অনশনরত দেবু টুডু। —নিজস্ব ছবি।
এসআইআরের নামে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের হয়রানি করা হচ্ছে। এই অভিযোগ তুলে গত রবিবার থেকে অনশনে বসেছেন তৃণমূল নেতা দেবু টুডু। অনশনের সপ্তম দিনে দেবুকে দেখতে আসা এক ‘অনুগামী’ তাঁর মোবাইল চুরি করে পালালেন। শনিবার এ নিয়ে শোরগোল পূর্ব বর্ধমানেরর রাজনৈতিক মহলে। রাজ্য তৃণমূলের এসটি সেলের চেয়ারম্যানের মোবাইলের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।
গত রবিবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসকের দফতরের সামনে নেতাজি মূর্তির পাদদেশে অনশনে বসেন অবিভক্ত বর্ধমানের তৃণমূলের প্রাক্তন সভাধিপতি দেবু। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে জেলার আদিবাসী মানুষদের অকারণে হেনস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রায় ১০ হাজার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। অথচ তাঁদের কাছে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং রেশন কার্ড— সবই আছে। দেবুর দাবি, এসআইআরে আদিবাসীদের কাগজ দেখা চলবে না। এ জন্য আমরণ অনশন শুরু করেছেন তিনি। শনিবার অনশনরত দেবুর অভিযোগ, এক যুবক তাঁর পাশে এসে বসেন। সিধো–কানহোর ছবিতে প্রণাম করেন। তার পর কখন সুযোগ বুঝে তাঁর মোবাইল নিয়ে চম্পট দেয়। তিনি কাটো টি শার্ট পরিহিত যুবককে ছুটে পালাতেও দেখেছেন। কিন্তু ভিড়ের সুযোগে দ্রুত গা-ঢাকা দেন অভিযুক্ত।
দিনেদুপুরে অনশনমঞ্চ থেকে তৃণমূল নেতার মোবাইল চুরি নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, এতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্পষ্ট। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ‘‘প্রকাশ্য দিবালোকে খোদ শাসকদলের নেতার মোবাইল চুরি হয়ে গেল।আসলে সর্ষের মধ্যেই তৃণমূলী ভূত লুকিয়ে। আর পুলিশ তো জেগে জেগে ঘুমোচ্ছে। তৃণমূল নেতাদের যদি এই হাল হয়, তা হলে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা কোথায়, ভাবুন।’’
শনিবার দেবুর স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে একটি মেডিক্যাল টিম গিয়েছিল। তারা নেতার স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। তবে দেবু মঞ্চ থেকে নড়তে নারাজ। এখন মোবাইলের চিন্তায় তিনি।