প্রতীকী ছবি।
ঘরের মধ্যে একটি টেবিল। তার উপরে বড় সাইজের একটি কেক রাখা। সঙ্গে মোমবাতি। ঘর বেলুন দিয়ে সাজানো। দেওয়ালে ঝুলছে ব্ল্যাকবোর্ড। তাতে লেখা, ‘‘হ্যাপি বার্ড ডে গৌরব।’’
ঘরের মধ্যে কয়েকজন মহিলা-পুরুষ তফাৎ রেখে দাঁড়িয়ে। তাদের সাক্ষী রেখেই ফুঁ দিয়ে মোমবাতি নিভিয়ে কেক কাটল দশ বছরের গৌরব চক্রবর্তী। মুখে মুখে তখন ঘুরছে, ‘হ্যাপি বার্থ ডে টু গৌরব’। পাশে দাঁড়িয়ে গৌরবের বাবা গৌরাঙ্গ তখন চোখের জল মুছছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় এমনই জন্মদিনের অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকলেন গাইঘাটার ইছাপুর মন্মথনাথ গার্লস স্কুলে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকেরা। নিভৃতবাস কেন্দ্রে মাতৃহীন গৌরবের জন্মদিন পালন করতে পেরে খুশি সকলেই।
গাইঘাটার বাইসা এলাকায় বাড়ি গৌরাঙ্গের। ২০১৬ সালে তাঁর স্ত্রী শৈবা মারা গিয়েছেন। ছোট্ট গৌরবকে নিয়ে তিনি মহারাষ্ট্রের থানে চলে যান গৌরাঙ্গ। সেখানে সেন্টারিংয়ের কাজ করেন। ছেলে সেখানেই পড়াশোনা করে।
লকডাউনের শুরু থেকে গৌরাঙ্গের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। ৩০ মে তিনি ছেলেকে নিয়ে গাইঘাটা ফিরে আসেন। সরকারি নির্দেশ মতো ছেলেকে নিয়ে ওঠেন কোয়রান্টিন সেন্টারে। ওই নিভৃতবাসে মহিলা-পুরুষ মিলিয়ে ১৪ জন রয়েছেন। তাঁদের দুপুর-রাতে খাওয়ানোর দায়িত্ব তুলে নিয়েছে গোবরডাঙার একটি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ, ‘স্বপ্নের শহর গোবরডাঙা’।
গ্রুপের অ্যাডমিন মানিক ঘোষ বলেন, ‘‘রবিবার খাবার দিতে গিয়ে জানতে পারি, সোমবার গৌরবের জন্মদিন।’’ মানিক জানান, গৌবরের জন্মদিনের কথা জানতে পেরে আমরা নিভৃতবাসে থাকা মানুষজনের সঙ্গে কথা বলি। ওঁরা সিদ্ধান্ত নেন, মা মরা ছেলেটার জন্মদিন পালন করবেন। সেই মতো ওঁরা জন্মদিন পালন করেছেন। আমরা বাইরে থেকে কেক-বেলুন দিয়ে সহযোগিতা করেছি। যাবতীয় ব্যবস্থা নিভৃতবাসে থাকা মানুষেরাই করছেন।
গৌরবের বাবার কথায়, ‘‘ছেলেকে সকলে এত ভালবাসছে, ওর মায়ের কোনও অভাব ও বুঝতে পারছে না। ছেলেকে হাসিখুশি দেখে আমারও খুব ভাল লাগছে।’