ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমি। ছবি: রয়টার্স।
সাজঘরে লেখা লম্বা একটি বার্তা। এর পর সাংবাদিক বৈঠকে মেহদি তারেমির ক্ষোভ। বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচেই ড্র করে অনিশ্চয়তায় ঝুলছে ইরানের ভাগ্য। এর পরেই ফিফা এবং সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উদ্দেশে তোপ দাগল ইরান। তাদের দাবি, ফিফার অব্যবস্থার জন্যই তাদের আজ এই অবস্থা।
শুক্রবার রাতে জিততেই হত ইরানকে। তারা মিশরের সঙ্গে ১-১ ড্র করেছে। তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে এখনও জানা নেই পরের রাউন্ডে যাবে কি না। সিয়াটলে ম্যাচ হওয়ার পর সাজঘরে বার্তায় ইরান লিখেছে, “আমরা ইরান থেকে এসেছি। একটি দেশ, যা হাজার বছর ধরে জয়ের চেয়ে সম্মানকে উপরে রেখেছে। আমাদের কাছে ফুটবল একটা প্রতিযোগিতায় চেয়েও বড়। এটা চারিত্রিক দৃঢ়তার একটা পরীক্ষা। পয়েন্ট বিভিন্ন ভাবে জেতা যায়, কিন্তু সমীহ জেতা যায় না। একটা দল গ্রুপ থেকে এগোতে পারে, কিন্তু স্বচ্ছতা এবং সম্মান থাকলে ইতিহাসের আগেও কেউ সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফুটবলের নিয়ম ফেয়ার প্লে-টা শুধু একটা বাক্য নয়, এটাই খেলাটার আত্মা। ধন্যবাদ সিয়াটল। তোমাদের আতিথেয়তায় আমরা মুগ্ধ। সমস্ত ইরানীয়কে ধন্যবাদ, যাঁরা নিজেদের হৃদয় দিয়ে সমর্থন করেছেন, গলার স্বরে দেশের জন্য সব উজাড় করে দিয়েছে, সকলের আগে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন।”
এই নিয়ে দ্বিতীয় বার তারা সাজঘরে বার্তা রেখে গেল। আগের ম্যাচ খেলার পর লস অ্যাঞ্জেলেসের সাজঘরেও ছিল একটি বার্তা, যেখানেও পরোক্ষ ভাবে ফিফার প্রতি বিভিন্ন কথা লেখা ছিল।
পরে মিক্সড জ়োনে অধিনায়ক তারেমি বলেন, “একটা হতাশাজনক বিশ্বকাপ। ফিফা সব সমস্যার সমাধান করে। কিন্তু আমাদের সমস্যার সমাধান করা হল না শুরু থেকেই। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের পর মিস্টার ইনফান্তিনো সাজঘরে এসে বলেছিলেন, ‘সবে শুরু হয়েছে’। কিন্তু গ্রুপ পর্ব কাল শেষ হয়ে গেল। এখনও কিছুই হল না”
ইরানের অনেক সাপোর্ট স্টাফ আমেরিকার ভিসা পাননি। ফলে ফুটবলারদের খেলতে হয়েছে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সাহায্য ছাড়াই। তারেমি বলেন, “আমাদের যাতায়াতের খেয়াল রাখার মানুষগুলোই এখানে নেই। ওদের ভিসা নেই। রোজ রোজ তিজুয়ানায় ফিরে যাওয়া কী করে সম্ভব। আমরা তিজুয়ানার মানুষদের ভালবাসি। আমরা মেক্সিকোকে ভালবাসি। ওরা খুব সুন্দর মানুষ। কিন্তু পেশাদারদের প্রতিযোগিতায় পেশাদার ফুটবলার হিসাবে বলছি, কাজটা ঠিক হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “কারা আমাদের সাহায্য করতে চায়? যদি ওরা আমাদের ছিটকে দিতে চায় তো ঠিক আছে। ছিটকে দাও। কিন্তু সেটা ঠিক নয়। রিকভারি এবং যাতায়াতের সঙ্গে যুক্ত থাকা মানুষেরা আমাদের সঙ্গে নেই। বার বার অভিযোগ করেও লাভ হয়নি।”
কোচ আমির ঘালেনোইয়ের কথাতেও একই সুর। তিনি বলেছেন, “আয়োজক দেশ খুব খারাপ ব্যবহার করেছে। যদি দু’সপ্তাহ আগে আসার অনুমতি দিত, শারীরিক এবং মানসিক ভাবে আমরা অনেক ভাল জায়গায় থাকতাম। ওরা আমাদের সঙ্গে সঠিক বিচার করেনি। ফিফাকে অনুরোধ, আর কোনও দলের সঙ্গে এ রকম ব্যবহার করবেন না।”