—প্রতীকী ছবি।
ডিজ়েলের দাম ও বেসরকারি বাস পরিবহণের আর্থিক সঙ্কটের কথা তুলে ধরে রাজ্য সরকারের কাছে ফের বাসভাড়া পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাল সিটি সাবআরবান বাস সার্ভিস। বাস সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা সম্প্রতি রাজ্যের পরিবহণ দফতরের প্রধান সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অগ্নিমূল্যের কারণে দেশের মেট্রো শহরগুলোতে একধাক্কায় প্রায় ৩ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে পেট্রল ও ডিজেলের দাম। সেই দামবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেই, এই বাসভাড়া বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শেষ বার বাসভাড়া সংশোধন করা হয়েছিল ২০১৮ সালে। সেই সময় ডিজ়েলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ৬৮ টাকা। বর্তমানে সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ টাকা ৪ পয়সা প্রতি লিটার। অর্থাৎ জ্বালানির খরচ ৩৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেলেও বাসভাড়ায় কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি বলে দাবি বাস মালিক সংগঠনের। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২০ এবং ২০২১ সালে বাসভাড়া সংশোধনের জন্য দু’টি পৃথক কমিটি গঠন করা হলেও সেই কমিটির রিপোর্ট আজ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এমনকি সেই সুপারিশের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। কলকাতায় লিটারপ্রতি পেট্রলের দাম ৩ টাকা ২৯ পয়সা বেড়ে ১০৮ টাকা ৭৪ পয়সা হয়েছে। কলকাতায় ডিজ়েলের দাম ৩ টাকা ১১ পয়সা বেড়ে ৯৫ টাকা ১৩ পয়সা হয়েছে।
বাসমালিক সংগঠনের দাবি, বর্তমানে গণপরিবহণ ব্যবস্থা গভীর সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ডিজ়েল, যন্ত্রাংশ, বিমা, কর্মচারীদের বেতন এবং অন্যান্য আইনি খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় বাস চালানো কার্যত অলাভজনক হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাস্তাঘাট থেকে বেসরকারি বাস উধাও হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে চিঠিতে। টিটু তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেছেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে খুব কম ভাড়ায় দীর্ঘ দিন পরিষেবা দিয়ে আসছে বেসরকারি বাস। এই পরিষেবার সঙ্গে লক্ষাধিক শ্রমিক ও হাজার হাজার বাসমালিকের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। তাই জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে দ্রুত ভাড়া পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে। পরিবহণ মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘ দিন ভাড়া না বাড়ায় বেসরকারি বাসমালিকদের আর্থিক চাপ ক্রমশ বেড়েছে। তবে বাসভাড়া বৃদ্ধি পেলে সাধারণ যাত্রীদের উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে এই বিষয়ে রাজ্য সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সে দিকেই নজর রয়েছে পরিবহণ মহল ও নিত্যযাত্রীদের।
ঘটনাচক্রে, ৬ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ ছয় মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। এখনও পরিবহণ দফতর নিজের হাতেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৬-২০২০ সাল পর্যন্ত রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনিই। শেষ বার বেসরকারি বাসভাড়া বেড়েছিল সেই সময়েই। তাই বেসরকারি বাস সংগঠনগুলির আশা, শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে হাল ফিরবে বেসরকারি পরিবহণ শিল্পের।