IPL 2026

সবার নীচে নামল কেকেআর! সঞ্জুর শতরানে এ বারের আইপিএলে প্রথম জয় চেন্নাইয়ের, পর পর দু’ম্যাচে হার দিল্লির

অবশেষে চতুর্থ ম্যাচে প্রথম জয় পেল চেন্নাই সুপার কিংস। সঞ্জু স্যামসনের শতরানে ভর করে ঘরের মাঠে দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারাল তারা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৩০
Share:

ম্যাচ জিতে চেন্নাইয়ের ক্রিকেটারদের উল্লাস। ছবি: পিটিআই।

খাতা খুলল চেন্নাই সুপার কিংস। অবশেষে চতুর্থ ম্যাচে প্রথম জয় পেল তারা। সঞ্জু স্যামসনের শতরানে ভর করে ঘরের মাঠে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ২৩ রানে হারাল তারা। চেন্নাইয়ের জয়ে আইপিএলের পয়েন্ট তালিকায় সবার নীচে নেমে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তারাই একমাত্র দল, যারা এ বার এখনও পর্যন্ত কোনও ম্যাচ জিততে পারেনি। আইপিএলে ভাল শুরু করেও পর পর দু’ম্যাচ হেরে চাপ বাড়ল দিল্লি ক্যাপিটালসের উপর।

Advertisement

প্রথম তিন ম্যাচে রান ছিল না। তিন ম্যাচ মিলিয়ে করেছিলেন ২২ রান। সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। প্রশ্ন উঠছিল। অবশেষে সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিলেন সঞ্জু। চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে প্রথম শতরান করলেন তিনি। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ৫২ বলে শতরান করলেন ভারতীয় ব্যাটার। এটি আইপিএলে তাঁর চতুর্থ শতরান। এর আগে রাজস্থান রয়্যালস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের জার্সিতে তিনটি শতরান করেছেন সঞ্জু।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এ বারের নিলামের আগে সঞ্জুকে দলে পেতে মরিয়া ছিল চেন্নাই। রবীন্দ্র জাডেজা ও স্যাম কারেনের মতো দুই ক্রিকেটারকে দিয়ে সঞ্জুকে নিয়েছিল তারা। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বিকল্প হিসাবে সঞ্জুকে তৈরি করছে চেন্নাই। গত মাসে ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন সঞ্জু। ফলে তাঁর প্রতি প্রত্যাশা আরও বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রথম তিন ম্যাচে রান পাননি সঞ্জু।

Advertisement

তার পরেও ভরসা ছিল প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের। তিনি জানিয়েছিলেন, নতুন দলে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে। সঞ্জুর ফর্মে ফেরা সময়ের অপেক্ষা। সেটাই দেখালেন ডানহাতি ব্যাটার। শনিবার চিপকে সঞ্জু আগে থেকেই ঠিক করে নেমেছিলেন, বড় ইনিংস খেলবেন। শুরু থেকে তাঁর ব্যাটিং দেখে বোঝা যাচ্ছিল, ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন।

তিন ম্যাচে রান না পেলেও খেলার ধরন বদলাননি সঞ্জু। শুরু থেকে মেরে খেলছিলেন। অপর প্রান্তে অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না। ১৮ বলে ১৫ রান করে অক্ষর পটেলের বলে আউট হন তিনি। আয়ুষ মাত্রে নামার পর চেন্নাইয়ের রান তোলার গতি আরও খানিকটা বাড়ে। ২৬ বলে অর্ধশতরান করেন সঞ্জু। তার পরেও হাত খুলে মারতে থাকেন তিনি। সঞ্জুকে সঙ্গ দেন আয়ুষ। তিনিও অর্ধশতরান করেন।

Advertisement

তবে সঞ্জুর শতরানের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রয়েছে দিল্লির পাথুম নিসঙ্কের। ৫২ রানের মাথায় অক্ষরের বলে লং অফে সঞ্জুর সহজ ক্যাচ ছাড়েন তিনি। সেই ক্যাচ ধরতে পারলে হয়তো চেন্নাইয়ের রান ২০০ পার হত না। নিসঙ্কের সেই ভুলের মাশুল দিতে হয় দিল্লিকে। তার পর থেকে আরও হাত খুলতে শুরু করেন সঞ্জু।

একটা সময় দেখে মনে হচ্ছিল, ২৩০ রান হবে চেন্নাইয়ের। কিন্তু শেষ দিকে দিল্লির বোলারেরা রান আটকানো শুরু করেন। ফলে বাধ্য হয়ে আয়ুষকে অবসৃত আউট করা হয়। যদিও তাঁর রান কম ছিল না। ৩৬ বলে ৫৯ রান করেন তিনি। চেন্নাইয়ের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। আয়ুষকে তুলে নামানো হয় শিবম দুবেকে।

