উত্থান: নাইট সংসারে আশার আলো কার্তিক। —ফাইল চিত্র।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। চোট-আঘাত ক্রিকেটজীবনের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। ২০২৪-এ ক্রিকেটকে প্রায় বিদায় জানিয়ে ফেলেছিলেন। বল করতে গেলেই পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হত। বুঝতে পারতেন না কীসের ব্যথা?
বেশ কিছু পরীক্ষার পরে ধরা পড়ে ‘শিন স্প্লিন্টস’। অর্থাৎ পায়ের পেশিতে ক্রমাগত ব্যথা। দৌড়নোর পদ্ধতিই পাল্টে ফেলতে হয় তাঁকে। ২০২৫-এ আইপিএল নিলাম থেকে নাম তুলে নেন। একটি বছর বিশ্রাম নেন। নিজেকে নতুন ভাবে তৈরি করেন। উত্তরপ্রেদেশের টি-টোয়েন্টি লিগে ১১ ম্যাচে ১৮ উইকেট নেন। জায়গা ফিরে পান রাজ্য দলে। ২০২৬-এ আইপিএল নিলামে আবারও নাম দেন। কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে নেয় ৩০ লক্ষ টাকায়। তিনি— কার্তিক ত্যাগী। চলতি মরসুমে ১০ ম্যাচে তাঁর উইকেট সংখ্যা ১৩। কেকেআরের পেস বিভাগের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন উত্তরপ্রদেশের এই ২৫ বছরের পেসার।
যশপ্রীত বুমরার কাছে মূল্যবান পরামর্শ পেয়েছেন। গতিতে বল করার সঙ্গে কী ভাবে স্লোয়ার প্রয়োগ করা উচিত, রপ্ত করেছেন বুমরার কাছে। ভুবনেশ্বর কুমারের সঙ্গেও ট্রেনিং করেছেন। অভিজ্ঞ পেসারদের পরামর্শ কাজে লাগিয়েই আজ তিনি সফল। আনন্দবাজারকে কার্তিক বলছিলেন, ‘‘ভারতের একাধিক পেসারের পরামর্শ পেয়েছি। রাজ্য দলের হয়ে খেলার সময় ভুবি ভাইয়া আমাকে ট্রেনিং করাতেন। তাঁর কাছে অনেক কিছু শিখেছি। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে বুমরা ভাইয়ের সঙ্গে অনেক কথা হয়েছে। আমাকে বুঝিয়েছেন, প্রত্যেক দিন ক্রিকেট পাল্টাচ্ছে। আমাদের সময়ের সঙ্গে মানিয়ে উঠতে হবে। পেসারকে আগ্রাসী হতে হয়। আমাদের একটি লক্ষ্য নিয়ে বল করা উচিত। ধরা যাক, রান আটকানোর সময় এক রকম বোলিং, উইকেট পাওয়ার বোলিং আবার অন্য রকম। এগুলো যত দ্রুত বুঝতে পারব, ততই আমার উন্নতি হবে। বুমরা ভাইয়ের থেকে স্লোয়ার সম্পর্কেও অনেক কিছু শিখেছি। গতির সঙ্গে কী ভাবে স্লোয়ার মেশাতে হয়, রপ্ত করেছি।’’
কার্তিকের অন্যতম অস্ত্র স্লোয়ার বাউন্সার। ১৩ উইকেটের মধ্যে আট উইকেটই পেয়েছেন এই বল করে। আইপিএলের জন্যই কি এই বিশেষ কৌশল? কার্তিকের উত্তর, ‘‘বেশ কয়েক বছর ধরে স্লোয়ার বাউন্সারের উপরে কাজ করছি। গত বছর বাড়িতে বসে আইপিএল দেখতাম। লক্ষ্য করেছি, বোলাররা বেশি গতি প্রয়োগ করলেই রান দিয়ে ফেলছে। পাঁচ-ছ’ওভারের পরে বলের চকচকে ভাব কিছুটা নষ্ট হয়। পিচে বল থমকে আসে। আমাদের মতো পেস বোলারের কাছে স্লোয়ার বাউন্সার বড় অস্ত্র। এ বার বেশির ভাগ উইকেট এই বল করেই পেয়েছি।’’
২০২০-র অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তাঁর বোলিং অ্যাকশন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন জেসন গিলেস্পি। ‘পকেট বিঙ্গা’ নাম দিয়েছিলেন তাঁর। অর্থাৎ খুদে ব্রেট লি। কারণ, তাঁর অ্যাকশন ছিল ব্রেট লির মতো। কিন্তু ডেল স্টেন তাঁকে বুঝিয়েছিলেন, কারও অ্যাকশন অনুকরণ করে লাভ হয় না। নিজেকেই ভাল বল করার উপায় বার করতে হয়। স্টেনের কথা শুনেছেন কার্তিক। বলছিলেন, ‘‘এক সময় ব্রেট লির অ্যাকশন নকল করতাম ঠিকই। পেসারদের মধ্যে অনেকেই তাঁর মতো বল করতে চান। কিন্তু যত দিন গেছে আরও পরিণত হয়েছি। ডেল স্টেন বলেছিলেন, আমি যেন কারও অ্যাকশন নকল না করি। নিজের অ্যাকশনেই এখন বল করি। তাঁর কথা শোনার পরে আর কারও অ্যাকশন নকল করি না। যা করলে আমার উন্নতি হয়, সেটাই করি।’’
রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে একটি ম্যাচে শেষ ওভারে চার রান আটকে দলকে জিতিয়েছিলেন। ম্যাচটি সারা জীবনেও হয়তো ভুলতে পারবেন না। তার পর থেকে চোটের জন্য একটি মরসুমও পুরোপুরি খেলতে পারেননি। কখনও তিন ম্যাচ, কখনও চার ম্যাচেই শেষ হয়েছে তাঁর যাত্রা। কেকেআরের হয়ে টানা ১০ ম্যাচ খেললেন। কী ভাবে হল এই পরিবর্তন? কার্তিক বলেন, ‘‘অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজ়িতে কয়েক ম্যাচ খেলার পরে নয় চোট পেতাম, নয়তো বাদ পড়তাম। কেকেআরের প্রত্যেক কোচ আমার পাশে থেকেছেন। প্রস্তুতি ম্যাচে খেলিয়ে আমাকে তৈরি করেছেন। কোনও ভুল করলে ভিডিয়ো করে দেখিয়েছেন। এগুলোই তো আত্মবিশ্বাসবাড়াচ্ছে আমার।’’
টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে নাইট শিবির ফুরফুরে মেজাজে। কী মনে হচ্ছে, প্লে-অফে কেকেআর উঠতে পারবে? নির্দ্বিধায় বলে দিলেন, ‘‘একটি করে ম্যাচ ধরে এগোচ্ছি। প্লে-অফ নিয়ে আলোচনাই হচ্ছে না। লক্ষ্য অবশ্যই প্রথম চারের মধ্যে শেষ করার। আমাদের স্পিনাররা অসাধারণ বল করতে শুরু করেছে। মনে তো হচ্ছে প্রথম চারের মধ্যে থাকব।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে