবি কানহাইয়ালাল শেঠিয়ার লোককবিতা হয়ে ওঠা ‘হরে ঘাস রী রোটি’তে চাতকের উল্লেখ রয়েছে মহারানা প্রতাপ সিংহের উক্তিতে। আকবরের সঙ্গে সন্ধিস্থাপনের প্রস্তাবে তিনি যা বলেছিলেন তার মর্মার্থ, প্রতাপ যে দিন মাথা ঝোঁকাবে, সে দিন চাতক মাটি থেকে জল খাবে।

পাখি দেশান্তরি হয়। দু’দেশের সীমান্তের কাঁটাতারে বসে দু’পারের রক্ষীদের দেখে। তার ডানায় দেশান্তরি হয় লোককাহিনিগুলোও। অভিশাপের ফলে চাতক পাখির জল যাচার কাহিনিটা দক্ষিণ ভারতেও প্রচলিত। সংগ্রাহক সেই শরৎচন্দ্র মিত্র। গল্পটি এ রকম, এক গোচারক পবিত্র গরুকে তৃষ্ণার জল দেয়নি। তাই বিষ্ণু তাকে শাস্তি দেয় পাখি হয়ে জন্মানোর। এমন পাখি যার ঠোঁটটি বিশাল। সে শুধু মাথা উঁচু করে বৃষ্টির জল পান করতে পারবে। আর কোনও জল নয়। পাখিটিনাকি ধনেশ। ফ্রান্সে এই কাহিনিই বর্তাবে কাঠঠোকরার উপরে।

ঘরে ফেরার গান

ঘুরতে যাওয়ার ঝোঁক আছে দল বেঁধে। অচেনা, আধচেনা জায়গা বেশি পছন্দের। এক জায়গায় গিয়ে আর এক জায়গার সন্ধানও মিলেছে। সে রকমই এক সফরে ভূতুড়ে গ্রাম দেখতে হাজির এক খনি এলাকায়। রেল ক্রসিংয়ের গেট পড়ে গিয়েছিল। খুলতে দেরি হবে। বাজার এলাকার সাহায্যকারী ভদ্রলোক ভাড়া করা টোটোচালক দাদাকে বলেছিলেন, খাদান দেখিয়ে আনতে। পাথর খাদান দেখার অভিজ্ঞতা ছিল। কয়লা খাদান এই প্রথম। দেখার কী থাকতে পারে ভাবতে ভাবতেই যাত্রা। উল্টোপথে আসছিলেন কয়েক জন। তাঁদের কেউ ছোট্ট বাইকে বস্তা চাপিয়ে চলেছেন। কেউ সাইকেলে। ঠেলতে ঠেলতে, ঢালু জায়গায় একটুখানি প্যাডেলে পা দিয়ে গড়িয়ে নিয়ে ফেরা। ঠেলার কষ্ট যদি ক্ষণিকের স্বস্তিতে বদলানো যায়। টোটোচালকদাদা বললেন, বস্তায় সব চোরাই কয়লা। খনি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন খুঁড়ে কয়লা বার করে। যাকে ‘র‌্যাট হোল মাইনিং’ বলে। এটাই জীবিকা অনেকের। আইনের চোখে নিষিদ্ধ।

ভালই লেগেছিল খাদান। রুক্ষতারও একটা সৌন্দর্য থাকে। খুঁড়ে নেওয়া সম্পদের জায়গায় বিশাল বিশাল গর্ত। সেখানে জল জমে রয়েছে। অনেক উঁচু থেকে সে জলের রং সবুজ দেখাচ্ছিল। ফাঁকা প্রান্তরের মাঝে বিশাল একটা গর্ত আশ্চর্য দৃশ্য তৈরি করেছে। ছবি তোলা চলছে। হঠাৎ টোটোচালকদাদা একটা দিকে আঙুল তুলে বললেন, “ওই জায়গায় খনিতে ধস নেমেছিল। অনেক লোক চাপা পড়ে গিয়েছিল।” ইঁদুর গর্তের মতো করে কয়লা কাটতে ঢুকেছিলেন লোকগুলো। কয়লা কাটতে কাটতে হঠাৎ ধস নামে। সরকারি ঘোষণায়, উদ্ধার করা গিয়েছিল দু’-তিন জনকে। চাপা পড়ে রয়ে যাওয়াদের সংখ্যাটা নাকি অনেক গুণ বেশি। আসল সংখ্যাটা কোনও দিনও জানা যাবে না।কারণ কয়লা কাটাই নিষিদ্ধ. স্থানীয় প্রশাসন চাপে পড়ে যাবে।

চাপা পড়া লোকগুলোর ছেলেমেয়ে আছে? হয়তো জানলার ধারে বসে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বাবার ফেরার অপেক্ষা করে। জীবন এখানে এমনিতেই কঠিন। বাড়ির পুরুষটা চলে যাওয়ায় আরও কঠিন হয়েছে সে জীবন। সব কিছু সামলাতে সামলাতে বধূটিও কি রাস্তার দিকে আড়চোখে চেয়ে দেখে না? আশা করে না, এই বুঝি কয়লার বস্তা চাপানো সাইকেল ঠেলতে ঠেলতে লোকটা এসে দাঁড়াবে দরজার সামনে।

এ চাতকব্রত কি শেষ হওয়ার?

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন