আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন আনিস খান। বর্তমানে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন আনিস। তাঁর বাড়ি আমতার সারদা খাঁ পাড়ায়। প্রথম দিকে বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হলেও, পরে আইএসএফে যোগ দেন।
অনিস খানের মৃত্যুর ঘটনায় সরব সব রাজনৈতিক দল। নিজস্ব চিত্র।
ছাত্রনেতা আনিস খানের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে সরব হলেন সব রাজনৈতিক দলের নেতারা। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন পড়ুয়া। বর্তমানে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন আনিস। তাঁর বাড়ি আমতার সারদা খাঁ পাড়ায়। প্রথম দিকে বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হলেও, পরে আইএসএফে যোগ দেন। শনিবার সকালেই আইএসএফ বিধায়ক নৌসাদ সিদ্দিকী যান আনিসের আমতার বাড়িতে। সেখানে যাওয়ার পরেও যান স্থানীয় আমতা থানায়। পুলিশ প্রশাসনের কাছে তাঁর খুনীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি। পরে নৌসাদ বলেন, ‘‘আমাদের দলের ছাত্র সংগঠন গড়ার দায়িত্বে ছিলেন আনিস। কিন্তু আচমকাই তাঁকে খুন হতে হল। আমরা একটি রাজনৈতিক দল করি বলেই অন্য রাজনৈতিক দলকে এই খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত করছি না। কিন্তু আমরা চাইছি প্রকৃত খুনীদের শাস্তি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কী ভাবে পুলিশের পোশাক পরে এসে এমন খুন করে গেল, তা-ও আমাদের ভাবাচ্ছে। প্রকৃত দোষীদের শাস্তি চাই আমরা।’’
রবিবার নিহত ছাত্রনেতার বাড়িতে যাবেন সেভ ডেমোক্রেসি ফোরামের নেতারা। সেই দলে থাকবেন প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান ও সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ ভট্টাচার্য। মান্নান বলেন, ‘‘এক সময় রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যুর পর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আন্দোলন করেছিলেন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিন্তু তাঁদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন। অথচ একজন ছাত্রনেতার মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর কোনও প্রতিক্রিয়া না দেখে আমরা অবাক। রিজওয়ানুরের হত্যায় অভিযুক্ত পুলিশকে তিনি পুরস্কৃত করেছেন। তাই বিচার পাওয়া নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে।’’ তবে শাসকদলের পক্ষে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘কে এই অপরাধ করেছে, তা দেখতে হবে। আইন আইনের পথে চলবে। পুলিশ-প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এমন দুঃসাহসী কাজ যারা করে, তাদের পিছনে কেউ আছে কিনা বা অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে কিনা, তা দেখতে হবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনা আমাদের এখানে হয় না। এমন নৃশংস ঘটনা উত্তরপ্রদেশে হয়। বাইরে থেকে ঢুকে এসে কেউ এ কাজ করল কিনা, তা-ও পুলিশকে দেখতে হবে। যারা দোষী, তাদের শাস্তি দিতে হবে। কারণ পুলিশের পোশাক পরে এসে এমন ঘটনা কারা ঘটাল, তা জানতেই হবে। বাইরের রাজ্যের কেউ এমন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, তাও দেখতে হবে।’’
আনিসের পরিবারের লোকেরা দাবি করেছেন, শুক্রবার রাতে তাঁকে তিনতলা বাড়ির নীচে পড়ে থাকতে দেখেন। অভিযোগ, পুলিশের ছদ্মবেশে দুষ্কৃতীরা এসে তাঁকে খুন করেছে। পরিবারের দাবি, জোর করে তিন দুষ্কৃতী ঘরে ঢুকে ছাদে উঠে আনিসকে ছাদ থেকে ফেলে খুন করেছে। আনিস এলাকায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মুখ বলে পরিচিত ছিলেন।