শল্যচিকিৎসক অসিত চক্রবর্তীকে শো কজ় চিঠি পাঠালেন কর্তৃপক্ষ। —নিজস্ব ছবি।
পুলিশের চিকিৎসা করবেন না। সরকারি চিকিৎসকের এই নির্ঘোষের জেরে তাঁকে শো কজ় করল কোচবিহারের এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসক হিসাবে কেন এমন মন্তব্য করলেন তিনি, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালের কর্তব্যরত কোনও চিকিৎসক সামাজিক, ধর্মীয় বা জাতিগত অবস্থান কিংবা পেশার ভেদাভেদ করে রোগী দেখতে পারেন না।
তাঁর বাড়িতে চুরির কিনারা করতে পারছে না পুলিশ, চুরি যাওয়া ৫লক্ষ টাকা উদ্ধার করা যায়নি, এমনই অভিযোগ তুলেছেন কোচবিহারের সরকারি মেডিক্যাল কলেজের শল্যচিকিৎসক অসিত চক্রবর্তী।
প্রথমে সমাজমাধ্যমে এবং পরে মৌখিক ভাবে ওই ডাক্তারবাবু ঘোষণা করেন, হাসপাতালে গেলে তাঁর কাছে কোনও পুলিশকর্মী পরিষেবা পাবেন না। পুলিশ তাঁর কাজে লাগেনি। তিনিও পুলিশের কারও চিকিৎসা করবেন না। শুক্রবার আনন্দবাজার ডট কম-এ এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে শোরগোল শুরু হয় জেলা স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরে। শনিবার অসিতকে শো কজ় চিঠি পাঠিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিঠি পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এমজেএন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ নির্মল মণ্ডল ওই ডাক্তারবাবুকে শো কজ় নোটিস পাঠিয়ে দিয়েছেন।
শনিবার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি সৌরদীপ রায় বলেন, ‘‘সংবাদ মাধ্যমে ডক্টর চক্রবর্তীর পোস্টে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তিনি কিসের প্রেক্ষিতে এবং কেন এমন পোস্ট করেছেন, আগামী দু’দিনের মধ্যে তার জবাব তলব করা হয়েছে।’’
অন্য দিকে, স্ত্রীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে ওই শল্যচিকিৎসক কলকাতায় ছিলেন। কোচবিহার ফিরেই তিনি জেলা পুলিশ সুপারের দফতরে যান। কিন্তু জেলা পুলিশ সুপার কিংবা অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপারের দেখা পাননি বলে দাবি করেছেন অসিত। শো কজ় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এখনও চিঠি পাইনি। চিঠি এলে উপযুক্ত জবাব দেব।’’ পাশাপাশি তিনি এ-ও জানান, এখনও পর্যন্ত এমন হয়নি যে, চিকিৎসার জন্য তাঁর কাছে যাওয়া কোনও রোগীকে তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন।