Durga Puja 2025

বর্ধমানে দেবীকে নিবেদন করা হয় মাছের টক, আরাধ্যা ৯ কুমারী

১৯৯৭ সালে সন্ধিপুজোর সময়ে কামান দাগার সময় বিস্ফোরণ হয়। তার ফলে দু’জনের মৃত্যু হয়। আহত হন বেশ কয়েক জন। তার পর থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রাচীন এই রীতি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০২:৩১
Share:

সর্বমঙ্গলা বিগ্রহ। ছবি: সংগৃহীত।

আগে পুজোয় কামান দাগা হত। তবে রাজ্যখ্যাত সেই কামান দাগার প্রথা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ১৯৯৭ সালের দুর্ঘটনার পরে। তবে অন্যান্য প্রাচীন প্রথা আজও বিদ্যমান বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। এখানে দেবীকে নিবেদন করা হয় মাছের পদ। নবমীর দিনে পুজো করা হয় নয় জন কুমারীকে।

Advertisement

১৯৯৭ সালে সন্ধিপুজোর সময়ে কামান দাগার সময় বিস্ফোরণ হয়। তার ফলে দু’জনের মৃত্যু হয়। আহত হন বেশ কয়েক জন। তার পর থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রাচীন এই রীতি। বর্তমানে ‘স্মৃতি’ হিসাবে পুরানো কামানের একটি প্রতিরূপ রাখা হয়েছে। তবে তোপধ্বনির রীতি বন্ধ হলেও এই মন্দিরে এখনও অনেক প্রাচীন রীতি মানা হয়। যেমন অষ্টমীর দিনে দেবীকে উৎসর্গ করা হয় মাছের টক।

পুরানো কামানের প্রতিরূপ। —নিজস্ব চিত্র।

টেরাকোটার মন্দিরের বয়স অন্তত তিনশো তেইশ বছর। বংশানুক্রমে পুজোর দায়িত্বপ্রাপ্ত পুরোহিত জানান, ১৭০২ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচাঁদ। তবে তাঁর মতে, নবরত্ন রীতির এই মন্দির আসলে আরও প্রাচীন। সর্বমঙ্গলা বিগ্রহ আরও প্রাচীন। কষ্টিপাথরের সিংহবাহিনী মহিষাসুরমর্দিনী অষ্টাদশভূজা দেবী দৈর্ঘ্যে বারো ও প্রস্থে আট ইঞ্চি। বিগ্রহকে কেন্দ্র করে অনেক জনশ্রুতি আছে। যেমন- বিগ্রহকে শিলা ভেবে তা দিয়ে স্থানীয়েরা গুগলি ভাঙতেন। পরে তাঁরা জানতে পারেন এই শিলা আসলে দেবী বিগ্রহ। কারও মতে মূর্তিটি হাজার বছরের পুরনো। আবার কারও মতে, দু’হাজার।

Advertisement

শারদোৎসবের চার দিন দেবীর আরাধনা করা হয় ষোড়শ উপাচারে। আগে মহিষ ও পাঁঠা বলির প্রথা থাকলেও তা এখন হয় না। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, দুর্গোৎসবের সময়ে প্রতিদিনই কয়েক হাজার ভক্ত সমাগম হয়। নবমীর দিনে ভোগের বিশেষ চাহিদা থাকে। জানা গিয়েছে প্রথা অনুযায়ী, প্রতিপদে কৃষ্ণসায়র থেকে জল এনে মন্দিরে ঘটস্থাপন করা হয়। দেবীকে পরানো হয় রাজবেশ।

পরিবারের দাবি, এই রাজ বংশের পূর্ব পুরুষ ছিলেন পঞ্জাবী। পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজ্যের নারীদের কূল বধূ হিসাবে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাই রাজবাড়িতে ও পুজোয় দেখা যায় সংস্কৃতির আত্তীকরণ। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পরে রাজপরিবারের উত্তর পুরুষ উদয়চাঁদ ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে গঠন করেছিলেন ট্রাস্টি বোর্ড। সেই বোর্ডই মন্দির পরিচালনা করে। বর্তমানে বোর্ডে রয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরাও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement