হরভজন সিংহকে নিয়ে প্রশ্ন উঠল। তিনি নাকি স্বার্থ সংঘাতে জড়িত, এমনই অভিযোগ তুলে এই বিষয়ে বোর্ড নিযুক্ত পর্যবেক্ষক কে পি শাহ-র কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। তাঁর নামে ক্রিকেট সরঞ্জামের যে ব্র্যান্ড রয়েছে, প্রশ্ন উঠল তা নিয়েই। এই ব্র্যান্ডের সাজসরঞ্জাম ব্যবহার করে বাংলা-সহ একাধিক রঞ্জি দলের ক্রিকেটাররা। তাই হরভজনের বিরুদ্ধেও এ বার উঠল স্বার্থ সঙ্ঘাতের অভিযোগ।
বাংলা ছাড়াও পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, রেলওয়েজ, সার্ভিসেস ও জম্মু-কাশ্মীর দলের ক্রিকেটাররা হরভজনের নামাঙ্কিত ব্র্যান্ডের সাজ সরঞ্জাম ব্যবহারে চুক্তিবদ্ধ। হরভজন নিজে আবার পঞ্জাবের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা স্বার্থ সংঘাতের অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে এই ব্র্যান্ডের সঙ্গে নিজেকে হয়তো বিচ্ছিন্ন করতে হতে পারে ভারতীয় স্পিনারকে।
মুম্বইয়ের এক ক্রিকেটপ্রেমী হরভজনের বিরুদ্ধে এই প্রশ্ন তুলেছেন কে পি শাহর কাছে, যিনি বিচারপতি লোঢা কমিশনের সুপারিশ করা স্বার্থ সংঘাতের তত্ত্ব ভারতীয় ক্রিকেটের কোন কোন জায়গায় প্রযোজ্য হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্বে রয়েছেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাঁকে ‘অম্বুড্সম্যান’ হিসেবে নিযুক্ত করেছে।
বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য হরভজনকে স্বার্থ সংঘাতে জড়িয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা স্বীকার করে নিয়ে শাহ বলেছেন, ‘‘এই অভিযোগ জমা পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ীই ব্যাপারটা এ বার খতিয়ে দেখা হবে।’’ বোর্ড প্রেসিডেন্ট শশাঙ্ক মনোহর ও জেনারেল ম্যানেজার রত্নাকর শেঠিকেও এই অভিযোগের কথা জানিয়েছেন শাহ।
স্বার্থ সংঘাতের তত্ত্বে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় বোর্ডের বা বোর্ড অনুমোদিত কোনও সংস্থার স্পনসর বা সাজসরঞ্জাম সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে কোনও ক্রিকেটার যুক্ত থাকতে পারবেন না। ‘‘এই নিয়ম অনুযায়ী হরভজন সিংহ সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন বলেই আমার মনে হয়েছে’’, চিঠিতে জানিয়েছেন অভিযোগকারী ক্রিকেটপ্রেমী নিরজ গুন্ডে। ‘ভাজ্জি স্পোর্টস’-এর অন্যতম কর্তা বিক্রম সিধু অবশ্য এই সংস্থার সঙ্গে হরভজনের কোনও আর্থিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমরা একে অপরকে ১৫ বছর ধরে চিনি। সেই সুবাদে শুধু হরভজনের নাম ব্যবহার করছি মাত্র। ওর সঙ্গে আমাদের কোনও আর্থিক চুক্তি নেই।’’ কয়েক দিন আগে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে বোর্ড।