উইকেট নিয়ে থিকশানার উল্লাস। ছবি: পিটিআই।
নেদারল্যান্ডস, আমেরিকা, নেপালের পর আয়ারল্যান্ড। টি২০ বিশ্বকাপে প্রথম দু’দিনেই চমকে দিয়েছে কমজোরি দেশগুলি। কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে কেউই জিততে পারেনি। প্রথম দিন নেদারল্যান্ডস এবং আমেরিকা যথেষ্ট বেগ দিয়েছিল পাকিস্তান এবং ভারতকে। রবিবার অল্পের জন্য নেপাল হারাতে পারেনি ইংল্যান্ড। পরের ম্যাচে আয়ারল্যান্ড বাগে পেয়েও হারাতে পারল শ্রীলঙ্কাকে।
প্রথম ব্যাট করে শ্রীলঙ্কার তোলা ১৬৩/৬-এর জবাবে ১৪৩ রানে আটকে গেল আয়ারল্যান্ড। শ্রীলঙ্কা জিতেছে ২০ রানে। একাধিক ক্যাচ নষ্টই ভোগাল তাদের। বৃথা গেল আইরিশ স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং। শ্রীলঙ্কা টেক্কা দিল দুই জায়গাতেই। ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি স্পিনারেরাও ভাল বল করেছেন।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেছিল শ্রীলঙ্কা। শুরুটা খুব ভাল হয়নি তাদের। মন্থর পিচে রানের গতি ছিল বেশ কম। ১১ বলে ১৪ রান করে ফিরে যান কামিল মিশারা। দ্বিতীয় উইকেটে পাথুম নিসঙ্ক (২৪) এবং কুশল মেন্ডিস কিছুটা চালিয়ে খেলে রানের গতি বাড়ান। তবে সপ্তম ওভার থেকেই রানের গতি কমতে থাকে শ্রীলঙ্কার।
শ্রীলঙ্কার পিচে যে স্পিনারেরা সুবিধা পান, সেটা বুঝেছিল আয়ারল্যান্ড। তারা শুরুটাই করে স্পিনার ম্যাথু হামফ্রিসকে দিয়ে। পরের দিকে জর্জ ডকরেল এবং গ্যারেথ ডেলানিকে আনার পরেই শ্রীলঙ্কার রানের গতি এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যায়। পর পর কয়েকটি উইকেটও হারায় তারা। ফিরে যান নিসঙ্ক, পবন রত্নায়েকে (৫) এবং দুনিত ওয়াল্লালাগে (১০)।
স্পিনের বিরুদ্ধে সমস্যা হয় নিসঙ্কের। সেটা জেনেই আইরিশ অধিনায়ক পল স্টারলিং নিয়ে আসেন ডকরেলকে। সঙ্গে সঙ্গে ফল পাওয়া যায়। মন্থর বল করে ডকরেল ফেরান নিসঙ্ককে। স্টারলিংই ক্যাচ ধরেন। কুশলেরও খেলতে সমস্যা হচ্ছিল। তবু ক্রিজ় কামড়ে পড়েছিলেন তিনি।
সাত থেকে ১৫ ওভারের মধ্যে একটিও বাউন্ডারি মারতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ১৫ ওভারে শ্রীলঙ্কার রান ছিল ৯৫/৪। সেখান থেকেই খেলা ঘুরে যায়। শেষ চার ওভারে তারা ৬০ রান তোলে। তার মধ্যে ১১ বলে আসে ৪৫ রান। হামফ্রিস এবং ম্যাকার্থি নিজেদের ওভারে যথাক্রমে ২১ এবং ১৯ রান দেন। ম্যাকার্থি নিজের সেই ওভারে ১১টি বল করেন। চারটি ওয়াইড এবং একটি নো বল করেন। বিশ্বকাপে এটি যুগ্ম সর্বোচ্চ।
শ্রীলঙ্কাকে সাহায্য করেছে আয়ারল্যান্ডের খারাপ ফিল্ডিং। অন্তত পাঁচটি ক্যাচ ছেড়েছে তারা। তার মধ্যে হামফ্রিসের একটি ওভারেই তিনটি ক্যাচ পড়ে। এর মধ্যে সুবিধা পান কুশলই। তিনি অপরাজিত থাকেন ৪৩ বলে ৫৬ রানে। চারটি চার এবং দু’টি ছয়ের সাহায্যে ১৯ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৪৪ রানের ইনিংস খেলে যান কামিন্দু মেন্ডিস। শেষ দিকে ও ভাবে রান না দিলে শ্রীলঙ্কাকে ১৪০-এর মধ্যে অনায়াসে বেঁধে রাখতে পারত আয়ারল্যান্ড।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ধীরে করে আয়ারল্যান্ড। স্টারলিংয়ের সমস্যা হচ্ছিল শ্রীলঙ্কার বোলিং খেলতে। একটি চার মেরে ১৩ বলে ৬ রান করে ফিরে যান তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলেন রস অ্যাডেয়ার। পাঁচটি চার এবং একটি ছয় মেরে ২৩ বলে ৩৪ করেন তিনি।
তখনও আয়ারল্যান্ডের রানের গতি আয়ত্তের মধ্যেই ছিল। হ্যারি টেক্টর এবং লোরকান টাকার মিলে আয়ারল্যান্ডের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। তাড়াহুড়ো নয়, বরং ওভার ধরে ধরে খেলছিলেন তাঁরা। ফলে শ্রীলঙ্কাকে একাধিক বোলার বদল করতে হয় জুটি ভাঙতে। সফল হয় ১৫তম ওভারে। ওয়েল্লালাগের বলে চালাতে গিয়ে আউট হন টাকার (২১)। পাঁচ বলের মধ্যে ফিরে যান টেক্টরও (৪০)। ওখানেই শেষ হয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের যাবতীয় প্রতিরোধ।
এর পর আর কোনও আইরিশ ব্যাটারই দাঁড়াতে পারেননি। কার্টিস ক্যাম্ফার (১৩) ফিরতেই আয়ারল্যান্ডের আশা শেষ হয়ে যায়। মাহিশ থিকশানা (৩/২৩) এবং ওয়ানিন্দু হাসরঙ্গ (৩/২৫) ভাল বল করেছেন।