ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
তিনি মৃত্যুপথযাত্রী। তাই মৃত্যুর আগে প্রায় সাড়ে চার কোটি ডলারের সম্পত্তি লিখে দিলেন তরুণী স্ত্রীকে। আর তা করেই প্রাক্তন স্ত্রীর পরিবারের ক্ষোভের মুখে পড়লেন চিনের ৬১ বছর বয়সি এক বৃদ্ধ।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬১ বছর বয়সি মুমূর্ষু ওই চিনা বৃদ্ধের নাম হোউ। দক্ষিণ চিনের হাইনান দ্বীপের বাসিন্দা তিনি। বর্তমান স্ত্রী লিয়ুয়ান তাঁর চেয়ে ২৮ বছরের ছোট। গত বছরের নভেম্বরে হোউয়ের ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানান, বাঁচার আশা নেই। এর পরেই লিয়ুয়ানকে ৪.৩ কোটি ডলারের সম্পত্তি লিখে দেন তিনি (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা)। কিন্তু বৃদ্ধের সিদ্ধান্তে বেঁকে বসেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর পরিবার। বিবাদ শুরু হয় দু’পক্ষের।
লিয়ুয়ানের দাবি, তাঁর বয়স এখন ৩৩। ২১ বছর বয়স থেকে তিনি তাঁর স্বামীর সঙ্গে আছেন। ১০ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয় এবং পাঁচ বছর বয়সি একটি পুত্রসন্তান রয়েছে তাঁদের। রাতারাতি তাঁর জীবন বদলে গিয়েছে। ক্যানসারে আক্রান্ত স্বামীর সেবা করেই দিন কাটছে তাঁর। ফলে ওই সম্পত্তি তাঁরই প্রাপ্য বলে জানিয়েছেন লিয়ুয়ান।
লিয়ুয়ান একটি ভিডিয়োয় বলেন, ‘‘সবাই বলতেন আমাদের বিয়ে নাকি টিকবে না। কিন্তু তাঁরা জানতেন না যে আমার স্বামীই আমায় বড় করে তুলবে। এক জন পুরুষ একজন নারীকে সর্বাধিক যে ভালবাসা দিতে পারেন, সেটাই আমি আমার স্বামীর থেকে পেয়েছি।’’
বর্তমান স্ত্রীকে হোউ সব সম্পত্তি তুলে দেওয়ায় চটে গিয়েছেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী এবং সন্তানেরা। ওই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তাঁরা। আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। সে সংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি করা হচ্ছে বলেও খবর।
প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে অনেক আগেই বিচ্ছেদ হয়েছিল হোউয়ের। একটি লজিস্টিকস সংস্থায় কাজ করার সময় লিয়ুয়ানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একে অপরের প্রেমে পড়েন তাঁরা। বেশ কিছু সময় একত্রবাস করার পর বিয়েও করেন। সন্তানও হয়। সব ভালই চলছিল। তবে হোউ ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পরেই সম্পত্তির বখরা নিয়ে বিবাদ শুরু হয়েছে দুই পরিবারে।
হোউয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই সমাজমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চিনা নেটাগরিকদের একাংশ লিয়ুয়ানকে সমর্থন করলেও অনেকেই আবার হোউয়ের প্রাক্তন স্ত্রী এবং সন্তানদের সমর্থনে আওয়াজ তুলেছেন।