অনুব্রত মণ্ডলের পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে পুকুর বুজিয়ে নির্মাণ তৈরির অভিযোগ বোলপুর পুরসভায়। —নিজস্ব ছবি।
পুকুর ভরাট করে বেআইনি নির্মাণ তোলার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের দাদার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে শোরগোল হতেই পুরসভার নির্দেশে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়েছে। তবে রাজনৈতিক চাপানউতর অব্যাহত। কারণ, ঘটনাস্থলে মিলেছে পুরসভার জলের গাড়ি। অভিযোগ, পুরসভার ‘সাহায্য’ নিয়েই বেআইনি নির্মাণ হচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বীরভূমের বোলপুর পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালীমোহনপল্লি এলাকায় প্রায় ২ বিঘা জমির উপর একটি পুকুর ভরাট করে বহুতল নির্মাণ (শোনা যাচ্ছে নার্সিংহোম করা হচ্ছিল) তৈরির কাজ শুরু হয়। এমনকি, পুকুর বুজিয়ে নির্মাণ তোলার সময় পুরসভার জলের ট্যাঙ্ক এবং গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ করেছেন, ইতিমধ্যে বাস্তুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
অন্য দিকে, এই নির্মাণকাজে তৃণমূল নেতার পরিবারের সদস্য যুক্ত থাকার অভিযোগে বিতর্ক অন্য মাত্রা পেয়েছে। অনুব্রতের দাদা সুব্রত মণ্ডল অবশ্য এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ওই শোরগোলের মধ্যে শনিবার পুরসভার লোকজন গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। বোলপুর পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার বাপি বীরবংশী বলেন, ‘‘পুরসভার চেয়ারপার্সনের নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। ‘সাইট’ ঘুরে দেখে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নির্মাণের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের কাগজপত্র নিয়ে পুরসভায় হাজির হতে বলা হয়েছে।’’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘জলের গাড়ি (পুরসভার) কারা এনেছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।’’
উল্লেখ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৮৬, পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইন ১৯৫৫, মৎস্য আইন ১৯৮৪ এবং জলাভূমি সংরক্ষণ বিধি-সহ বেশ কিছু আইন অনুযায়ী পুকুর ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ নিয়ে উচ্চ আদালত এবং সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শান্তিনিকেতন-সহ বোলপুরে এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। প্রশাসনিক স্তরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিরোধীদের অভিযোগ, তৃণমূলের ‘প্রভাবশালী নেতা’ অনুব্রতের পরিবার এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রশাসন নীরব ছিল। তাছাড়াও স্থানীয় কাউন্সিলর তাপসী বাউড়ি এবং তৃণমূল নেতা নরেশ বাউড়ি প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত বলে অভিযোগ করেছে তারা। তপন হাজরা নামে ওই এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘এটা পুকুর ছিল। শুনেছি, বুজিয়ে নার্সিংহোম হবে।’’
বীরভূমের সিপিএম জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ অভিযোগ করেন, বোলপুরে পুকুর ভরাট নতুন কিছু নয়। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূলের মদতে জমি মাফিয়ারা এই সব করছে। পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের জায়গা নেই।’’ একই সুর বিজেপি নেতা কাঞ্চন ঘোষের গলায়। তিনি বলেন, ‘‘অনেকদিন ধরে পুকুর বোজানো চলছে। প্রশাসন এত দিন কী করছিল? সুব্রত মণ্ডলের নাম শোনা যাচ্ছে।’’ তৃণমূল কাউন্সিলর তাপসী জানান, তিনি এ বিষয়ে কিচ্ছু জানেন না। তাঁকে কেউ কিছু বলেননি। যা বলার বা করার পুরসভা বলবে বা করবে। পুর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, নথিপত্র যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন তাঁরা।