Human Chin

শুধু মানুষেরই রয়েছে চিবুক! বিজ্ঞানীরা বলছেন, নেহাতই ‘দুর্ঘটনার ফল’

আগেও বেশ কয়েক জন বিজ্ঞানী একই কথা বলেছিলেন। তাঁদেরও মত ছিল যে, চিবুকের আদতে কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। বিজ্ঞানীরা বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে সিঁড়ির প্রসঙ্গ তুলেছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৯
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

অন্য কোনও প্রাণীর নেই। ভূ-ভারতে একমাত্র মানুষেরই রয়েছে চিবুক। কিন্তু কেন? কোন কাজে লাগে চিবুক? আধুনিক মানব বা হোমো স্যাপিয়েন্সের কাছের জীব শিম্পাঞ্জিরও নেই চিবুক। তা হলে মানুষের কেন? বিজ্ঞানীদের একাংশ বলেন, প্রয়োজনে নয়, বরং বিবর্তনের ধারাতেই মানুষের মুখে ঝুলে রয়েছে চিবুক।

Advertisement

আদিম মানব প্রজাতি নিয়ানডারথাল, ডেনিসোভানসদের চিবুক ছিল না। অন্য বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির কোনও প্রাণীরই চিবুক ছিল না। চিবুক নেই শিম্পাঞ্জিরও। একমাত্র আধুনিক মানুষেরই রয়েছে চিবুক, যা তাদের বাকি প্রাণীদের থেকে আলাদা করেছে। সে কারণে জীবাশ্ম থেকে খুব সহজেই চেনা যায়, তা আধুনিক মানুষের কি না।

নীচের চোয়ালের হাড়ের প্রক্ষেপণ হল চোয়াল। কিন্তু তার কাজ কী? নিউ ইয়র্কের ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোর অ্যানথ্রোপলজি (নৃতত্ত্ববিজ্ঞান) বিভাগের এক দল বিজ্ঞানী এই নিয়ে গবেষণা করেছেন। সেই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ‘প্লস ওয়ান’ নামে একটি জার্নালে। অধ্যাপক নোরিন ভন ক্র্যামন টবাডেল জানিয়েছেন, চিবুকের বিবর্তন কিছুটা ‘দুর্ঘটনাবশত’। করোটির বর্ধিত অংশ হিসাবে রয়েছে সে।

Advertisement

বিজ্ঞানীরা বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে সিঁড়ির প্রসঙ্গ তুলেছেন। তাঁরা জানান, সিঁড়ির নীচে যেমন ত্রিভুজের মতো একটি জায়গা থাকে, তেমন আমাদের মুখের নীচে রয়েছে চিবুক। সিঁড়ির নীচে ওই অংশের এমনিতে স্থাপত্যগত দিক থেকে কোনও গুরুত্ব নেই। তবে একতলা থেকে উপরের তলায় ওঠার জন্য তাকে বাদ দিলে চলবে না। তেমনই আমাদের চিবুক। বিজ্ঞানী ভন জানিয়েছেন, বেঁচে থাকার জন্য চিবুকের কোনও প্রয়োজন নেই। নীচের চোয়ালকে খাবার চেবাতে সাহায্য করে মাত্র। চিবুককে তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘বাইপ্রোডাক্ট’ অর্থাৎ কিছু তৈরির সময় যখন অযাচিত কিছু তৈরি হয়ে যায়।

ভনদের আগেও বেশ কয়েক জন বিজ্ঞানী একই কথা বলেছিলেন। তাঁদেরও মত ছিল যে, চিবুকের আদতে কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। দুর্ঘটনাবশতই তা রয়েছে মুখমণ্ডলে। বিজ্ঞানীরা বুঝিয়ে বলছেন, বিবর্তনের সময়ে যখন মানুষের মস্তিষ্কের নকশা করা হচ্ছিল, তখন চোয়ালের নীচে বেশ কিছুটা অংশ ‘অতিরিক্ত’ হয়ে পড়ে ছিল। সেই অংশই হল চোয়াল। শিম্পাঞ্জির চোয়াল নেই, কারণ তাদের করোটির আকৃতির জন্য। অর্থাৎ বলা যায়, সেই করোটির যখন বিবর্তন হচ্ছিল, তখন চোয়ালের নীচে অতিরিক্ত কোনও জায়গা বাঁচেনি তাদের। সে কারণে চোয়াল নেই শিম্পাঞ্জির।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement