চার দিন ধরে বাড়িতেই পড়েছিল বৃদ্ধ বাবার দেহ। অথচ মেয়ে দাবি করেছিলেন, তিনি জানতেনই না বাবা মারা গিয়েছেন। শুক্রবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকার ওই ঘটনা শহরবাসীর মনে উস্কে দিয়েছিল কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের ঘটনার স্মৃতি। ওই রাতেই মহকুমা প্রশাসনের তরফে বৃদ্ধের ছেলে-মেয়েকে বর্ধমান মেডিক্যালে মনোবিদ দেখানোর জন্য নিয়ে আসা হয়। কিন্তু খানিক বাদেই চিকিৎসকেরা হতবাক! দু’জনেই হাসপাতাল থেকে চম্পট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সিটি সেন্টারের আলাউদ্দিন বিথি এলাকায় পাড়া জুড়ে দুর্গন্ধ পান বাসিন্দারা। শুক্রবার সকালে এক চালক বুঝতে পারেন, পাড়ারই একটি বাড়ি থেকে গন্ধ আসছে। বাসিন্দারা যোগাযোগ করেন ২২ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি পরিমল অগস্তির সঙ্গে। তিনিই খবর দেন পুলিশে। পুলিশ এসে উদ্ধার করে করুণাময় দত্ত (৮১) নামে এক বৃদ্ধের দেহ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানায়, ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে অন্তত দিন চারেক আগে। ওই দিন করুণাময়বাবুর মেয়ে পঞ্চাশোর্ধ স্বস্তিকাদেবী দাবি করেন, ‘‘বোঝা যায়নি বাবা মারা গিয়েছেন! বাবাকে অনেক ডেকেছি। কোনও সাড়া পাইনি।’’ শুধু তাই নয়, দেহ নিয়ে যাওয়ার সময় স্বস্তিকাদেবী একবারও বাবার দিকে ফিরেও তাকাননি বলে জানান পুলিশকর্মীরা। ওই দিন অস্বাভাবিক নির্লিপ্ত দেখায় বৃদ্ধের ছেলে বছর চল্লিশের সন্দীপবাবুকেও।
ঘটনার কথা জানতে পেরে দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক শঙ্খ সাঁতরার নির্দেশে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকদল করুণাময়বাবুর বাড়িতে যান। চিকিৎসকেরা দিদি ও ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে জানান, দু’জনেরই মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। চিকিৎসকদলের সদস্যরা হাসপাতাল সুপারের কাছে রিপোর্ট দিয়ে দু’জনকেই মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানোর পরামর্শ দেন। পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার মাথায় চোট পাওয়ায় করুণাময়বাবুর স্ত্রী মনীষাদেবীকে দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু তার পর থেকেই মনীষাদেবীর খবর নিতে কেউ আসেননি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
মহকুমা প্রশাসন সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতেই স্বস্তিকাদেবী ও সন্দীপবাবুকে বর্ধমান মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, খানিক বাদেই দেখা যায় দিদি ও ভাই দু’জনেই হাসপাতাল থেকে চম্পট দিয়েছে। এ দিন করুণাময়বাবুর পড়শিরা অবশ্য জানান, সন্দীপবাবুকে সকালে সাইকেলে চড়ে এলাকায় চক্কর কাটতে দেখা গিয়েছে। তবে মেয়ে স্বস্তিকাদেবী বাড়িতে আছেন বলে পড়শিরা জানান।
দু’জনকে নিয়ে এর পরে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? মহকুমাশাসক শঙ্খবাবু বলেন, ‘‘অনেক চেষ্টার পরে তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যালে ভর্তি করানো হয়। সকালে তাঁরা বাড়ি এসেছেন বলে শুনেছি। পুলিশকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।’’