Tiger Attack

সুন্দরবনে মৎস্যজীবীর ঘাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল বাঘ! সঙ্গীদের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে উদ্ধার, চলছে চিকিৎসা

নিখিলের সঙ্গী প্রত্যক্ষদর্শী গোবিন্দ মণ্ডল জানান, নিখিল-সহ মোট ছ’জন দু’টি নৌকা নিয়ে তিন দিন আগে কাকড়া ধরতে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে গিয়েছিলেন। শনিবার ঠিক সন্ধ্যার আগে বড়িতলা জঙ্গলের একটি খাড়ির ভিতর থেকে বেরোনোর সময় একটি বাঘ তার দু’টি শাবক নিয়ে খাড়ির ধারে উপস্থিত হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ০৮:১৭
Share:

সুন্দরবনের বড়িতলা জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের হানায় জখম হলেন এক মৎস্যজীবী। —নিজস্ব চিত্র।

জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের হানায় জখম হলেন এক মৎস্যজীবী। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে সুন্দরবনের বড়িতলা জঙ্গলে। বাকি সঙ্গীদের তৎপরতায় ওই যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে যোগেশগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে গভীর রাতে বসিরহাট হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁর চিকিৎসা চলছে।

Advertisement

আহত যুবকের নাম নিখিল মণ্ডল। তাঁর বাড়ি সুন্দরবনের হেমনগর কোস্টাল থানা এলাকার শামসেরনগরে। নিখিলের সঙ্গী প্রত্যক্ষদর্শী গোবিন্দ মণ্ডল জানান, নিখিল-সহ মোট ছ’জন দু’টি নৌকা নিয়ে তিন দিন আগে কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে গিয়েছিলেন। শনিবার ঠিক সন্ধ্যার আগে বড়িতলা জঙ্গলের একটি খাড়ির ভিতর থেকে বেরোনোর সময় একটি বাঘ তার দু’টি শাবক নিয়ে খাড়ির ধারে উপস্থিত হয়। বাঘটি আচমকা নৌকার উপর দাঁড়িয়ে থাকা নিখিলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গোবিন্দ তৎক্ষণাৎ বাঁশ নিয়ে বাঘকে সজোরে আঘাত করেন। তখন ওই বাঘটি নিখিলকে ছেড়ে দিলে, তিনি নৌকা থেকে জলে পড়ে যান। কিন্তু ওই বাঘটি নৌকা থেকে ডাঙ্গায় উঠে তখনও নিখিলকে ধরার চেষ্টা করে। এর পর নিখিলের সঙ্গীরা চিৎকার, চেঁচামেচি এবং লাঠি নিয়ে বাঘের দিকে তেড়ে গেলে, বাঘ তার দু’টি বাচ্চাকে সঙ্গে করে নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে যায়।

গোবিন্দ বলেন, ‘‘দু’টি ছোট ছোট বাঘের বাচ্চা নদীর পাড় দিয়ে ঘুরছিল। আমরা দেখতে পেয়েছিলাম, কিন্তু আলো কমে আসায় ভাল বুঝতে পারছিলাম না বাচ্চা দুটো বাঘের না অন্য কিছুর। ঠিক তখনই ওই বাঘটি লাফিয়ে পড়ে নিখিলের উপর।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বাঘটি চলে যাওয়ার পর, আমরা সঙ্গে সঙ্গে নিখিলকে নিয়ে গ্রামে ফিরে যাই। প্রথমে যোগেশগঞ্জ হাসপাতাল এবং সেখান থেকে বসিরহাট হাসপাতালে এনে ভর্তি করেছি। তাঁর চিকিৎসা চলছে।”

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement