বাচ্চাদের টিফিন দেওয়া নিয়ে মায়েরা হামেশাই হিমশিম খান। আগে ছোটবেলায় টিফিনে নিয়ে যেতাম রুটি-তরকারি। মায়ের তৈরি আলুপোস্ত ছিল আমার স্কুলের বন্ধুদের হট ফেভারিট। কোনও কোনও দিন মা পরোটা বা লুচি দিতেন। খুব বেশি হলে বাড়িতেই অল্প তেলে ডিমের উপর রুটি রেখে ভেজে দিতেন রুটি-রোল। আমার ঠাকুমা এক বার বুদ্ধি দিয়েছিলেন এক অভিনব টিফিনের। পাতলা রুটির মাঝখানে শুকনো শুকনো আচার মাখিয়ে রোল বানিয়ে দেওয়া হত। পাশে থাকত জিরে ফোড়ন দেওয়া আলুর শুকনো তরকারি। তাই-ই খেয়ে নিতাম হাপুসহুপুস। এখন দিন বদলেছে। বেড়েছে কাজের ব্যস্ততাও। আলুপোস্ত দিয়ে রুটি খাবার খুদে পড়ুয়াদের সংখ্যাও কমছে প্রতিনিয়ত। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই আজকের রেসিপি হল কাপ-পিৎজা। এ পিৎজায় চিজ, মাখন সবই আছে, কিন্তু তা নামমাত্র। থাকছে মরসুমি সবজির পুর, অথচ স্বাদে কোনও খামতি নেই। আর আপনার বাচ্চাও খেয়ে নেবে সোনা মুখ করে।
উপকরণ:
পাঁউরুটি— ৬টি (সাদা)
মাখন— ২ চা-চামচ
চিজ— ২ টেবিল চামচ (কুরনো)
পেঁয়াজ— ১টি (ছোট)
ক্যাপসিকাম— ১/২
টোম্যাটো— ১/২
সুইট কর্ন— ২ টেবিল চামচ
টোম্যাটো সস— ২ চা-চামচ
নুন— স্বাদ মতো
গোলমরিচ গুঁড়ো— স্বাদ মতো
অরিগ্যানো— সামান্য
প্রণালী:
প্রথমে পাঁউরুটির ধার গুলো ছুরি দিয়ে ভালো করে কেটে নিন। এ বার বেলন দিয়ে হালকা করে এক বার পাঁউরুটি গুলো সামান্য বেলে নিন। একটি পাত্রে পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম, টোম্যাটো কুচি করে রাখুন। সুইট কর্নের দানা, নুন, গোলমরিচ গুঁড়ো আর টোম্যাটো সস কাটা সবজিতে ভালো করে মেশান। এ বার মাফিনের মোল্ডে ভালো করে মাখন লাগিয়ে গ্রিজ করে নিন। বেলে রাখা পাঁউরুটির টুকরো গুলে চেপে চেপে মোল্ডে বসিয়ে দিন। চামচে করে ভিতরে সবজির পুর ভরে দিন। উপর থেকে চিজ আর অরিগ্যানো ছড়িয়ে দিন। এ বার ওভেনের ভিতর ১৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ১৫ মিনিট ধরে বেক করুন। হালকা সোনালি রং ধরতে শুরু করলে বের করে নিন। সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
(মোজারেলা চিজ নিলে ভালো হবে। তবে চিজ শুধুমাত্রই উপরে ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করুন। অরিগ্যানো পেয়ে যাবেন যে কোনও বড় দোকানে।)