১৯তম ওভারে চার মেরে শতরান করেন সঞ্জু। তাঁর উল্লাসের ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছিল, কতটা স্বস্তি পেয়েছেন। শেষ দু’ওভারে আবার একটু রান হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২১২ রান করে চেন্নাই। সঞ্জু ৫৬ বলে ১১৫ ও দুবে ১০ বলে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন।

জবাবে রান তাড়ার শুরুটা ভালই করেছিল দিল্লি। নিসঙ্ক দ্রুত গতিতে রান তুলছিলেন। সঙ্গে ছিলেন লোকেশ রাহুল। পাওয়ার প্লে কাজে লাগাচ্ছিলেন তাঁরা। পাঁচ ওভারে ৬১ রান হয়ে যায় দিল্লির। কিন্তু পঞ্চম ওভারের শেষ বলে দিল্লিকে প্রথম ধাক্কা দেন খলিল আহমেদ। ১০ বলে ১৮ রান করে আউট হন রাহুল। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে নিসঙ্ককে আউট করেন অংশুল কম্বোজ। ২৪ বলে ৪১ রান করেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটার।

দিল্লির ইনিংস টানার দায়িত্ব ছিল অধিনায়ক অক্ষর ও ফর্মে থাকা সমীর রিজ়ভির। ঠিক তখনই নজর কাড়লেন সরফরাজ় খান। পয়েন্টে ফিল্ডিং করছিলেন সরফরাজ়। এত বছর এই জায়গায় দেখা যেত রবীন্দ্র জাডেজাকে। মাঠে পয়েন্ট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সপ্তম ওভারে গুরজপনীত সিংহের প্রথম বলে কাট মারেন দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর। বল হাওয়ায় ছিল। পয়েন্টের অনেকটা দূর দিয়ে বল যাচ্ছিল। ডান দিকে ঝাঁপান সরফরাজ়। একটা সময় তাঁর পুরো শরীর হাওয়ায় ছিল। দু’হাতে বল তালুবন্দি করেন। তার পর উঠে শুরু করেন উল্লাস।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সরফরাজ়ের ক্যাচ দেখে উচ্ছ্বসিত ধারাভাষ্যকারেরা। সঞ্জয় বাঙ্গার বলেন, “আমার তো প্রথমে দেখে মনে হয়েছিল, জাডেজাকে দেখছি। কী স্ফূর্তি। যে ভাবে ঝাঁপাল, তাতে এর পর সরফরাজ়ের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। ও দেখিয়ে দিল, চাইলে সব কিছুই সম্ভব।” পরের ওভারে জেমি ওভারটনের বলে আউট হয়ে যান রিজ়ভি। পর পর চার ওভারে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দিল্লি।

ডেভিড মিলার ও ট্রিস্টান স্টাবস জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। এ বারের আইপিএলের প্রথম তিন ম্যাচে আউট হননি মিলার। ফলে তাঁকে নিয়ে আশা ছিল দিল্লির। কিন্তু ১৭ রানের মাথায় ওভারটনের বলে বোল্ড হন তিনি। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে এ বার প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন আশুতোষ শর্মা। তিনি নেমে শুরুতে বড় শট মারা শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে ১৯ রানের মাথায় নুর আহমেদের বলে আউট হন তিনি। এ বারের আইপিএলে এটিই চেন্নাইয়ের কোনও স্পিনারের নেওয়া প্রথম উইকেট।

দিল্লিকে জেতানোর পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে স্টাবসের কাঁধে। তিনি অর্ধশতরান করে খেলছিলেন। কিন্তু উল্টো দিকে কুলদীপ যাদব থাকায় স্টাবস সিঙ্গল নিতে পারছিলাম না। বড় শট মারার চেষ্টা করছিলেন তিনি। সিঙ্গল নিতে না পারায় ডট বলও বাড়ছিল।

শেষ ১২ বলে দরকার ছিল ৩২ রান। ওভারটনের বলে বড় শট মারতে গিয়ে আউট হন স্টাবস। ৩৮ বলে ৬০ রান করেন তিনি। স্টাবস আউট হতেই দিল্লির সব আশা শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৮৯ রানে শেষ হয় দিল্লির ইনিংস। ২৩ রানে ম্যাচ জেতে চেন্নাই। ১৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে বল হাতে নায়ক ওভারটন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement