রাজ্যের তিনটি প্রধান ডাকঘরের হাতে রয়ে গিয়েছে পৌনে দু’শো কোটি টাকারও বেশি পুরনো নোট। যা নিতে এখন অস্বীকার করছে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই)। ডাক বিভাগের অভিযোগ, গোড়া থেকেই নানান অসুবিধার কথা বলে নোট নিতে গড়িমসি করেছে এসবিআই। অন্য দিকে স্টেট ব্যাঙ্ক বলছে, এ দায় মোটেই তাদের নয়। ডাকঘরগুলিই ঠিক সময় তা জমা দিতে পারেনি।
সমস্যা প্রথম মাথাচাড়া দেয় নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার প্রধান ডাকঘরগুলিতে। যাদের আওতায় ছড়িয়ে অনেক ছোট ছোট ডাকঘর। প্রধানমন্ত্রী নোট বাতিলের পরে ব্যাঙ্কের মতো ডাকঘরগুলিতেও চলছিল পুরনো নোট জমা ও বদল। সেই সূত্রে ছোট ডাকঘরে জমা পড়া বাতিল পাঁচশো, হাজারের নোট চলে যায় সংশ্লিষ্ট প্রধান ডাকঘরে। তাদের আবার সেই টাকা স্টেট ব্যাঙ্কের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা করার কথা। আর চাপান-উতোর শুরু এখান থেকেই।
ডাক বিভাগের অভিযোগ, ব্যাঙ্ক তাদের ‘চেস্ট’-এ জায়গার অভাব দেখিয়ে প্রধান ডাকঘরগুলির থেকে পুরনো নোটের সবটা জমা নিচ্ছিল না। কখনও পুরোটাই ফিরিয়ে দিচ্ছিল। ফলে ডাকঘরে দিনের পর দিন জমতে জমতে পুরনো নোটের পাহাড় হয়ে যায়। পরে মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায় সমস্যা মেটে। কিন্তু মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামের প্রধান ডাকঘরে তা জমতেই থাকে। এমনকী ৩১ ডিসেম্বর মেদিনীপুরের প্রধান ডাকঘর ফের ব্যাঙ্কে ওই টাকা দিতে গেলে, সে দিনও ফিরিয়ে দেওয়া হয় নোট গোনার মতো পরিস্থিতি না-থাকার কারণ দেখিয়ে।
অথচ স্টেট ব্যাঙ্ক এখন আর ওই বিপুল পরিমাণ নোট নিতে চাইছে না বলে অভিযোগ ডাক বিভাগের। তারা প্রধান ডাকঘরগুলিকে জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বরের পরে বাতিল নোট জমা নেওয়ার কোনও নির্দেশ তাদের সদর দফতর বা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছ থেকে আসেনি। তাই আর তা জমা করা যাবে না। ডাক বিভাগের চিফ পোস্ট মাস্টার জেনারেল (ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্কেল) অরুন্ধতী ঘোষ বলেন, ‘‘বিষয়টি দিল্লিতে আমাদের সদর দফতর এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে জানানো হয়েছে। আশা করছি সমস্যা মিটবে।’’
স্টেট ব্যাঙ্ক অবশ্য ডাকঘরগুলির গাফিলতির দিকেই আঙুল তুলছে। শুরুতে জায়গার সমস্যা হচ্ছিল বলে মেনে নিলেও, তাদের দাবি শেষ পর্যন্ত সময়ে পুরনো নোট জমা দিয়েছে রাজ্যের প্রায় ৯৯% ডাকঘর। যারা পারেনি তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও করা হয়। অভিযোগ তোলা প্রধান ডাকঘরগুলি সেই পথে না হাঁটার কারণেই জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে তাদের মত।
এসবিআইয়ের (কলকাতা সার্কেল) চিফ জেনারেল ম্যানেজার পার্থপ্রতিম সেনগুপ্তর যুক্তি, ব্যাঙ্কে জমা টাকার হিসেব রাখার পাশাপাশি ডাকঘরের বাড়তি নোট গোনা ব্যাঙ্ক কর্মীদের পক্ষে সহজ কাজ ছিল না। তাই ‘চেস্ট গ্যারান্টি এগ্রিমেন্ট’ নামের একটি চুক্তি করার কথা বলা হয়েছিল। যা মানলে হিসেবের দায় নিতে হবে ডাকঘরকে। এসবিআই শুধু নোট জমা নেবে। স্টেট ব্যাঙ্কের অভিযোগ, বাকি ডাকঘরগুলি সেই চুক্তি মেনে কাজ করলেও মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার প্রধান ডাকঘর তা করেনি। এমনকী ৩১ ডিসেম্বর নোট জমা নেওয়ার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাঙ্ক খোলা রাখলেও সেখান থেকে কেউ আসেনি বলে অভিযোগ পার্থপ্রতিমবাবুর। বরং তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু শীর্ষ ব্যাঙ্ক বলেছে ডাকঘরের তরফে এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।
অবশ্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন পার্থপ্রতিমবাবু। তাঁর আশা, দ্রুত বেরোবে সমাধান সূত্র। তাই আপাতত সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছে নোট নিয়ে বিপাকে পড়া তিন ডাকঘর।