ঋদ্ধিমান সাহার পরিবর্ত বাছাই নিয়ে তুমুল নাটক বেঁধে গেল নির্বাচনী বৈঠকে। নাটকের কারণ— ঋদ্ধিমানের পরিবর্ত হিসেবে যাঁকে নেওয়া হল, সেই সায়ন মুখোপাধ্যায়ের এ মরসুমে বাংলার হয়ে খেলার কোনও অভিজ্ঞতাই নেই!
হরিয়ানাগামী বাংলা টিমে দু’জন ক্রিকেটার মঙ্গলবার নির্বাচনের কথা ছিল। ঋদ্ধিমান সাহা এবং প্রদীপ্ত প্রামাণিকের পরিবর্ত খোঁজার কথা ছিল। ঋদ্ধিমান টেস্ট টিমে যোগ দিতে চলে যাচ্ছেন। প্রদীপ্ত আবার বোর্ডের অনূর্ধ্ব ১৯ চ্যালে়ঞ্জার ট্রফিতে সুযোগ পেয়েছেন। কিন্ত তা করতে গিয়ে যে এমন বিতর্ক বেঁধে যাবে, কে জানত।
শোনা গেল, ক্লাব ক্রিকেটে ঐক্য সম্মিলনীর হয়ে খেলা সায়নকে টিমে রাখার প্রয়োজন দেখেননি কোনও কোনও নির্বাচক। ময়দানেও প্রশ্ন উঠছে, যে ক্রিকেটার এখনও অনূর্ধ্ব তেইশ খেলেনি, সে কোন যুক্তিতে রঞ্জি টিমে সুযোগ পেয়ে যায়? বাংলা টিমে ঢোকা কি এখন এতই সহজ হয়েছে? কিন্তু নির্বাচক কমিটির প্রধান রাজু মুখোপাধ্যায় নাকি সায়নকে পরিবর্ত উইকেটকিপার হিসেবে টিমে রাখার ব্যাপারে যুক্তি পেশ করেন। তাঁর যুক্তি ছিল যে, শ্রীবৎস গোস্বামী যদি কোনও কারণে হরিয়ানায় চোট পেয়ে যান, টিমের কিপিং কে করবেন?
যা শুনে ক্রিকেটমহলের কেউ কেউ বললেন, সুদীপ চট্টোপাধ্যায় তো ছিলেন। তিনিও কিপ করতে পারেন। তার চেয়ে একজন ব্যাটসম্যান নিয়ে গেলে তো কাজের কাজ হত। সায়ন বাদে প্রমোদ চাণ্ডিলাকে নেওয়া হল টিমে। তাঁর নির্বাচন নিয়ে অবশ্য তেমন প্রশ্ন নেই। কারণ অনূর্ধ্ব তেইশ বাংলার হয়ে রান পেয়েছেন বলতে শুধু তিনি আর ঋত্বিক রায়চৌধুরী। কিন্তু সায়নকে নেওয়ার যুক্তি অনেকেই মানতে পারছেন না।
এত সব বিতর্কের মধ্যে একটাই ভাল খবর— মনোজ তিওয়ারিকে নিয়ে বঙ্গ শিবিরের টেনশন অনেকটাই কেটে গেল। কোটলা-কাণ্ডে ম্যাচ রেফারির বারণ সত্ত্বেও বাংলা অধিনায়ক মুখ খুলেছিলেন বলে কেউ কেউ আশঙ্কা করছিলেন, মনোজের উপর না নতুন শাস্তি নেমে আসে। তাঁকে না নির্বাসনের মুখে পড়তে হয়। নির্বাচনী বৈঠকেও ব্যাপারটা ওঠে। কেউ কেউ বলেন যে, মনোজের বদলে কাউকে স্ট্যান্ড বাই রাখা উচিত কি না। শোনা গেল, সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁদের আশ্বস্ত করেন। নির্বাচকদের বলা হয়, তার দরকার হবে না। কারণ মনোজের বিরুদ্ধে বোর্ড কোনও নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেই তাঁর কাছে খবর।