গোলের পর উচ্ছ্বাস লিস্টনের। তবে লাভ হল না। ছবি: সমাজমাধ্যম।
জামশেদপুর ১ (ঋত্বিক)
মোহনবাগান ১ (লিস্টন)
ম্যাচের বয়স তখন ৬০ মিনিট। আচমকাই জামশেদপুরের স্টেডিয়াম ঢেকে গেল ধোঁয়ায়। অথচ দল তখন হারছে ০-১ গোলে। দল হারছে অথচ সমর্থকেরা আতসবাজি জ্বালিয়ে উৎসব করছেন, এমনটা সচরাচর দেখা যায় না। বাঙালি ঋত্বিক দাস সেই সমর্থকদের প্রয়াস ব্যর্থ হতে দিলেন না। শেষ মুহূর্তে গোল করে মোহনবাগানের নিশ্চিত জয় ছিনিয়ে নিলেন তিনি। লিস্টন কোলাসোর দর্শনীয় গোলের পরেও জামশেদপুরের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করল মোহনবাগান।
ম্যাচের আগের দিনই লিস্টন কোলাসো বলেছিলেন, নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি নন। এ মরসুমে একটিও গোল করতে না পারা স্ট্রাইকার সুযোগ নষ্ট নিয়েও চিন্তায় ছিলেন। শনিবার সেই আক্ষেপ অবশেষে মিটল লিস্টনের। দূরপাল্লার শটে তাঁর গোল নজর কেড়ে নিল। তবে লাভ হল না। শেষ মুহূর্তে রক্ষণের ব্যর্থতায় ড্র করতে হল মোহনবাগানকে। চিন্তা থেকেই গেল গোল নষ্টের প্রবণতা নিয়ে। জেমি ম্যাকলারেন প্রায় গোটা ম্যাচেই বোতলবন্দি ছিলেন। বাকিরাও কেউ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নায়ক হতে পারলেন না। লিস্টনের পারফরম্যান্স আগের চেয়ে অনেক ভাল ছিল। তিনি গোল না করলে এই ম্যাচ থেকেও খালি হাতে ফিরত মোহনবাগান।
প্রথম একাদশে এ দিন দিমিত্রি পেত্রাতোসকে রাখেননি সের্জিয়ো লোবেরা। সুযোগ দিয়েছিলেন রবসনকে। তবে ম্যাচের শুরু থেকে আগ্রাসী মেজাজে দেখা যায় জামশেদপুরকে। রাফায়েল মেসি বৌলির দল বুঝিয়ে দিল এই ম্যাচ জিততে কতটা মরিয়া তারা। মোহনবাগানও মরিয়া হয়ে রক্ষণ সামলাচ্ছিল। ১০ মিনিটের মাথায় হালকা চোট পান টম অলড্রেড। নিকোলা স্টোজানোভিচের থেকে বল কাড়তে গিয়ে পায়ে আঘাত পান। চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন।
মোহনবাগান এগিয়ে যায় এর পরেই। গোলের যাবতীয় কৃতিত্ব প্রাপ্য লিস্টনেরই। জামশেদপুরের বক্সে দাপট দেখাচ্ছিল মোহনবাগান। শুভাশিস বসুর থেকে বল পেয়েছিলেন লিস্টন। কিছুটা এগিয়ে ডান পায়ে জোরালো শট মারেন। জামশেদপুরের রক্ষণকে টপকে সেই বল বারে লেগে গোলে ঢুকে যায়। সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিতে উল্লাসে ফেটে পড়েন মোহনবাগানের সমর্থকেরা।
জামশেদপুর ছেড়ে কথা বলেনি। গোল পেয়ে তাদের আক্রমণ বাড়তে থাকে। স্টোজানোভিচ, বারলা, সানানরা বার বার আক্রমণ হানতে থাকেন মোহনবাগানের অর্ধে। বিপদে ফেলছিলেন মেসি বৌলিও। মোহনবাগান চেষ্টা করছিল খেলার গতি কমিয়ে দেওয়ার। সেই কাজে সফলও হয় তারা।
৩৫ মিনিটের মাথায় সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন জেমি ম্যাকলারেন। লিস্টন পাস দিয়েছিলেন বক্সে থাকা রবসনকে লক্ষ্য করে। তাঁর পাস গোলের সামনে দিয়ে চলে যায়। স্লাইড করেও বলের নাগাল পাননি ম্যাকলারেন। একটু তৎপর হলে ওখানেই মোহনবাগান ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে পারত। এর পর দু’-একটি চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধে আর গোল করতে পারেনি মোহনবাগান।
প্রথমার্ধে যে ছন্দে ছিলেন দ্বিতীয়ার্ধেও সেই ছন্দে দেখা যায় লিস্টনকে। খেলা শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনি জামশেদপুরের বক্সে ঢুকে পড়েন। তবে বিপক্ষ গোলকিপার অ্যালবিনো গোমস এগিয়ে এসে বলটি কেড়ে নেন। জামশেদপুরের রক্ষণের অধিকাংশই আটকে যাচ্ছিল স্টিফেন এজ়ের কাছে। দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার জায়গাই দিচ্ছিলেন না ম্যাকলারেন, রবসনদের। মাঝে মাঝে বল নিয়ে উঠেও যাচ্ছিলেন। রবসনের একটি শট আটকে দেওয়ার পাশাপাশি লিস্টনের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়াও ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এজ়ে।
৭৩ মিনিটের মাথায় পেত্রাতোসকে নামান লোবেরা। তখন গোলের ব্যবধান বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করছিল মোহনবাগান। জামশেদপুরের একটি আক্রমণ বাঁচিয়ে দেয় তারা। খেলা শেষের সময় যত এগিয়ে আসছিল তত জামশেদপুরের তৎপরতা বাড়ছিল। মোহনবাগানের অর্ধে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তারা। ৮৪ মিনিটের মাথায় একটি ভাল সেভ করেন বিশাল কাইথ। স্টোজানোভিচের পাস থেকে সানানের নেওয়া শট কোনও মতে বাঁচান তিনি। পরের মিনিটে আর একটি সুযোগ নষ্ট করে জামশেদপুর। এ বার সানানের থেকে বল পেয়ে হৃতা প্রথম প্রয়াসেই শট নেন। বারের উপর দিয়ে সেটি বেরিয়ে যায়। গোলে থাকলে বিশালের কিছু করার থাকত না।
তখনও বোঝা যায়নি ম্যাচের শেষ দিকে রং বদলে যেতে পারে। বাঁ দিক থেকে মেসি বৌলি বল ভাসিয়েছিলেন। দূরের পোস্টে ঋত্বিক দাঁড়িয়েছিলেন পুরোপুরি ফাঁকায়। কেউ মার্কই করেননি তাঁকে। অনায়াসে হেডে গোল করে মোহনবাগান সমর্থকদের হৃদয় ভেঙে দেন ঋত্বিক।