—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
তাঁকে কাছে না-পেয়ে স্বামীকে খুন করেছেন প্রেমিক। তার পর প্রেমিক জেলে। স্বামীর টুকরো টুকরো দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে খাল এবং জলাশয় থেকে। সদ্য বিধবা বিউটি খাতুন বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন মঙ্গলবার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই যুবতী। অন্য দিকে, মঙ্গলবারই বাদুড়িয়া খুনে গ্রেফতার হয়েছেন তৃতীয় অভিযুক্ত।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা নাসির আলি। এসআইআরের নথি চেয়ে তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন সেখানকার বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও) রিজওয়ান হাসান মণ্ডল ওরফে মন্টু। পরে জানা যায়, মন্টু ভাড়াটে খুনি দিয়ে নাসিরকে খুন করেছেন। কারণ, নাসিরের স্ত্রী বিউটির সঙ্গে তাঁর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। নাসির তা জানতে পারার পরে স্ত্রীর সঙ্গে বিএলও-র মেলামেশা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘরের মধ্যে টুকরো টুকরো করে কাটা হয়েছিল নাসিরকে। প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ খণ্ড খণ্ড করে কেটে প্যাকেটে ভরা হয়েছিল। তদন্তকারীদের কাছে দোষ কবুল করেছেন ওই বিএলও। তাঁর সঙ্গে সঙ্গে দুই সঙ্গীও একই অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে জেলে। এর মধ্যে বাড়িতে বিষপান করেছেন নাসিরের স্ত্রী।
পরিবার সূত্রে খবর, সোমবার কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন নাসিরের স্ত্রী। বাড়ির লোকজনের চোখে পড়ে যান। সে যাত্রায় তাঁকে আটকানো গিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে চাষের জমিতে দেওয়া কীটনাশক পান করে ফের আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ওই যুবতী। পরিবারের লোকজন তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন। পরিবারের দাবি, স্বামীর খুনের ঘটনার পর ভেঙে পড়েছিলেন স্ত্রী। অনুশোচনায় নিজেকে বার বার শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে নেপথ্য অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিউটির বিষপানের খবর পেয়ে তাঁদের বাড়িতে গিয়েছে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ।