Egyptian Mummy

মিশরীয় মমির সঙ্গে এই প্রথম মিলল সাহিত্যের নিদর্শন! প্যাপিরাসে লেখা গ্রিক মহাকাব্যের অংশ মিলল মমিতে

আজ থেকে প্রায় ২৮০০ বছর আগে গ্রিক মহাকাব্য ‘ইলিয়াড’ লিখেছিলেন হোমার। প্রাচীন গ্রিসে বসে রচিত হয়েছিল সেই মহাকাব্য। এ বার সেই মহাকাব্য ইলিয়াডের একটি অংশ মিলল মিশরের এক সমাধিতে শায়িত মমির সঙ্গে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ০৮:৫৮
Share:

মিশরের আল বাহনাসায় খুঁজে পাওয়া মমি। ছবি: সংগৃহীত।

মিশরের ইতিহাস যেমন সুপ্রাচীন, তেমনই রহস্যময়। গত কয়েক দশকে মিশরের বিভিন্ন পিরামিডে অভিযান হয়েছে। ফ্যারাওদের সমাধি আবিষ্কৃত হয়েছে। বিভিন্ন মমির সন্ধান মিলেছে। কিন্তু রহস্য এখনও কাটেনি। এই যেমন, সম্প্রতি এক মমির থেকে পাওয়া গিয়েছে গ্রিক মহাকাব্যের লিপি। এমন জিনিস অতীতে আবিষ্কৃত কোনও মমিতে পাওয়া যায়নি।

Advertisement

আজ থেকে প্রায় ২৮০০ বছর আগে গ্রিক মহাকাব্য ‘ইলিয়াড’ লিখেছিলেন হোমার। প্রাচীন গ্রিসে বসে রচিত হয়েছিল সেই মহাকাব্য। এ বার সেই মহাকাব্য ইলিয়াডের একটি অংশ মিলল মিশরের এক সমাধিতে শায়িত মমির সঙ্গে। মমির বয়স আনুমানিক ১৬০০ বছর। গবেষকদের দাবি, এই প্রথম কোনও সাহিত্যের নমুনা পাওয়া গেল মিশরীয় মমির সঙ্গে। সমসাময়িক এবং এর চেয়েও প্রাচীন অনেক মমির সঙ্গেই প্যাপিরাসের টুকরো পাওয়া গিয়েছে। তাতে যা লেখা ছিল, সেগুলিকে মূলত ধর্মীয় মন্ত্র বলেই ধরে নেওয়া হয়। তবে কোনও সাহিত্যের নিদর্শন এর আগে মিশরে আবিষ্কৃত কোনও মমিতে পাওয়া যায়নি।

মমিটি পাওয়া গিয়েছে মিশরের প্রাচীন শহর অক্সিরিঙ্কাসে। এখন অবশ্য এই অঞ্চলটি পড়ে মিশরের আল বাহনাসায়। রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে। অতীতে গ্রিক-রোমান যুগের এক গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিল এটি। সম্প্রতি স্পেনের বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই শহরে প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযান চালান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ববিদ ইগনাসি-জ়েভিয়ার আদিয়েগোর কথায়, “এটি আমাদের কাছে একটি বড় সাফল্য। প্রাচীন মিশরে শেষকৃত্যের প্রক্রিয়ায় যে সাহিত্যকর্মকেও ব্যবহার করা হত— এটা আমরা এত দিন জানতামই না।”

Advertisement

বহু বছর ধরে সমাধির তলার পড়ে থাকার ফলে প্যাপিরাসটি টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। তবে ওই জীর্ণ প্যাপিরাসকেও প্রাথমিক বিশ্লেষণ করা গিয়েছে। গবেষকেরা নিশ্চিত হয়েছেন এটি গ্রিক মহাকাব্য ইলিয়াডের অংশ। তবে এই প্যাপিরাসটি আরও বিশ্লেষণ করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। আদিয়েগোর কথায়, “প্যাপিরাসটিকে নষ্ট না করে যতটুকু করা সম্ভব, সাধ্যমতো সবটাই করেছি আমরা। তবে এক্স-রের মাধ্যমে এটার বিশ্লেষণ করলে আরও ভাল ভাবে পুরো বিষয়টা বোঝা যাবে।”

প্রাচীন মিশরে মৃতদেহ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্যাপিরাসের কী ভূমিকা রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্যাপিরাসে বিভিন্ন লেখা পাওয়া যায় মিশরীয় মমিগুলিতে। গবেষকদের একাংশের অনুমান, মৃতদেহগুলিকে যাঁরা মমিতে পরিণত করতেন, সম্ভবত তাঁদেরই কোনও ‘স্বাক্ষর’ হিসাবে ব্যবহার করা হত প্যাপিরাসগুলিকে। সেগুলিতে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ থাকত। যা থেকে অনেকেই সেগুলিকে ধর্মীয় মন্ত্র বা সমতুল কিছু বলে মনে করেন। তবে গ্রিক মহাকাব্যের অংশ মমির মধ্যে থাকা প্যাপিরাসে পাওয়ায় কিছুটা অবাক হয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। কেন এমন একটি প্যাপিরাস খণ্ড মমির থেকে পাওয়া গেল, তার কোনও ব্যাখ্যা প্রাথমিক ভাবে খুঁজে পাননি স্পেনের ওই গবেষকদল।

অক্সিরিঙ্কাসে খুঁজে পাওয়া অন্য মমিগুলির থেকেও তাদের জীবদ্দশার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না। শুধু এটুকুই জানা যায় যে মমি সংরক্ষণের ব্যয়ভার বহন করার জন্য তাদের পরিবার যথেষ্ট বিত্তবান ছিল। মিশরের পর্যটন ও পুরাতত্ত্ব বিষয়ক মন্ত্রক জানিয়েছে, খননকার্যের সময়ে সেখানে তিনটি চুনাপাথরের সমাধি আবিষ্কৃত হয়েছে। তার মধ্যে বেশ কয়েকটিতে মমিও পাওয়া গিয়েছে। মিশরের সরকার জানিয়েছে, ওই মমিগুলির মধ্যে তিনটির জিভে সোনার পাত এবং একটির জিভে তামার পাত বসানো ছিল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement