তৈরি হচ্ছে চাঁদামালা। ছবি: ওমপ্রকাশ সিংহ।
বংশ পরম্পরায় শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাঁরা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সামগ্রীর দাম বেড়েছে। একই জিনিস যন্ত্রের সাহায্যে তৈরি হয়ে বাজারে চলে আসায় পড়তে হচ্ছে প্রতিযোগিতার মুখেও। তাই শোলা ও চাঁদমালা তৈরি করে লাভের মুখ দেখা মুশকিল হয়ে উঠেছে, জানাচ্ছেন উখড়ার ডাকের সাজ ও চাঁদমালা প্রস্তুতকারী পরিবারগুলি। সরকারি সাহায্য পেলে এই ব্যবসায় ফের লাভ করা যাবে, মনে করছেন তাঁরা।
উখড়ার চুনারি পাড়ার ১৮টি পরিবার শোলার শিল্পের কাজ করে। দুর্গা, কালী, মনসা, সরস্বতী, লক্ষী থেকে গণেশ, নানা পুজোয় দীর্ঘদিন ধরে ডাকের সাজ, চাঁদমালা তৈরি করে সরবরাহ করে আসছেন পরিবারের সদস্যেরা। এই সাজ ও চাঁদমালা তৈরি করতে প্লাস্টিকের কাগজ, শোলা, জরি, চুমকি, অভ্র, সুতলি-সহ বেশ কিছু উপাদান লাগে। শিল্পীরা জানান, দুর্গাপুজোয় ডাকের সাজ ও কালীপুজোয় চাঁদমালার চাহিদা অনেক বেশি থাকে। দুর্গাপুজোয় ডাকের সাজ তৈরি করতে পনেরোশো থেকে তিন হাজার টাকা নেন তাঁরা। কালীপুজোয় সেই সাজের জন্য এক হাজার থেকে দু’হাজার টাকার মধ্যে দাম নেন। চাঁদমালা রয়েছে নানা রকমের। দাম শুরু হয় ৩০ থেকে। এক হাজার টাকা অবধি দামের চাঁদমালা রয়েছে।
প্রবীণ শোলাশিল্পী গুরুপদ চুনারি জানান, এখন শোলার জোগান কমে যাওয়ায় তাঁরা থার্মোকল ব্যবহার করেন। তাঁর দাবি, এখন যন্ত্রে তৈরি ডাকের সাজ ও চাঁদমালা বাজারে চলে আসায় তাঁদের অবস্থা খারাপ হয়েছে। যন্ত্রের সাহায্যে কম সময়ে অনেক বেশি উৎপাদন হয়, যা তাঁরা করতে পারেন না। সব মিলিয়ে, তাঁদের বাজার কমেছে। আর্থিক কারণে যন্ত্রও কিনতে পারেননি তাঁরা। ফলে, পরিবারের সদস্যেরা এই শিল্প ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।
পিন্টু চুনারি, সুখেন চুনারিরা জানান, তাঁরা শোলা ও চাঁদমালার কাজ করেন। কিন্তু তাতে সংসার চলে না। তাই কেউ গ্রিল কারখানা, কেউ মোটরবাইকের গ্যারাজে কাজ নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁরা বলেন, ‘‘আগে তো এত প্রতিযোগিতা ছিল না। তাই আমাদের বাপ-ঠাকুর্দারা শুধু এই কাজ করেই সংসার চালাতে পেরেছিলেন। কিন্তু আমাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না।’’ তাঁরা জানান, এই শিল্পাঞ্চলে লাউদোহা থেকে বরাকর পর্যন্ত নানা এলাকার বহু পারিবারিক পুজোয় এখনও তাঁরা ডাকের সাজ ও চাঁদমালা সরবরাহের বরাত পান। তাই এখনও এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন।
গুরুপদবাবুর আক্ষেপ, ‘‘হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকেও কোনও স্বীকৃতি পাইনি। সরকারি সুযোগ-সুবিধে পেলে উপকার হয়। সহজে ঋণ-সহ কিছু সাহায্য পেলে শিল্পটা বাঁচানো যায়।’’ অন্ডালের বিডিও মানস পাণ্ডের আশ্বাস, ‘‘শিল্পীদের সাহায্য করার মতো নানা সরকারি প্রকল্প রয়েছে। ওঁরা আমাদের কাছে আবেদন করলেই সাহায্য করার চেষ্টা হবে।’’