Vaibhav Sooryavanshi

১৪ বছরের বৈভব হাজির বিজ্ঞাপনে, দ্রাবিড়ের ছত্রছায়া থেকে বেরোতেই কি খুলে গেল দরজা?

১৬ বছর বয়সে প্রথম বিজ্ঞাপনের মুখ হয়েছিলেন সচিন তেন্ডুলকর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কপিল দেব। বৈভব সূর্যবংশী ১৪ বছরে একাই বিজ্ঞাপনের মুখ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৫
Share:

বৈভব সূর্যবংশী। —ফাইল চিত্র।

রত্ন চিনতে ভুল করেননি রাহুল দ্রাবিড়। ট্রায়ালে দেখা ১৩ বছরের কিশোরকে আইপিএলের নিলামে কিনে নিয়েছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের প্রাক্তন কোচ। বিহারে ছোটদের ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিং করে সামান্য পরিচিতি পাওয়া সেই বৈভব সূর্যবংশীই এ বারের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার। ১৪ বছরের বৈভব এখন শুধু ভবিষ্যৎ ভারতীয় ক্রিকেটের মুখ নয়। বিজ্ঞাপনেরও মুখ।

Advertisement

গত বছর আইপিএলের সময় থেকেই বৈভবের উপর নজর ছিল বহুজাতিক সংস্থাগুলির। আগলে রেখেছিলেন দ্রাবিড়। বৈভবের ধারে কাছে ঘেঁষতে দেননি সংস্থাগুলিকে। তাঁর অনুমতি ছাড়া দলের বাইরের কারও বৈভবের কাছে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। এমনকি রাজস্থানের সব স্পনসর সংস্থাও তাদের বিজ্ঞাপনে বৈভবকে ব্যবহার করতে পারেনি। দ্রাবিড়ের অনুরোধে ১৩ বছরের বৈভবের সব দায়িত্ব নিয়েছিলেন রাজস্থান কর্তৃপক্ষ। সেই জমানায় আইপিএল দলের অ্যাকাডেমিই হয়ে উঠেছিল বৈভবের আস্তানা। বৈভবের বাবাকে ডেকে দ্রাবিড় বলেছিলেন, ক্রিকেটার ছেলেকে ব্যবহার করে রোজগারের কথা ভাবলে হবে না।

রাজস্থানে দ্রাবিড় জমানা অতীত। বৈভবও রাজস্থানের গণ্ডি ছাড়িয়ে এগিয়ে গিয়েছে। আইপিএলের বাইরে পা রেখেছে। ১৪ বছরের ব্যাটার ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য। এই পর্যায়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী। বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ফাইনালে ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংস খেলার পর বৈভবকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রিকেট বিশ্বে। এশিয়া কাপেও নজর কেড়েছিল বৈভবের পারফরম্যান্স।

Advertisement

কিশোর ক্রিকেটারের ব্যাটে যত রান এসেছে, বহুজাতিক সংস্থাগুলির আগ্রহ তত বেড়েছে। বিজ্ঞাপন নির্মাতাদের লাইন লম্বা হয়েছে। বৈভবকে নিয়ে আগ্রহীদের মধ্যে রয়েছে একাধিক খাদ্য-পানীয়, ই-কমার্স, স্বাস্থ্যকর পানীয়, ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা। অন্তত ১৫টি সংস্থা তাকে বিজ্ঞাপনের মুখ হিসাবে পেতে চায়। দ্রাবিড়ের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বৈভবের কাছে পৌঁছোনোও এখন আগের তুলনায় সহজ।

ছোটদের বিশ্বকাপ জিতে রবিবার দুপুরে ভারতে ফিরেছে বৈভবেরা। আর সোমবার সকালে একাধিক সংবাদপত্রের পাতায় দেখা গিয়েছে বৈভবের ছবি। দল ফেরার খবরের সঙ্গে নয়। ছোটদের বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকারও নয়। একটি পরিচিত স্বাস্থ্যকর পানীয়ের বিজ্ঞাপনে বৈভব। ডান হাতে ব্যাট, মুখে হাসি, বাঁ হাতে পানীয়ের কাপ। ১৪ বছর বয়সেই বহুজাতিক সংস্থার বিপণন দূত বৈভব।

