শাকিব আল হাসান। —ফাইল চিত্র।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার পরেই সে দেশের ক্রিকেটে হঠাৎ করে আলোচনায় শাকিব আল হাসান। শাকিবকে ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে বিদায়ী ম্যাচ খেলার জন্য নয়, শাকিবকে ফেরানোর নেপথ্যে এক বিশেষ লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশের। এই বিষয়ে শাকিবের সঙ্গে কথাও হয়েছে বোর্ডের।
‘ক্রিকবাজ়’ জানিয়েছে, বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ মহম্মদ আশরাফুল চান, যদি শাকিব সত্যিই বাংলাদেশ ক্রিকেটে ফেরেন, তা হলে তিনি যেন শুধুমাত্র বিদায়ী ম্যাচ খেলার কথা না ভাবেন। বদলে ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের কথা ভাবতে হবে শাকিবকে। সেই বিশ্বকাপে দলের সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটারকে প্রয়োজন হবে বাংলাদেশের।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডিরেক্টর আসিফ আকবর ‘ক্রিকবাজ়’-কে জানিয়েছেন, শাকিবকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজ় খেলবে বাংলাদেশ। ১২, ১৪ ও ১৬ মার্চ হবে তিনটি ম্যাচ। সেই সিরিজ়ে শাকিবকে ফেরানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরে মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ় খেলবে বাংলাদেশ। পাকিস্তান সুপার লিগের জন্য মাঝে বিরতি থাকবে।
‘ক্রিকবাজ়’-কে আসিফ বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত শাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। ও বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চায়। আশা করছি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে হতে চলা সিরিজ়ে শাকিব ফিরতে পারবে।” শাকিব এখন সপরিবার আমেরিকায় থাকেন। সেখান থেকেই বোর্ডের সঙ্গে তাঁর কথা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আসিফ।
তবে শাকিবের ফেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া খুনের মামলা। শাকিব দেশে ফিরলেই গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কি শাকিব আবার বাংলাদেশে ফিরবেন? আসিফ বলেন, “এগুলো আমাদের হাতে নেই। কিন্তু বোর্ডের বৈঠকে ২৫ সদস্যের মধ্যে প্রায় ২৩ জন উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকে শাকিবকে ফেরাতে চান।” আসিফ জানিয়েছেন, আইনি বিষয় নিয়ে দেশের সরকারের সঙ্গে কথা বলছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম। আসিফ বলেন, “আমাদের সভাপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারের সঙ্গে কথা বলার। আমাদের শাকিবকে দরকার। তাই আইনি জটিলতার বিষয়টা সরকারকে দেখতে হবে। ব্যস, এটুকুই আমরা চাই।”
২০২৪ সালে ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ়ের মাঝে শাকিব জানিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিচ্ছেন তিনি। দেশের মাটিতে শেষ বার খেলে টেস্ট থেকেও অবসর নিতে চান। এক দিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সেই সময় কিছু জানাননি শাকিব। কিন্তু তার পরেই বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। হাসিনার দলের সাংসদ শাকিবের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। তার পর থেকে আর বাংলাদেশে ফেরেননি শাকিব। আমেরিকাতেই রয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের তৎকালীন ক্রীড়া ও যুব উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট করে দেন, শাকিবকে আর কোনও দিন বাংলাদেশ দলে নেওয়া হবে না। তবে উপদেষ্টা পদে পরিবর্তন হয়েছে। নতুন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল শাকিবকে ফেরাতে চান বলেই খবর।
বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ আশরাফুল চান, প্রত্যাবর্তনের পর শুধু এক দিনের ক্রিকেটকেই পাখির চোখ করুন শাকিব। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগত ভাবে চাই শাকিব একটা ফরম্যাটই খেলুক। ঠিক যে ভাবে এখন মুশফিকুর শুধু টেস্ট খেলছে। শাকিবের উচিত শুধু এক দিনের ক্রিকেট খেলা। ওই ফরম্যাটেও ওর রেকর্ড দুর্দান্ত। ২০২৭ সালে এক দিনের বিশ্বকাপ আছে। সেখানে খেলতে ওর সমস্যা হবে না। একটা ফরম্যাট খেললে আরও তিন-চার বছর ও খেলতে পারবে।” এখন দেখার, বোর্ডের প্রস্তাবে শাকিব রাজি হন কি না।