(বাঁ দিক থেকে) শমীক ভট্টাচার্য, ভূপেন্দ্র যাদব এবং সুনীল বনসল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাজ্যের ‘পরিবর্তন’কে শুধু ‘কথার কথা’ হিসাবে তুলে ধরা নয়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দে ‘পরিবর্তন’-ই হচ্ছে এবং বিজেপি-ই সরকার গড়ছে— এই ‘আত্মবিশ্বাস’ নিয়ে জনতার মুখোমুখি হন। রাজ্য বিজেপিকে নির্দেশ দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি এবং দুই কেন্দ্রীয় নেতা। ‘পরিবর্তন যাত্রা’ সংক্রান্ত বৈঠকের জন্য সারা রাজ্য থেকে বিজেপির বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারীদের মঙ্গলবার বিধাননগরে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেই বৈঠকের শেষ দিকেই শমীক ভট্টাচার্য, সুনীল বনসল এবং ভূপেন্দ্র যাদব নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন ‘পরিবর্তনের ভাষ্য’ কেমন হতে হবে।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গত কয়েক মাস ধরে দেশের যে কোনও রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সুযোগ পেলেই পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলছেন। প্রত্যেকেই প্রায় একই সুরে দাবি করছেন যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পরাজয় হচ্ছে এবং বিজেপি সরকার গঠন করছে। শুধু প্রকাশ্য জনসভা বা সাংবাদিক বৈঠক নয়, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা তথাকথিত ‘একান্ত’ আলাপচারিতাতেও বার বার ওই দাবিই করছেন।
কেন্দ্রীয় নেতারা যা-ই বলুন, দলের নীচের তলার পদাধিকারী বা সাধারণ কর্মীদের মধ্যে অবশ্য তেমন ‘আত্মবিশ্বাস-এর প্রতিফলন নেই। মঙ্গলবার বিধাননগরে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ সংক্রান্ত বৈঠকে সেই ‘আত্মবিশ্বাস’-ই জাগিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। ওই বৈঠকে প্রতিটি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ডাক পেয়েছিলেন। প্রত্যেক জেলা থেকে আরও চার জন করে প্রতিনিধিকে ডাকা হয়েছিল। আর যাঁরা নেতৃত্বের তরফ থেকে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ আয়োজনের নানা দায়িত্বে থাকবেন, তাঁদেরও ডাকা হয়েছিল। বিজেপির এই ‘যাত্রা’-র রূপরেখা কেমন হতে চলেছে, তা ব্যাখ্যা করার জন্য রাজ্য সভাপতি শমীক তো ছিলেনই। ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক পর্যবেক্ষক বনসল এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির হয়ে নির্বাচন সামলানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ভূপেন্দ্র। তাঁদের তিন জনের মুখে একই ভাষ্য শোনা গিয়েছে।
বৈঠকে শমীক-ই প্রথমে ‘পরিবর্তন ভাষ্য’টি শুনিয়েছিলেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসছে, এ কথা ধরে নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে বলেছিলেন তিনি। শমীকের সেই কথাটি যে ‘কথার কথা’ নয়, তা পরে ভূপেন্দ্র এবং বনসল বুঝিয়ে দেন। তাঁরা বার্তা দেন, শমীক যে কথা বলছিলেন, ওটা যেন সকলে মাথায় রাখেন। বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, দল পশ্চিমবঙ্গে ‘যে কোনও মূল্যে সরকার গঠন করবে’ বলে বনসল মঙ্গলবার মন্তব্য করেছেন। সেই সূত্র ধরেই গোটা রাজ্য থেকে জড়ো হওয়া জেলা স্তরের প্রতিনিধিদের বলেন, ‘‘আপনারা যখন নিজেদের এলাকায় সাধারণ জনতাকে কিছু বলবেন, তখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলুন। কোনও ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’ নয়। সরাসরি বলুন যে, বিজেপি-ই সরকার গঠন করছে এবং আপনাদের অমুক জরুরি কাজটা আমরা সরকারে এসেই করে দেব।’’ কোথাও সেতু তৈরির দরকার থাকলে বা রাস্তা তৈরির দাবি থাকলে, তা বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নির্দ্বিধায় দিয়ে দিতে বলা হয়েছে। সরকার গঠনের কত দিন বা কত মাসের মধ্যে কাজটি করে দেবেন, প্রয়োজনে সেই সময়সীমা উল্লেখ করে কথা বলতে বলা হয়েছে বিজেপি নেতাদের।
বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় নেতারা অনেক দিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের বিষয়ে ‘আত্মবিশ্বাসী’ কথাবার্তা বলছেন। অমিত শাহ হন বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনও নেতা হন বা বিজেপির কোনও সর্বভারতীয় মুখপাত্র, দেশের যে কোনও প্রান্তে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে যখনই তাঁরা কথা বলছেন, সরকার গড়ার বিষয়ে ‘আত্মবিশ্বাস’ ব্যক্ত করছেন। কিন্তু রাজ্যে বিজেপির নেতাকর্মীরা যে এখনও অতটা ‘আত্মবিশ্বাসী’ নন, সে খবরও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে রয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সেই ‘আত্মবিশ্বাস’ রাজ্যের নেতাকর্মীদের মধ্যেও চারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হল বলে অনেকে মনে করছেন।