লুকঅ্যাড অ্যাডভার্টাইজ়িং-এর এমডি মনোজ লুনিয়ার বক্তব্য, ‘‘বৈভবের উপর অনেকদিন ধরেই সংস্থাগুলোর নজর রয়েছে। যে সংস্থার বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে, তারা নিশ্চিত ভাবে আগেই ওর সঙ্গে চুক্তি করে রেখেছিল। সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। এই মুহূর্তে বৈভবের চেয়ে সম্ভাবনাময় নতুন মুখ দেশে দ্বিতীয় নেই। আরও বিজ্ঞাপনে ওকে দেখলে অবাক হব না। তবে ওর বয়স ১৪। নাবালক হওয়ায় যে কোনও পণ্যের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা যাবে না।’’

বেঙ্গল শ্রাচীর এমডি রাহুল টোডিও বিস্মিত নন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিজ্ঞাপন জগৎ সব সময় নতুন মুখ বা তারকার সন্ধানে থাকে। বৈভব নতুন মুখ। গত আইপিএল থেকে পারফর্ম করছে। আমি বিজ্ঞাপন দেখে একটুও অবাক হইনি। এটা হওয়ারই ছিল। এই যে আমরা আলোচনা করছি, লেখালিখি হচ্ছে, এর থেকেই বোঝা যায় বৈভবকে বিজ্ঞাপনের মুখ হিসাবে ব্যবহার করা কতটা লাভজনক। পরিকল্পনা কতটা সফল। আর বৈভব এখনও ফাঁকা রয়েছে। এখন ওকে পাওয়া সহজ। প্রতিযোগী সংস্থার আগে সকলে চুক্তি করার চেষ্টা করবে। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওই ইনিংসের পর বৈভবের চাহিদা আরও বাড়বে।’’

এমন সুযোগ সচিন তেন্ডুলকরও পাননি। তাঁকেও প্রথম বিজ্ঞাপনের মুখ হিসাবে ব্যবহার করেছিল একটি স্বাস্থ্যকর পানীয় সংস্থা। তখন তাঁর বয়স ১৬। সে সময় সচিনকে একা ব্যবহার করতে ভরসা পায়নি তারা। সচিনের সঙ্গে ছিলেন কপিল দেব। বৈভবের সঙ্গে কপিলের মতো খ্যাতনামী কেউ নেই।

বিজ্ঞাপন জগতের সঙ্গে যুক্তেরা বৈভবে মুগ্ধ হলেও সতর্ক। লুনিয়া বলেছেন, ‘‘বৈভবের বয়স কম। এত কম বয়সে এত কিছু পেলে মাথা ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত দু’এক বছরের চুক্তি করা হয়। বৈভব কোনও ভাবে বিগড়ে গেলে সংস্থাগুলির ভাবমূর্তির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবু এটুকু ঝুঁকি নিতেই হয়। কয়েক বছর পর বৈভব সকলকে ছাপিয়েও যেতে পারে। তখন টাকার থলি নিয়ে দৌড়োলেও ওকে পাওয়া যাবে না।’’ আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না টোডিও। তিনি বলেছেন, ‘‘অনেকেই আছে, যারা ছোট বয়সে দারুণ সাফল্য পেলেও পরে হারিয়ে গিয়েছে। টাটকা উদাহরণ পৃথ্বী শ। বৈভবকে খেলোয়াড়জীবন এবং ব্যক্তিগতজীবনে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হবে। ক্রিকেটকে প্রাধান্য দিতে হবে আগামী অন্তত ২০ বছর। দু’তিন বছরের সাফল্যে কিছু হবে না। ধারাবাহিক পারফর্ম করতে হবে। ওর অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে।’’

ছোটদের বিশ্বকাপ ফাইনালে একাই ইংল্যান্ডকে লড়াই থেকে ছিটকে দিয়েছিল বৈভব। বিজ্ঞাপন নির্মাতারা সম্ভবত মনে করছেন, এ ক্ষেত্রেও একাই পারবে বৈভব। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চির কিশোরকে সামনে রেখে এগোতে চাইছেন তাঁরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement