ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
মাসখানেক আগে মহিলার খাবারের দোকানের পাশে স্টল খুলে বসেছিলেন এক তরুণী। নতুন দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেশি হতে শুরু করায় রেগে গেলেন মহিলা। কয়েক দিন যেতে না যেতেই তরুণীর সঙ্গে কারণে-অকারণে ঝামেলা করতেন তিনি। একদিন রাগ সামলাতে না পেরে তরুণীর গায়ে ফুটন্ত তেল ঢেলে দিলেন মহিলা দোকানদার। গরম তেলে পুড়ে গিয়ে ছটফট করতে শুরু করলেন তরুণী। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় এমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
‘রেস্ট্রিক্টেডহিস্ট্রয়_’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে ইনস্টাগ্রামের পাতায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে যে, এক মহিলা তাঁর প্রতিবেশী তরুণী দোকানদারের গায়ে ফুটন্ত তেল ঢেলে দিলেন। যন্ত্রণায় ছটফট করে চিৎকার করতে করতে ছিটকে দূরে চলে যান তরুণী। সম্প্রতি এই ঘটনাটি তাইল্যান্ডের ক্রাবিতে ঘটেছে। ১৯ বছর বয়সি তরুণীর নাম রাটিকা লাওহা। চলতি বছরের মার্চ মাসে একটি খাবারের দোকান খুলেছিলেন তিনি। তাঁর দোকানের পাশে আরও একটি খাবারের দোকান রয়েছে। সেই দোকানের মালকিনের নাম ফন। রাটিকার নতুন দোকানে ক্রেতাদের ভিড় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে দেখে রেগে গিয়েছিলেন ৩২ বছর বয়সি ফন।
রাটিকার অভিযোগ, তিনি দোকানের সামনে বরফের বাক্স রাখতে গিয়ে ফনের দিকে ভুল করে কয়েকটি বরফের টুকরো ছিটকে যায়। তার জন্য ফনের কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলেন রাটিকা। কিন্তু সেই রাগ পুষে রেখে দিয়েছিলেন ফন। একদিন রাটিকা তাঁর কাকিমার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। তা নিয়েও অশান্তি করেছিলেন ফন।
রাটিকা বলেন, ‘‘লটারির টিকিট কাটা নিয়ে কাকিমার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলাম। আস্তে আস্তে কথা বলছিলাম। ফন ভেবে নিয়েছিলেন, আমি তাঁর নামে নিন্দা করছি। আমার পরিবার তুলে নানা কুকথা বলেছিলেন।’’ প্রতিবেশী দোকানদারের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখতে প্রতি দিন তাঁকে কফি বানিয়ে খাওয়াতেন রাটিকা। এমনকি, যে দিন দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল, সে দিনও নাকি ফনকে আইস্ড টি বানিয়ে দিয়েছিলেন রাটিকা।
সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করার সময় রাটিকা লক্ষ করেন, ফনের দোকানের ফ্রায়ারের সুইচ চালু করা রয়েছে। তা ফনকে জানাতেই রাটিকার উপর রেগে গিয়েছিলেন তিনি। রাগের মাথায় ফুটন্ত তেল ঢেলে দিয়েছিলেন রাটিকার গায়ে। সঙ্গে সঙ্গে রাটিকাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রাটিকার পিঠ এবং ডান দিকের অনেক জায়গা পুড়ে গিয়েছে। অনির্দিষ্ট কালের জন্য তাঁর চিকিৎসা চলবে। তদন্তের জন্য ফনকে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফনকে নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে নিষেধ করেছে তাইল্যান্ড পুলিশ। ফনের মা ওয়ানজিট ডেটমাক এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমার মেয়ে খুব শান্ত স্বভাবের। কাজের জায়গায় কোনও সমস্যা হলেও মুখ ফুটে কিছু বলে না। সংসারে ও একাই রোজগার করে। দুই সন্তান রয়েছে ওর। দিনে ৯০০ টাকাও উপার্জন করে না।’’ রাটিকার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে ৭১ বছর বয়সি বৃদ্ধা বলেন, ‘‘আমি জানি না ফন কেন এ কাজ করল! তবে ওর কোনও খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না বলেই বিশ্বাস করি। যদিও আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। মেয়েটি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক। ফনও যেন কোনও আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে।’’