IPL 2026

মানসিক রোগে ভুগছিলেন বিরাট, কী হয়েছিল, কেন অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন, জানালেন কোহলি

নিজে এখন একটি ফরম্যাটেই ক্রিকেট খেললেও একটা সময় দাপিয়ে তিনটি ফরম্যাটেই ক্রিকেট খেলেছেন এবং সফল হয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বিরাট কোহলির পরামর্শ, শুধু আইপিএলে মন দিলে চলবে না। আর কী বললেন তিনি?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ১১:৫৪
Share:

বিরাট কোহলি। ছবি: পিটিআই।

তিনি নিজে এখন একটি ফরম্যাটেই ক্রিকেট খেলেন। কিন্তু একটা সময় দাপিয়ে তিনটি ফরম্যাটেই খেলেছেন এবং সফল হয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বিরাট কোহলির পরামর্শ, শুধু আইপিএলে মন দিলে চলবে না। তিনটি ফরম্যাটেই খেলার লক্ষ্য রাখতে হবে। তিনি জানিয়েছেন নিজের একটি মানসিক সমস্যার কথা। পাশাপাশি, কেন অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেটাও উল্লেখ করেছেন।

Advertisement

তরুণ প্রজন্মের ক্রিকেটারেরা যে আইপিএল খেলে দ্রুত রোজগারে আগ্রহী, এই উদ্বেগ আগেই প্রকাশ করেছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। সেই সূত্র ধরেই আরসিবি-র একটি অনুষ্ঠানে কোহলি বলেছেন, “এটা একটা বড় চিন্তা। কারণ যখন একটি ফরম্যাট খেলে আপনি দ্রুত প্রচার এবং স্বীকৃতি পান, যখন ২০ বলে ৪০-৫০ রান করলেই খ্যাতি এবং অর্থ চলে আসে, তখন সন্তুষ্ট হয়ে যাওয়ার মানসিকতা চলে আসা খুব স্বাভাবিক।”

কোহলির মতে, ছোট ফরম্যাটে সাফল্য নাকি তিন ফরম্যাটেই খেলা, কোনটি লক্ষ্য হওয়া উচিত সেটা বেছে ফেলতে হবে আগেভাগেই। কোহলির কথায়, “অনেকেই বলতে পারে, ছোট ফরম্যাটই ভাল। আপনি বলতে পারেন, বেশি চাপ নিতে চাই না। মাঠে নেমে শুধু বল উড়িয়ে দিতে চাই। আবার আপনি এটাও বলতে পারেন, আমি ১৫-২০ বছর ধরে খেলতে চাই। গোটা ক্রিকেটবিশ্বের স্বীকৃতি এবং সম্মান, আমার আদর্শদের তারিফ পেতে চাই।”

Advertisement

প্রাক্তন অধিনায়কের মতে, শীর্ষে থাকতে গেলে শৃঙ্খলা এবং কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা থাকতেই হবে। তিনি বলেছেন, “ওটা একটা খুব আলাদা জগৎ। আপনি ১০-১৫ বছর খেলতে চান এবং যে কোনও পরিস্থিতি সামলানোর জন্য তৈরি, এই মানসিকতা আসতে যথেষ্ট সময় লাগবে।”

আধুনিক ব্যাটারদের ভয়ডরহীন দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছেন কোহলি। তবে কঠিন পরিস্থিতিতেও খেলার অভিজ্ঞতা থাকা দরকার বলে জানিয়েছেন। কোহলির কথায়, “এখনকার ক্রিকেটারেরা বড় শট এবং বিধ্বংসী ক্রিকেট খেলতে পারে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি হল, আইপিএলে সপ্তাহ ছয়েক পরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তখন পিচ কঠিন হয়ে যায়। সেখানে ২-৩ উইকেট পড়ার পর ১৭৫-১৮০ রান তাড়া করার দক্ষতাও থাকতে হবে। বিভিন্ন পরিস্থিতি সামলানোর জন্য স্রেফ একটা পথ নয়, অন্তত সাত-আটটা রাস্তা খোলা রাখা দরকার। যদি বাউন্ডারি না মারতে পারেন, তা হলে দৌড়ে রান নিয়ে দলকে জেতাতে হবে।”

চার মাসের ব্যবধানে লাল এবং সাদা বলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন কোহলি। সেই প্রসঙ্গে বলেছেন, “এমন একটা পরিস্থিতিতে ছিলাম যখন দলের ব্যাটিং বিভাগের মুখ ছিলাম আমি। তার পর নেতৃত্বের মুখ হয়ে গেলাম। তখনও বুঝতে পারিনি কী ভাবে এই চাপ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বাধা ঘটাতে পারে। ভারতের ক্রিকেটকে শীর্ষে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এতটাই উদগ্রীব ছিলাম যে, এ সবে পাত্তা দিইনি। সে কারণেই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার সময়ে আমার মধ্যে কিছু বেঁচে ছিল না। আপনি রান না পেলেও দল জিতল, তখন আপনার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। আপনি ভাল খেললেন, কিন্তু দল হারল। তখন ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। দুটো বিষয় নিয়ে সব সময় ভাবতে ভাবতে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম।”

এই প্রসঙ্গেই কোহলি তুলে ধরেছেন ‘ইমপস্টার’ সিনড্রোমের কথা। এটি এমন একটি মানসিক বিষয় যখন কোনও ব্যক্তি সর্ব ক্ষণ নিজের দক্ষতা নিয়ে সন্দেহ করে। কোহলি বলেছেন, “সাবধানতা এবং নিরাপত্তার অভাব বোধ করা, এই দুটোর মধ্যে সূক্ষ্ম বিভেদ রয়েছে। আপনার সব সময় মনে হবে, আপনি হয়তো ভাল খেলছেন না। এখনও নেটে নামলে ভাবতে থাকি, তরুণেরা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। অনুশীলন খারাপ হলে ওরাই প্রশ্ন করবে, ‘এই লোকটাই কী করে ২০ বছর ধরে টি-টোয়েন্টিতে খেলেছে’? এই ভাবনা সারা ক্ষণ মনের মধ্যে চলেই।”

এই পরিস্থিতি কাটিয়ে তোলার জন্য রাহুল দ্রাবিড় এবং বিক্রম রাঠোরকে কৃতিত্ব দিয়েছেন কোহলি। বলেছেন, “রাহুল ভাই বুঝেছিল ব্যাপারটা। কারণ ওর নিজেরই এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল। বিক্রমও অনেক দিন ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত। ওরা বুঝতে পেরেছিল আমার মনের মধ্যে কী চলছে। ওরা এতটাই সাহায্য করেছিল যে, আমি আবার ক্রিকেট উপভোগ করতে পারছিলাম।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement