ছবি: সংগৃহীত।
সুখের চেয়ে স্বস্তি ভাল। এই আপ্তবাক্যটি মনের মধ্যে গেঁথে নিয়ে মোটা বেতনের চাকরির মায়া ত্যাগ করলেন এক তরুণী। বছরে ৩২ লক্ষ টাকার চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার মতো মানসিক দৃঢ়তা খুব কম মানুষেরই থাকে। কিন্তু আইআইটি রুরকির স্নাতক ও ডেটা সায়েন্টিস্ট তরুণী একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন, কেন তিনি বেঙ্গালুরু ছেড়ে গুরুগ্রামে যেতে চাননি। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ভাইরাল হয়েছে সেই পোস্টটি। যদিও এই পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ইনস্টাগ্রামে করা এক পোস্টে তিনি জানান, কেন তিনি গুরুগ্রামের মোটা টাকা উপার্জনের সুযোগকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর কথায়, বেশি বেতনের লোভনীয় চাকরির সুযোগের চেয়েও বেঙ্গালুরুর আন্তরিক পরিবেশ, নিরাপত্তার অনুভূতি এবং বাড়ির মতো পরিবেশই তাঁর কাছে বেশি মূল্যবান। শহরের আকাশে দেখা যাওয়া জোড়া রামধনুর একটি ভিডিয়ো শেয়ার করে ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “আজ আমার বেঙ্গালুরুকে বিদায় জানিয়ে গুরুগ্রামে নতুন এক অধ্যায় শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর ঠিক সেই মুহূর্তে বেঙ্গালুরুর আকাশে জোড়া রামধনু যেন আমার সব সংশয় দূর করে দিল।”
স্নেহা জানান, তাঁর এই সিদ্ধান্তের পিছনে নিরাপত্তার বিষয়টি বড় ভূমিকা রেখেছে। তাঁর দাবি, দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে একাধিক বার ভ্রমণ করার সময় কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই কারণেই আকর্ষণীয় বেতন প্যাকেজের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও তিনি সেখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
স্নেহার পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর পেশাগত সিদ্ধান্তের প্রকৃত অর্থ কী, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাবিক্ত নেটাগরিকেরা। একদল নেটাগরিক মনে করছেন, চাকরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মোটা বেতন। আর একদলের মতে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা, কর্ম-জীবনের ভারসাম্য এবং সামগ্রিক জীবনমানের মতো বিষয়গুলিও অনেক সময় আর্থিক লাভের চেয়েও বেশি মূল্যবান হয়ে ওঠে। তাঁদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে একটি নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশই প্রকৃত অর্থে সফল কেরিয়ারের ভিত্তি।