Rajya Sabha Election West Bengal

আসন দু’টি, পশ্চিমবঙ্গের জোড়া আসন থেকেই রাজ্যসভায় ছয় বছরে সাংসদ হয়েছেন ছয় জন! তৃণমূল থেকে এ বার কোন জনা?

কারও ইস্তফা বা মৃত্যুর কারণে অন্য জনকে রাজ্যসভায় পাঠানোর নজির পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে রয়েছে। কিন্তু একই রাজ্য থেকে একই মেয়াদে দু’টি আসনে ছ’জন সাংসদ হওয়ার নজির সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, সারা দেশেও রয়েছে কিনা সন্দেহ!

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫৩
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

একের বদলে তিন। তিন দু’গুণে ছয়। রাজ্যসভায় পশ্চিমবঙ্গের দু’টি আসনের এটাই নামতা। যা রাজ্য তো বটেই, দেশের স‌ংসদীয় রাজনাীতির ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন।

Advertisement

আগামী এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার পাঁচটি আসন ফাঁকা হচ্ছে। কিন্তু তার মধ্যে দু’টি আসনে গত ছ’বছরে নজিরবিহীন ওলটপালট দেখা গিয়েছে। একই মেয়াদে দু’টি আসন থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছেন তৃণমূলের ছ’জন। যে দু’টি আসনে আপাতত রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাকেত গোখলে।

ঋতব্রতের আসনে আগে ছিলেন প্রাক্তন আমলা জহর সরকার। আরজি কর কাণ্ডের পরে ক্ষোভে তৃণমূলের সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দেন জহর। সে কারণে শূন্য হওয়া আসনে জায়গা পান ঋতব্রত। কিন্তু ঘটনাচক্রে, জহরও ছিলেন মধ্যমেয়াদের নিয়োগ। তাঁর আগে ওই আসনে সাংসদ ছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে যখন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক পড়েছিল, সেই পর্বে রাজ্যসভায় বক্তৃতা করতে উঠে ‘অন্তরাত্মার ডাকে সাড়া দিয়ে’ সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন দীনেশ। সেই জায়গায় পাঠানো হয়েছিল জহরকে।

Advertisement

সাকেতের আসনটিতেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ২০২০ সালের প্রথমে ওই আসনে রাজ্যসভায় মনোনীত হয়েছিলেন নাট্যকর্মী অর্পিতা ঘোষ। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে অর্পিতা দলের নির্দেশে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর জায়গায় সংসদের উচ্চকক্ষে তৃণমূল পাঠায় গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরোকে। গোয়ানিজ় ফেলেইরোও ২০২৩ সালে ইস্তফা দেন রাজ্যসভা থেকে। তাঁর জায়গায় পাঠানো হয় তথ্য জানার অধিকার আইনে বিভিন্ন মামলায় লড়াই করা (আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট) সাকেতকে।

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, সারা দেশে এমন নজির রয়েছে কি না, তা অনেকেই স্মরণ করতে পারছেন না। কারও ইস্তফা বা মৃত্যুর কারণে অন্য কাউকে রাজ্যসভায় পাঠানোর নজির পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়েও রয়েছে। যেমন, তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। কিন্তু মধ্য মেয়াদেই চিট ফান্ড মামলায় নাম জড়ায় তাঁর। তার পর রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন মিঠুন। তাঁর জায়গায় পাঠানো হয়েছিল প্রাক্তন আমলা তথা প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের মন্ত্রী মনীশ গুপ্তকে। কিন্তু এক আসনে, এক মেয়াদে তিন জনের নজির দেখা যায়নি।

নব্বইয়ের দশকের শেষে বামফ্রন্টের মধ্যে একটি রাজ্যসভার আসনের জন্য ‘অর্ধেক-অর্ধেক’ চুক্তি হয়েছিল। প্রথম তিন বছর ফরওয়ার্ড ব্লক এবং পরের তিন বছর আরএসপি-র জন্য বরাদ্দ হয়েছিল। যদিও সে বার ফরওয়ার্ডের ব্লকের জয়ন্ত রায়ই সেই মেয়াদ সম্পন্ন করেছিলেন। আরএসপি তিন বছরের জন্য কাউকে পাঠায়নি। সেই অর্ধেক চুক্তি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কও হয়েছিল।

এখন কৌতূহলের বিষয় হল, ঋতব্রত এবং সাকেতকে কি আবার রাজ্যসভায় পাঠাবে তৃণমূল? সাকেতকে নিয়ে ‘বিতর্ক’ রয়েছে। প্রাক্তন কূটনীতিবিদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরির স্ত্রী লক্ষ্মী পুরি দিল্লি হাই কোর্টে তৃণমূল সাংসদ সাকেতের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দিল্লি হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সাকেতকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষমাও চাইতে হবে। সেই অর্থ সাকেত দেননি বলে গত বছর আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই গত বছর এপ্রিল মাসে আদালত নির্দেশ দেয়, প্রতি মাসে সাকেতের সাংসদ হিসাবে প্রাপ্ত বেতনের দুই-তৃতীয়াংশ কেটে নিতে হবে। সেই টাকা দেওয়া হবে মামলাকারী লক্ষ্মীকে। যত দিন না ওই অর্থের পরিমাণ ৫০ লক্ষ টাকা হচ্ছে, তত দিন ওই প্রক্রিয়া চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি হাই কোর্ট।

সাকেতকে ‘ক্ষতিপূরণ’ দিতে আবার তৃণমূলের দুই কক্ষের সাংসদদেরই মাসে তাঁদের বেতন থেকে চার হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সাকেতকে আবার রাজ্যসভায় পাঠানোর ব্যাপারে তৃণমূলেরই রাজ্যসভার আর এক সাংসদ ‘দৌত্য’ চালাচ্ছেন বলে খবর। পুনর্নবীকরণ হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শীর্ষনেতৃত্ব।

আবার ঋতব্রত গত এক বছর রাজ্যসভায় নিজেকে নিংড়ে দিয়েছেন। এমনিতে তিনি রাজ্যসভাতেই বেশি ‘স্বচ্ছন্দ’। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ঋতপ্রভ বক্তৃতা করেছেন। তবে তৃণমূলের একাংশ চাইছে, তাঁকে রাজ্য রাজনীতিতে এনে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করতে। আবার কেউ কেউ চান, সর্বভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে ‘স্বচ্ছ’ ধারণাসম্পন্ন ঋতব্রতকে রাজ্যসভাতেই রেখে দেওয়া হোক।

দু’জনের ভবিষ্যৎ শেষপর্যন্ত নির্ধারণ করবেন দলের সর্বময় নেত্রী মমতাই। তবে তৃণমূলের অনেকেই বলছেন, গত ছ’বছরে তিন বার করে মুখ বদল করতে হয়েছে ওই দুই আসনে। রাজ্যসভার প্রার্থী চয়নের সময় সেটাও খেয়াল রাখবে কালীঘাট এবং ক্যামাক স্ট্রিট।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement