Barrackpore Accident Death

বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ছেলের, বাড়ি ফিরে ‘আত্মহত্যা’ মায়ের

সল্টলেকের পাঁচ নম্বর সেক্টরে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন সুশোভন টিকাদার (৩০)। বুধবার বিকেলে তিনি বাইক চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৩
Share:

মা মঞ্জু টিকাদার ও ছেলে সুশোভন টিকাদার। ফাইল চিত্র।

মোটরবাইক দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত‍্যুর ঘটনায় মাকে পুলিশ ডেকেছিল দেহ শনাক্ত করতে। হাসপাতালের শয‍্যায় ছেলের নিথর দেহে হাত বুলিয়ে বাড়ি ফিরে এসে কারও সঙ্গে কথা বলেননি সেই মহিলা। বৃহস্পতিবার বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে তাঁরই ঝুলন্ত দেহ পাওয়া গেল। কাছেই মিলল একটি সুইসাইড নোট।

ঘটনাটি ব্যারাকপুর কমিশনারেটের শ‍্যামনগরের বাসুদেবপুর এলাকার। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সল্টলেকের পাঁচ নম্বর সেক্টরে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন সুশোভন টিকাদার (৩০)। বুধবার বিকেলে তিনি বাইক চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ব‍্যারাকপুর-কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে মোহনপুর থানার কাছে দ্রুত গতিতে বাইক চালিয়ে যাওয়ার সময়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েএকটি গাড়ির পিছনে ধাক্কা মারেন সুশোভন। রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন ওই যুবক। স্থানীয়েরাই তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমেব্যারাকপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে বি এন বসু মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ছেলের দুর্ঘটনার খবর পৌঁছয় মা মঞ্জু টিকাদারের (৫৮) কাছে। যদিও মৃত‍্যুর খবর তখনও দেওয়া হয়নি তাঁকে। চিকিৎসক ও চিকিৎসা-কর্মীরা জানান, হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখে নির্বাক মা কিছু ক্ষণ তাঁর গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে চুপ করে ফিরে আসেন। বাড়ি ফিরেই ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। বৃহস্পতিবার সকাল গড়িয়ে গেলেও প্রৌঢ়া ঘর থেকে না বেরোনোয় পুলিশকে জানান প্রতিবেশীরা। পরে দরজা ভেঙে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

প্রতিবেশীরা জানান, সুশোভনের বাবার মৃত্যু হয়েছিল আগেই। মায়ের সঙ্গে তিনি একাই থাকতেন। ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে বাসুদেবপুর থানার পুলিশ। সুশোভনের এক দিদি অণিমা শর্মা বলেন, “আমার পিসি একমাত্র ছেলেকে খুব ভালবাসতেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ছুটে গিয়েছিলেন হাসপাতালে। তার পরে ছেলের মৃতদেহ দেখে বাড়ি ফিরেইআত্মহত্যা করেন। আমরা কেউ বুঝতেই পারিনি যে, পিসি এমনটা করতে পারেন।” প্রতিবেশী শোভা দাসের বক্তব্য, “মঞ্জু ছেলের শোক সামলাতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছেন। তিনি সুইসাইড নোটে লিখে গিয়েছেন ‘আমি পোস্ট অফিসের বই এবং আলমারির চাবি সব রেখে গেলাম। তোমরা এই বাড়িতে একটা মন্দির গড়ে দিও’।”

কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, “ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন