ভোটের আবহে জমজমাট বসিরহাট। সভা করে গেলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অধীর চৌধুরী, গৌতম দেব, রাহুল সিংহেরা। ছবি: নির্মল বসু।
দিনভর ‘হাইপ্রোফাইল’ প্রচারের সাক্ষী থাকল বসিরহাট।
বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনের প্রচারে বৃহস্পতিবার বসিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় এসেছিলেন সাংসদ তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ, তৃণমূলের জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌতম দেব-সহ অনেকে।
শাঁকচুড়োয় এক জনসভায় দলীয় প্রার্থী অসিত মজুমদারকে পাশে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অধীর। সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যে কাদা মাঠে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য মানুষের আগ্রহ দেখে উৎসাহিত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “বৃষ্টির মধ্যে এই জন সমাগমই বলছে ভোটে কংগ্রস জয়ী হবে।” আধ ঘণ্টার ভাষণে বিজেপি ও তৃণমূলকে তুলোধোনা করলেও সিপিএম প্রসঙ্গে কোনও কতা খরচ করেননি তিনি। দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে জাপানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী ঠাট্টা-ইয়ার্কি করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিকেলের দিকে তৃণমূল প্রার্থী দীপেন্দু বিশ্বাসের সমর্থনে মিছিলে যোগ দেন গৌতম সরকার, বাবু মানি, সমরেশ চৌধুরী, বিকাশ পাঁজি, অমিত দাস, অলোক দাস, হাবিবুর রহমান, তপন ঘোষ, বাসুদেব মণ্ডল-সহ এক ঝাঁক ফুটবলার। জ্যোতিপ্রিয়বাবু বলেন, “কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি এখন সিপিএমকে নিয়ে বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধেছেন। তাই আমাদের লড়াই তিন দলের সঙ্গে। তবে প্রকৃত কংগ্রেসিরা কিন্তু অধীরবাবুর আচরণে।” সারদা নিয়ে কংগ্রেস নেতার কটাক্ষের উত্তর দিতে গিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “সিবিআই জুজু দেখিয়ে তৃণমূলকে আটকানো যাবে না। কেউ যদি অন্যায় করে, তা হলে তার সাজা হোক। কিন্তু বুকে হাত রেখে বলতে পারি, তৃণমূল কোনও অন্যায় করেনি।”
এ দিন হাসনাবাদ থেকে হুডখোলা গাড়িতে করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহকে নিয়ে রোড-শোয়ের ব্যবস্থা করা হয়। সঙ্গে ছিলেন প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্য। তবে ক’দিন আগে দলের গায়ক-সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় রোড শো ঘিরে যে উন্মাদনা ছিল, তেমনটা কিছু আজকে চোখে পড়েনি। রাহুলবাবুর মতে, সিবিআই ধাপে ধাপে খুব শীঘ্রই মন্ত্রী পর্যন্ত এগোবে। তৃণমূল নেত্রীর কার্যকলাপে মানুষ বিশ্বাস হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে রাহুলবাবু আরও বলেন, “তৃণমূল যদি বহিরাগতদের ঢোকানোর চেষ্টা করে, তা হলে আমাদের ছেলেরাও ঢুকবে। তাতে ভোট বন্ধ হলে হবে। কিন্তু কোনও রকমেই ভোট লুঠ হতে দেব না।”
দলের প্রার্থী মৃণাল চক্রবর্তী সমর্থনে বসিরহাটের পিঁফায় সভা করেন সিপিএম নেতা গৌতম দেব। বিজেপিকেই প্রধান প্রতিপক্ষ করে আক্রমণ শানান সিপিএম নেতা। বলেন, “বসিরহাটে জয়ের খোয়াব দেখছে বিজেপি। যাদের কোনও বিধায়কই নেই, তারা কিনা বলছে ২০১৬ রাজ্যের ক্ষমতা দখল করবে।” তৃণমূল প্রসঙ্গে সিপিএমের জেলা সম্পাদকের মন্তব্য, “সারদা তদন্ত বন্ধ করতে মমতা বিজেপির সঙ্গে বন্দোবস্ত করছে।” কিন্তু অন্য লগ্নি সংস্থাগুলির কী হবে, সে প্রশ্ন তোলেন গৌতমবাবু। তৃণমূলকে তাঁর হুঁশিয়ারি, “ভোটে তৃণমূল যদি চ্যাংড়ামো করে, তা হলে কিন্তু গণ্ডগোল হবে। মনে রাখতে হবে, এ ক’বছরে কিন্তু ইছামতী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে! ওরা যদি ভোট বানচাল করার চেষ্টা করে, তা হলে কপালে দুঃখ আছে।”
সোনার বিস্কুট উদ্ধার। সীমান্তরক্ষীদের তৎপরতায় ৩৩ লক্ষ টাকা সোনার বিস্কুট উদ্ধার হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর সীমান্তে। বাংলাদেশ থেকে আনা এক কেজি একশো গ্রামের বিস্কুটগুলি কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পথে বাসে ওঠার সময়ে সীমান্তরক্ষীদের হাতে ধরা পড়ে এক দুষ্কৃতী। খলসি গ্রাম থেকে ধরা পড়া আজিজুল মোল্লাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ। বিস্কুটগুলি তেঁতুলিয়া শুল্ক দফতরের হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশ।