উপহার না পাওয়ায় কান্না বধূর। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
১২ হাজার টাকা মূল্যের পছন্দের উপহার কিনে দিতে অপারগ স্বামী। আর তার জন্য কেঁদেকেটে একশা হলেন বধূ। পছন্দের জিনিস কিনে দিতে না পারার কারণে স্বামীকে ভৎর্সনা করতেও ছাড়লেন না তরুণী। তেমনটাই দাবি করে একটি ভিডিয়ো সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। সমাজমাধ্যমে বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। ঘটনাটি কোথায় এবং কবে ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে, তা-ও ওই ভিডিয়ো থেকে স্পষ্ট নয়।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ঘরে বসে কাঁদছেন এক বধূ। তাঁর কোলে খুদে সন্তান। কাঁদতে কাঁদতে তাঁকে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে দেখা যায়। কেন তাঁর স্বামী তাঁকে ১২ হাজার টাকার উপহার কিনে দিতে পারেননি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়। ক্রন্দনরত অবস্থায় তরুণী প্রথমে বলেন, ‘‘তোমার কাছে কোনও টাকা নেই। আমার একটা জিনিস পছন্দ হয়েছিল এবং তার দাম ১২,০০০ টাকা ছিল। আমি ওই দোকানে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম।’’ এর উত্তরে তরুণীর স্বামী বলেন, ‘‘আমি জানতাম না।’’ বধূ আবার বলেন, ‘‘তুমি কী ভাবে জানবে? ভালবাসা থাকলে তো জানতে পারবে?’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি কী পছন্দ করি, না করি তা তুমি জানো না। পরোয়াও করো না। আমি তোমার জন্য সারা দিন কাজ করি। তোমার সঙ্গে ভাল করে কথা বলারও সময় থাকে না।’’ এর পর স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে শোনা যায় তরুণীর স্বামীকে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘নন্দন’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখে নেটাগরিকদের অনেকে যেমন মজার মজার মন্তব্য করেছেন, তেমনই আবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। তৈরি হয়েছে বিতর্কও। নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বধূর স্বামীর সমর্থনে আওয়াজ তুলেছেন, তেমনই আবার বধূর সমর্থনেও কথা বলতে দেখা গিয়েছে নেটাগরিকদের একাংশকে। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘মধ্যবিত্ত পরিবারে চাওয়ামাত্র ১২ হাজার টাকার উপহার কিনে দেওয়া মুখের কথা নয়। তার জন্য ও ভাবে কেঁদে স্বামীকে অপমান করার কিছু নেই। স্বামীর পাশে থাকা দরকার।’’ অন্য এক জন লিখেছেন, ‘‘এই জন্য বলি মহিলাদের স্বাবলম্বী হওয়া উচিত। নিজে উপার্জন করলে স্বামীর কাছে হাত পাততে হত না।’’ তৃতীয় জন আবার লিখেছেন, ‘‘বধূ স্বামীর কাছে একটা আবদার করেছিল। সেটা পূরণ করতেই পারতেন তাঁর স্বামী। খুব অন্যায় হয়েছে। আহা রে বেচারা!’’ তবে নেটগরিকদের কেউ কেউ আবার পুরো বিষয়টিকে সাজানো ঘটনা বলেও দাবি করেছেন।